শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৮০তম জন্মবার্ষিকী আজ

0

জিসাফো ডেস্কঃ বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৮০তম জন্মবার্ষিকী আজ। ১৯৩৬ সালের এই দিনে বগুড়া জেলার গাবতলী উপজেলার  বাগমারা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার ডাকনাম কমল। প্রতি বছরের মতো এবারও দিবসটি উপলক্ষে নানা কর্মসূচির আয়োজন করেছে বিএনপি। সকাল ১১টায় শেরেবাংলানগরস্থ জিয়াউর রহমানের মাজারে দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাবেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এছাড়া সারা দেশে বিএনপি নেতাকর্মীরা নানা আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে দিবসটি পালন করবে। স্বাধীনতার ঘোষক, মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার ও জেড ফোর্সের প্রধান হিসেবে জিয়াউর রহমান এদেশের মানুষের কাছে প্রথম পরিচিত হলেও পরে তিনি বাংলাদেশের একজন বরেণ্য রাষ্ট্রনায়কে পরিণত হন। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে রাজনৈতিক ঐকতানে নিয়ে আসা ও সুদৃঢ় অর্থনৈতিক ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর কারণে তিনি আধুনিক বাংলাদেশের স্থপতি হিসেবে আখ্যা পান। তিনি বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের আদর্শের ভিত্তিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) গঠনের মধ্যদিয়ে দেশে উন্নয়ন ও উৎপাদনের রাজনীতির সূচনা করেন। বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের নতুন দর্শন উপস্থাপন করেন জিয়াউর রহমান। তিনি ১৯ দফা কর্মসূচি দিয়ে  দেশে উন্নয়ন ও উৎপাদনের রাজনীতি এগিয়ে নিয়ে যান। তার প্রতিষ্ঠিত বিএনপি দেশের মানুষের প্রিয় দল হিসেবে ’৭৯ সালের দ্বিতীয় সংসদ, ’৯১ সালের পঞ্চম সংসদ ও ষষ্ঠ এবং অষ্টম সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করে। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের অধীনে অনুষ্ঠিত ’৮৬ সালের তৃতীয় ও ’৮৮ সালের চতুর্থ এবং মহাজোট সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত ২০১৪ সালে ১০ম সংসদ নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি। বঙ্গবন্ধুর পক্ষে ৭১ সালে জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা যেমন এ  দেশের মুক্তিকামী মানুষকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে সাহস ও  প্রেরণা জুগিয়েছিল, তেমনি ’৭৫ সালে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব যখন হুমকির মুখে, তখন সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থান হয়। এরই ধারাবাহিকতায় তিনি ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে আসীন হন। তিনি একদলীয় বাকশালের পরিবর্তে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন। পররাষ্ট্রনীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন এনে জিয়াউর রহমান চীনসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন সম্পর্কের সূচনা করেন। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সাতটি দেশকে নিয়ে ‘সার্ক’ গঠনের উদ্যোগ তারই। ওআইসিকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহর সংহতি জোরদার করার জন্য তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। জিয়াউর রহমান প্রতিষ্ঠিত বিএনপি সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে বৃহৎ রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। ১৯৮১ সালে এক সামরিক অভ্যুত্থানে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে মর্মান্তিকভাবে শাহাদাতবরণ করেন। মুক্তিযুদ্ধে সাহসী অবদানের জন্য স্বাধীনতার পর তৎকালীন সরকার তাকে বীরউত্তম খেতাবে ভূষিত করে।

জন্মবার্ষিকীর কর্মসূচি

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দিবসটি উপলক্ষে সকাল ১০টায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে শেরেবাংলানগরস্থ জিয়াউর রহমানের মাজারে পুষ্পার্ঘ অর্পণ করবেন। এছাড়া দেশব্যাপী জেলা, মহানগর, উপজেলা, থানা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে বিএনপি’র উদ্যোগে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল কর্মসূচি পালিত হবে। এদিকে দিবসটি উপলক্ষে সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ফ্রি  মেডিকেল ক্যাম্প ও বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ করা হবে। এতে দেশের বরেণ্য চিকিৎসকরা চিকিৎসা সেবা দেবেন। বেলা সাড়ে ১১টায় ড্যাব আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ওদিকে আজ বিকাল ৩টায় জিয়াউর রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে এক আলোচনা সভার আয়োজন করেছে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন মির্জা আলমগীর।

জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে গানের সিডির মোড়ক উন্মোচন

এদিকে জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে একটি গানের সিডির মোড়ক উন্মোচন করবে জাসাস ঢাকা মহানগর দক্ষিণ। সংগঠনটির সভাপতি আলহাজ জাহাঙ্গীর শিকদারের উদ্যোগে আগামী ২১শে জানুয়ারি বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ওই সিডির মোড়ক উন্মোচন করা হবে। সিডিতে জিয়াউর রহমান ও তারেক রহমানসহ সাম্প্রতিক রাজনীতি নিয়ে ১৩টি গান স্থান পেয়েছে।