শহীদ ডা. মিলন দিবস আজ

0

জিসাফো ডেস্কঃ আজ শুক্রবার শহীদ ডা. মিলন দিবস। ১৯৯০ সালের এই দিনে তৎকালীন সামরিক স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে চূড়ান্ত পর্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক (টিএসসি) কেন্দ্রের কাছে গুলিতে শহীদ হন ডা. শামসুল আলম খান মিলন।

মিলনের রক্তদানের মধ্য দিয়ে কুখ্যাত স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে নতুন গতি সঞ্চারিত হয়। নব্বইয়ের এদিন থেকেই এরশাদের পতন না হওয়া পর্যন্ত রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে সংবাদপত্র ধর্মঘটের ডাক দেয় সাংবাদিক সমাজ। এতে নেতৃত্ব দেন অবিভক্ত বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে), ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) এবং জাতীয় প্রেস ক্লাবের নেতৃবৃন্দ।

স্বৈরশাসন বিরোধী গণআন্দোলনের মধ্যেই সংবাদপত্রের ধর্মঘটের ফলে বহু ছাত্র-শ্রমিকের রক্তে হাত ভেজানো এরশাদ ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর পদত্যাগে বাধ্য হয়। পরের বছর থেকে স্বৈরাচার বিরোধী ও গণতান্ত্রিক সংগঠনসমূহ ২৭ নভেম্বর দিনটিকে শহীদ ডা. মিলন দিবস হিসেবে পালন করে আসছে।

এবার এমন এক সময়ে নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী গণআন্দোলনে প্রাণদানকারী ডা. মিলনের ২৫তম শাহাদাৎবার্ষিকী পালিত হচ্ছে যখন বাংলাদেশ তার রাজনৈতিক অস্তিত্বের সন্ধিক্ষণ পার করছে। ২০১৪ সালের প্রশ্নবিদ্ধ একপক্ষীয় নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সরকার ক্ষমতায়। দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের কোনো বালাই নাই। বরং কুখ্যাত এরশাদকে সঙ্গী করে সরকার এমন জাতীয় পরিস্থিতি তৈরি করে যে দেশে অবাধে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব বিরোধী তৎপরতা চালাচ্ছে সাম্রাজ্যবাদী-সম্প্রসারণাবাদী-আধিপত্যবাদী নানা শক্তি।

শহীদ মিলন দিবস উপলক্ষে তার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বুধবার প্রেসিডেন্ট মো. আব্দুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া পৃথক পৃথক বাণী দিয়েছেন।

ডা. মিলনের ২৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে ব্যাপক কর্মসূচি নিয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ছাত্র সংগঠন। সকাল ৮টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ চত্বরে ডা. শামসুল আলম খান মিলনের সমাধিতে ফাতেহা পাঠ, বিশেষ মোনাজাত ও শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করবেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের জন্য দলের সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম নেতাকর্মীসহ সব শ্রেণী-পেশার মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

বিএনপির পক্ষ থেকেও দলের নেতারা ঢাকা মেডিকেল কলেজ চত্বরে শহীদ ডা. মিলনের মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন।

শহীদ ডা. মিলন দিবস উপলক্ষে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া এক বাণীতে বলেছেন, সব কর্তৃত্ববাদী, স্বৈরাচারী গণতন্ত্রবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রামে ডা. মিলন আমাদের প্রেরণার উৎস। দেশে গণতন্ত্র আবারো গভীর খাদের কিনারে গিয়ে একদলীয় কর্তৃত্ববাদী শাসনের কবলে পড়েছে। এই রাজনৈতিক সংকটে জনগণের ক্ষমতায়নকে এগিয়ে নেয়ার লক্ষ্যে দেশে জনগণের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই। এজন্য তিনি দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

এ ছাড়া জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ), বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক-সামাজিক সংগঠন ঢাকা মেডিকেল কলেজে মিলনের কবরস্থানে এবং টিএসসিতে মিলনের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবে। মূল রাজনৈতিক দল ছাড়াও ছাত্রলীগ, যুবলীগ, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সব পর্যায়ের নেতাকর্মী বিভিন্ন আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করবে।

দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশ স্বাধীনতা চিকিসক পরিষদ (স্বাচিপ) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডা. মিলনের কবরে পাশে আজ সকাল ১০টায় এক আলোচনা সভার আয়োজন করেছে। সভায় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এবং স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম প্রধান অতিথি থাকবেন। শহীদ ডা. মিলন স্মৃতি সংসদও দিবসটি উপলক্ষে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।