শরণার্থীদের জন্য তিন বিলিয়ন ইউরো জার্মানির

0

সিরিয়া থেকে আসা রেকর্ডসংখ্যক শরণার্থীকে জায়গা দিতে তিন বিলিয়ন ইউরোর বাড়তি তহবিল ছাড়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জার্মান সরকার।
চ্যান্সেলর আঙ্গেলা মের্কেল তার কোয়ালিশন সরকারের মন্ত্রীদের নিয়ে সোমবার দীর্ঘ বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্তে পৌঁছান বলে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়।
এতে বলা হয়, জার্মানির রাজ্য সরকার ও নগর কর্তৃপক্ষগুলো যাতে শরণার্থীদের আশ্রয় দেয়ার ব্যবস্থা নিতে পারে, সে জন্য ওই অর্থ ছাড় করা হবে। এ ছাড়া আশ্রয়ের আবেদন নিষ্পত্তি ও শরণার্থীদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের কাজও দ্রুত এগিয়ে নেয়া হবে।
জার্মানির সীমান্ত শরণার্থীদের জন্য খুলে দিয়ে মের্কেল বিভিন্ন মহলের প্রশংসা পেলেও নিজের দেশেই তাকে এ নিয়ে সমালোচনায় পড়তে হচ্ছে। মের্কেলের এই সিদ্ধান্ত ভয়ংকর এক নজির তৈরি করেছে বলে রক্ষণশীলদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শুক্রবার অস্ট্রিয়া ও হাঙ্গেরির সঙ্গে আলোচনা করে জার্মানির সীমান্ত খুলে দেয়ার পর গত শনিবার থেকে ১৮ হাজার শরণার্থী ইউরোপের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির এই দেশে পৌঁছেছে।

এদিকে জার্মানির সঙ্গে আলোচনা করে জরুরি ব্যবস্থা হিসেবে অস্ট্রিয়া অভিবাসনের কড়াকড়ি শিথিল করলেও দ্রুত এর সমাপ্তি চেয়েছেন দেশটির চ্যান্সেলর ভার্নার ফেইমান। তিনি বলেছেন, “এটি একটি জরুরি পরিস্থিতি। এ পরিস্থিতিতে মানবিক কারণে জরুরি ভিত্তিতে কাজ করা দরকার ছিল।… এখন আমরা ধাপে ধাপে জরুরি ব্যবস্থা থেকে স্বাভাবিক ব্যবস্থায় ফিরে যাব। আইন নিশ্চিত করতে ও আইনের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই এটি করা হবে।”

এ বছর মোট আট লাখ শরণার্থী ও অভিবাসীকে জায়গা দেয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে জার্মানি বলেছে, ইউরোপের অন্যান্য দেশও এই মানবিক সংকট থেকে উত্তরণে পদক্ষেপ নেবে বলে তারা আশা করে।

এখন পর্যন্ত জার্মানির বিভিন্ন রেলস্টেশনে হাসিমুখেই শরণার্থীদের স্বাগত জানাচ্ছেন স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীরা। রোববার জার্মান ও অস্ট্রীয় স্বেচ্ছাসেবীদের একটি দল গাড়ি নিয়ে হাঙ্গেরি সীমান্ত পর্যন্ত যান এবং সেখানে অবস্থানরত শরণার্থীদের মধ্যে খাবার বিতরণ করেন। তারা সেখান থেকে অনেককে সঙ্গে করে নিজেদের দেশে নিয়ে যান।

শরণার্থীদের এই স্রোত হাঙ্গেরি পৌঁছানোর আগে গ্রিস, মেসিডোনিয়া ও সার্বিয়া পার হয়ে এসেছে, যাদের মধ্যে অধিকাংশই সিরীয় উদ্বাস্তু। এ ছাড়া এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের ভাগ্যান্বেষীরাও আছেন তাদের মধ্যে।