লক্ষ্মীপুরে আওয়ামী লীগ নেতাকে গুলি করে হত্যা

0

লক্ষ্মীপুর: চন্দ্রগঞ্জে আওয়ামী লীগ নেতা ও সন্ত্রাস প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ওমর ফারুককে (৪০) গুলি করে হত্যা করেছে মুখোশধারী সন্ত্রাসীরা। মঙ্গলবার সকাল ১১ টার দিকে স্থানীয় একটি দোকানে বসে চা পান করার সময় তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

ওমর ফারুক চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি বলে জানিয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি নিজাম উদ্দিন। ফারুক পশ্চিম লতিফপুর গ্রামের মৃত আবদুল মান্নানের ছেলে। খবর পেয়ে পুলিশ দুপুরে লাশ উদ্ধার করেছে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকাল ১১টার দিকে ওমর ফারুক বাড়ি থেকে বের হয়ে স্থানীয় মোস্তফার দোকানে বসে চা পান করছিলেন। এ সময় ৫-৬ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী মুখোশপরা অবস্থায় সিএনজি চালিত অটোরিকশাযোগে এসে ফারুককে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি করতে থাকে। একপর্যায়ে গুরুতর আহত হয়ে তিনি দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে সন্ত্রাসীরা পুনরায় তার ওপর হামলা চালিয়ে গুলি করে মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যায়। এ সময় সন্ত্রাসীদের ভয়ে দোকানসহ পাশের লোকজন আর্তরক্ষাথে সটকে পড়ে।

নিহতের ভাই মো. স্বপন অভিযোগ করে বলেন, ‘চন্দ্রগঞ্জের শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান বাহিনীর পলাতক সন্ত্রাসীরা তার ভাই ফারুককে হত্যা করেছে।  এর আগেও তাকে হত্যা করার জন্য সন্ত্রাসীরা একাধিকবার চেষ্টা করে।’

এলাকাবাসী জানায়, চন্দ্রগঞ্জ থানা চালু হওয়ার পর পুলিশ প্রশাসন ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা মিলে সন্ত্রাস প্রতিরোধ সম্প্রতি গঠন করে। এতে ফারুকে সভাপতি হিসেবে মনোনীত করে। সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার ফারুক বিভিন্ন সভা/ সেমিনারে সন্ত্রাস ও নাশকতা বিরোধী বক্তব্য দেন। এ কারণে সম্প্রতি জিসান বাহিনী তার ওপর হামলা চালিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে জেলা পুলিশ সুপার শাহ মিজান শাফিউর রহমান ফারুক হোসেনকে চিকিৎসার জন্য ৫০ হাজার টাকা সহযোগিতা করেন।

চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তদন্ত মো. আরজুন জানান, একদল মুখোশধারী সন্ত্রাসী গুলি করে ফারুককে হত্যা করেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের খুঁজে বের করার জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। লাশ উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে সহকারী পুলিশ সুপার মো. নাছিম মিয়া জানান, সন্ত্রাসীদের গুলিতে ফারুক নিহত হয়েছে। সেই চন্দ্রগঞ্জ সন্ত্রাস প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ছিলেন। এ ব্যাপারে তদন্ত চলছে হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।