বিদুৎ‌ এর দাম বৃ‌দ্ধি লুটপা‌টের সু‌যোগ ক‌রে দি‌য়েছে -বিএন‌পি

0

জিসাফো ডেস্কঃ ক্ষমতাসীন দ‌লের শীর্ষ‌নেতা ও তা‌দের আত্মীয়-স্বজন‌দের আরও ‌বেশি লুটপা‌টের সু‌যোগ ক‌রে দি‌তেই বিদুৎ‌ এর দাম বৃ‌দ্ধি করা হ‌য়ে‌ছে ব‌লে অভিযোগ ক‌রে‌ছে বিএন‌পি।

বৃহস্প‌তিবার (২৩ নভেম্বর) বি‌কে‌লে নয়াপল্ট‌নে এক সংবাদ স‌ম্মেল‌নে দলের পক্ষ থেকে এ অভিযোগ করেন দল‌টির সি‌নিয়র যুগ্ম মহাস‌চিব রুহুল ক‌বির রিজভী।

তিনি ব‌লেন,‌ ‘বিশ্ববাজারে জ্বালানি তে‌লে দাম কমায় বাংলা‌দে‌শে বিদুৎ উৎপাদন খরচ কমার কথা। কিন্তু ‌বিদুৎ এর দাম না ক‌মি‌য়ে উল্টো বাড়া‌নো সরকারের নজিরবিহীন ও গণ‌বি‌রোধী সিদ্ধান্ত।’

বৃহস্পতিবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন- বিইআরসি আবারও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেয়।

বর্তমান সরকার একের পর এক জনবিরোধী কার্যকলাপ অব্যাহত রেখেছে মন্তব্য ক‌রে রিজভী ব‌লেন, ‘আসলে জনগণের প্রতি ভোটারবিহীন সরকারের দায়বদ্ধতা নেই বলেই জনগণকে নিষ্পেষণ ও অপমান করতে এই দাম বৃদ্ধি।’

তিনি বলেন, ‘বিশ্ব বাজারে তেলের দাম কমলেও জনগণের রক্ত চুষে খেতে আবারও বাড়ানো হয়েছে বিদ্যুতের দাম, যা আগামী মাস থেকেই কার্যকর হবে।’

রুহুল ক‌বির ব‌লেন, ‘‌বিদুৎ এর দাম বাড়া‌নো শুধু অযৌক্তিক ও গণবিরোধী নয় ভোটারবিহীন সরকারের লুটপাট নীতির বহিঃপ্রকাশ। বার বার গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে গরিবের রক্ত পান করাটাই যেন তাদের মুখ্য উদ্দেশ্য। অর্থাৎ শুধুমাত্র লুটপাটের জন্যই গরিবের সর্বশেষ সম্বলটুকু আত্মসাৎ করে সরকার আবারও বিদ্যুতের দাম বাড়ালো।’

‌তি‌নি ব‌লেন, ‘এমনিতে সরকারের লুটপাট আর ভয়াবহ দুঃশাসনে দেশে কোনও বিনিয়োগ নেই। এমন সময় বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি করা মানেই বিনিয়োগকারীদের নিরুৎসাহিত করা। এতে গোটা অর্থনীতি হুমকির মুখে পড়বে।’

বিএন‌পির এ নেতা ব‌লেন, ‘বিদ্যুতের দাম বাড়া‌নো মূল কারণ হচ্ছে কুইক রেন্টাল প্রকল্পের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন। এসব প্রকল্পের পেছনে জড়িত ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ নেতাদের আত্মীয়-স্বজন। এদের লুটপাটের আরও বেশি সুযোগ করে দিতেই বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে। বিদ্যুৎ-জ্বালানি এখন লুটের খাত।’

তিনি বলেন, ‘আমি বিএনপি’র পক্ষ থেকে আরেকবার বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির ঘোষণায় তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও ধিক্কার জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে এই গণবিরোধী সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের জোর দাবি করছি।’

সংবাদ স‌ম্মেল‌নে বিএন‌পির কেন্দ্রীয় নেতা‌ আব্দুস সালাম, সৈয়দ মোয়া‌জ্জেম হোসেন আলাল, হা‌বিবুল ইসলাম হা‌বিব, কাজী আবুল বাশার ও মীর সরফত আলী সপু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।