শহীদ জিয়া থেকে তারেক জিয়া:প্রজন্মের সফল কান্ডারী

0

জিয়াউর রহমানকে আমরা ভালোবাসি। তার ক্রম উত্তরসুরী তারেক রহমান। ভালোবাসি তারেক রহমানকে। তার রাজনৈতিক পদচারনা শুরু ব্যাপক সাড়া ফেলেছে রাজনৈতিক জটিল অঙ্গনে। রাজনীতি করা সহজ। দলকে ক্ষমতায় নেয় পথ বড় দূর্গম, দূলংঘ। দূর্গম সে পথে দীপ্ত পদক্ষেপে এগিয়ে চলছে দল, এগিয়ে চলছে তারেক রহমান। দেশকে আওয়ামী জাহেলিয়াতের কারাগার থেকে উদ্ধার করার আন্দোলনে, তারেক রহমানকে দেশের রাষ্ট্রনায়ক বানানোর আন্দোলনে আমরা সকল জাতীয়তাবাদীরা সচেষ্ট ছিলাম, আছি, থাকবো এবং ইনশাল্লাহ। মহান আল্লাহর উপর আস্থা, বিশ্বাস ও ভরসা রেখে আশা রাখি আমাদের চেষ্টা সফল হবেই।

দলের র্দূদিনে কারন গুলো খুজতে গিয়ে মাঝে মাঝে আমরা তারেক রহমানের সমালোচনা করি তৃতীয়পক্ষের করা দোষের কারনে।  তারেক রহমান কখনো শেখ কামালের মতো ব্যাংক লুট করতে যায়নি। যায়নি আমেরিকায় প্রবাসী নব্য লুটেরার প্রধানমন্ত্রী তনয়ের মত শেয়ার বাজার লুট করে জনগনকে সর্বশান্ত করতে, বা ভিওআইপির কালো ব্যবসা করতে। তারেক রহমানের পিতা প্রেসিডেন্ট ছিলেন না বা মা প্রধানমন্ত্রীও ছিলেন না, সেই সময নিজ চেষ্টায় মাথার ঘাম পায়ে ফেলে তিল তিল করে ব্যাংক ঋন নিয়ে গড়ে তুলেছে রহমান নেভিগেশন, ডান্ডি ডায়িং সহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গুলো।

ব্যক্তি তারেক রহমান শুধুমাত্র একজন ব্যক্তি মাত্র। রাজনৈতিক তারেক রহমান একটি প্রতিষ্ঠান। অতীত সময়ে তারেক রহমানের পাশে ভালো আমলা বা উপদেষ্টা ছিলনা। তারা ব্যস্ত ছিল খালেদা জিয়ার পাশে থেকে দেশ পরিচালনার কাজে। তারেক রহমান তার দলীয় কর্মকান্ডে ব্যস্ত ছিল। দলের নামে অনেকে আসা যাওয়া করে পার্টি অফিসে। যা সব দলের বেলায় হয়। দলীয় অফিসে আসা যাওয়ার সুবাদে কে কে নাম ভাঙ্গাচ্ছে তার হিসাব রাখায় ব্যস্ত থাকলে তারেক রহমানের রাজনীতি করার সময় লাটে উঠতো। চিহ্নিত কিছু পত্রিকা সহ সাংবাদিক নামক কিছু পক্ষপাতদুষ্ট রাষ্ট্রের শত্রু তথা পার্শবর্তী দেশে পেইড এজেন্টরা ইচ্ছামতো গাজাখুরি নিউজ বানিয়ে ঘোলাটে পরিস্থিতির সৃষ্টি করার চেষ্টা করেছিল। আজো তারা তৎপর আছে।

পার্টি অফিসে গিয়ে-নাগিয়ে কিছু তস্কর পার্টি অফিসের নাম ভাঙ্গিয়ে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হতে পারে। অপরাধীদের সব অপরাধ প্রতিরোধ করা তারেক রহমান কেন, কারো পক্ষে সম্ভব নয়। ব্যস্ত তারেক রহমান একজন মানুষ, সেও ভূল ত্রুটি উর্ধে নয়। জাতীয়তাবাদী ঝানু আমলাগন, নিভৃতচারী ব্যক্তিগন ব্যস্ত ছিল রাষ্ট্রের কাজে। ফলে তারেক রহমানের পাশে ঝানু উপদেষ্টা পরিষদ না থাকার কারনে তারেক রহমান একা একা অনেক বিষয়ে পর্যাপ্ত নজরদারী করতে পারেনি।

কঠিন অতীত তারেককে করেছে অনেক সমৃদ্ধ, দিয়েছে এগিয়ে চলার নতুন প্রেরনা। তারেক রহমান ফিরে আসবে সমৃদ্ধ আরেক নতুন তারেক রহমান বেশে। ফিরে আসবে জিয়ার আদর্শকে বাস্তবায়নের অঙ্গীকার নিয়ে। তারেক রহমানকে পরিচালনা করবে তারা, যারা রাস্তায় দাড়িয়ে জিন্দবাদ জিন্দাবাদ শ্লোগান দেয় না। স্লোগান দেয়া, নেতা হওয়া তুলনামূলক ভাবে সহজ কাজ। দেশ চালায় আমলারা। রাষ্ট্র পরিচালনা, জনগনের উন্নয়ন, ন্যায় প্রতিষ্ঠা, দলকে রাষ্ট্র ক্ষমতায় নেয়া, অপর দলকে প্রতিহত করা, ভোট ডাকাতি, দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্র প্রতিহত করা, নানাবিধ উত্থান পতন সহ রাষ্ট্র পরিচালনার হাজার হাজার প্রকাশ্য গোপন ফ্যক্টরের কাজ করতে হয় রাজনৈতিক প্রশাসনকে তথা গুটি কয়েক রাজনৈতিক আমলাদেরকে। অধিকাংশ বিষয়গুলোই অনেক অনেক জটিল ও নিভৃত সুক্ষ পরিকল্পনার কাজ।

সাচ্চা জাতিয়তাবাদী ও ইসলামী ধারার আমলা গোষ্ঠী তারেক রহমানের পাশে কঠিন ভাবে দাড়াবে, ইনশাল্লাহ। কর্মী রাজনীতি আর নিরবে নিভৃতে কাজ করে যাওয়া চৌকষ আমলা রাজনীতির কাজ ভিন্ন ভিন্ন। উদাহরন হিসাবে বলা যায়, ১ টা গুলিভরা মেশিনগানধারীর হাত যেমন একদল পাবলিকের শত হাতের চেয়েও শক্তিশালী। তেমনী জাতিয়তাবাদী কর্মী সার্পোটারদের তুলনায় জাতিয়তাবাদী আমলাদের কর্ম দলের জন্য অনেক অনেক গুরুত্বর্পূন ও শক্তিশালী। হাজার মানুষের কায়িক পরিশ্রম যেখানে ব্যর্থ সেখানে সফল একজন চৌকষ গুরুত্বপূর্ন ব্যক্তির কিছু বুদ্ধিদীপ্ত কর্মকান্ড। সুতরাং কর্মীর কাজ কর্মীর যায়গায়, আর আমলার কাজ আমলার যায়গায়। আগামী দিনে তারেক রহমানের পাশে থাকবে ইসলামী ভাবধারা ও জাতীয়তাবাদী আমলারা যারা দেশ ও দলকে পৌছে দিবে সাফল্যের স্বর্ণ শিখরে।

পৃথিবীর সেই রাষ্ট্রনায়কের শাসনামল ভাল ভাবে টিকে থাকে যে সফল হয় তার চারপাশে রাজনৈতিক বা রাষ্ট্রীয় কর্মে চৌকষ প্রশাসন, (শুধু সার্টিফিকেট ধারী মেধাবী নয়) চরম কৌশুলী প্রশাসন গোছাতে পারে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে একজন ওবামা দেশ চালায় না। দেশ চালায় ওবামা সহ তাকে ঘিরে গড়ে ওঠা ওবামা প্রশাসন। আমাদের মহান প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানও চৌকষ ব্যক্তি খুজে বের করে সমৃদ্ধ করেছিলেন তার প্রশাসনকে। আগামী দিনে তারেক রহমানের পাশে থাকবে নিভৃতে কাজ করা দলীয় আমলাতন্ত্র যারা শুধুমাত্র দলকে ভালবাসার কারনে সরকারী গুরুত্বপূর্ন পদে থেকেও নিগৃহীত হয়েছে, চাকুরীতে সাইজ হয়েছে, ডাম্প পোষ্টিংয়ে পরেছে, মাথায় ভুতুরে মামলা, সরকারের সাজানো সাক্ষী দিয়ে দেয়া সাজা নিয়ে পলাতক আছে। তাদের অপরাধ তারা জাতীয়তাবাদী। তারা জীবন জীবিকা ও পরিবারের ঝুকির কথা জেনেও অংশগ্রহন করে রাজনৈতিক ক্ষমতায় আরোহন করানের ঝুকিপূর্ন খেলায়।

আগামী দিনের তারেক রহমানও হবেন চৌকষ রাজনৈতিক প্রশাসন সমন্বয়ে এক সমন্বিত সফল প্রতিষ্ঠান, আদর্শ রাষ্ট্রনায়ক। তারেক রহমান ফিরে আসবে নতুন তারেক রহমান হয়ে। যার চারপাশে ঘিরে থাকবে রাষ্ট্রপরিচালনার বেষ্ট আইকনরা।

বাকশালী নিকৃষ্ট শাসনে, নিপিড়নে ইসলাম, জনজীবন, দেশের সার্বভৌমত্ব আজ বিপন্ন। কালো রাতের মাঝ প্রহর পেরিয়ে যাচ্ছে তার সাথে সাথে গোটা বাংলাদেশ প্রতিটা দিন গুনছে নতুন দিনের আশায়। কালো রাতের প্রহর শেষে অবশ্যই আসবে নতুন ভোর, আসবে সোনালী সূর্যোদয়। ফিরে আসবে নতুন তারেক রহমান। সেই নবপ্রভাতের নতুন আলো দেখার জন্য অধীর আগ্রহে সারা দেশবাসী।