শফিক রেহমানের জন্য ব্রিটিশ প্রতিমন্ত্রীর চিঠি

0

কে.এম সাদ্দামঃ সাংবাদিক শফিক রেহমানের জন্য কনস্যুলার সুবিধা চেয়েছে যুক্তরাজ্য। এ বিষয়ে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুগো শোয়্যারে একটি চিঠি দিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর কাছে ‘মানবিক কারণে বিশেষ বিবেচনায়’ কনস্যুলার সুবিধা দেয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন। ঢাকা ও লন্ডনের একাধিক সূত্র মঙ্গলবার একথা নিশ্চিত করেছে। বিদেশী নাগরিক গ্রেফতার হলে নিজ দেশের দূতাবাসের পক্ষ থেকে ওই নাগরিকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাকে প্রয়োজনে আইনিসহ অন্য যে কোনো প্রকার সহায়তা দেয়া হয়ে থাকে। এটাই হল কনস্যুলার সুবিধা। তবে শফিক রেহমান দ্বৈত নাগরিক হওয়ায় তার জন্য কনস্যুলার সুবিধা দেয়াটা বাংলাদেশের জন্য বাধ্যতামূলক নয়। কনস্যুলার সুবিধা পেলে ঢাকায় ব্রিটিশ কর্মকর্তারা শফিক রেহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে পুরো বিষয়টি বোঝার চেষ্টা করবেন এবং তার আলোকে তাকে সহায়তা দেবেন। লন্ডনে হুগো শোয়্যারের একটি ঘনিষ্ঠ সূত্র শফিক রেহমানের জন্য কনস্যুলার সুবিধা চেয়ে চিঠি দেয়ার কথা নিশ্চিত করেছে। ওই সূত্রটি জানায়, ব্রিটিশ হাইকমিশনার অ্যালিসন ব্লেইক মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালরে গিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে শফিক রেহমানের জন্য কনস্যুলার সুবিধা দেয়ার বিষয়টি উত্থাপন করেন অ্যালিসন ব্লেইক। বাংলাদেশ সরকারের তরফ থেকে বলা হচ্ছে, দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকলে কনস্যুলার সুবিধা দেয়ার কোনো বিধান নেই। ব্রিটিশ কর্মকর্তারা এ বিধানের বিষয়টি জানেন। তবে যুক্তরাজ্যের তরফ থেকে মানবিক বিষয় হওয়ায় বিশেষ বিবেচনায় এ বিষয়টি দেখার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। শফিক রেহমানের পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে যে, ৮১ বছর বয়সী শফিক রেহমান বর্তমানে অসুস্থ। এ অবস্থায় একজন ব্রিটিশ নাগরিক হওয়ায় শফিক রেহমানের কল্যাণের জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে ব্রিটিশ সরকারের সহায়তা চাওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়কে হত্যার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকার অভিযোগে ১৬ এপ্রিল শফিক রেহমানকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ। বিএনপির আন্তর্জাতিকবিষয়ক কমিটির সদস্য ও জি-৯ নামের একটি থিংক ট্যাংকের প্রধান এ বিশিষ্ট সাংবাদিক দৈনিক যায়যায়দিন পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। এ ছাড়াও মৌচাকে ঢিল নামের একটি সাময়িকীর সম্পাদনার দায়িত্বও পালন করেন তিনি। পুলিশ বলছে, প্রধানমন্ত্রীর পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়কে হত্যার ষড়যন্ত্রটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে হয়েছে। ওই ষড়যন্ত্রে শফিক রেহমানের জড়িত থাকার প্রমাণ তাদের হাতে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সজীব ওয়াজেদকে হত্যার ষড়যন্ত্র সংক্রান্ত মামলার নথিপত্র বাংলাদেশ সরকার চেয়েছে। তার পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র এ মামলার প্রয়োজনীয় তথ্য বাংলাদেশ সরকারের কাছে শেয়ার করেছে।