রোহিঙ্গা মুসলিমদের সমর্থন করায় ভারতে বিজেপি নেত্রী বরখাস্ত

0

জিসাফো ডেস্কঃ সেনা অভিযানের মুখে মিয়ানমারের রাখাইন থেকে কয়েক লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী আশ্রয় নিয়েছে বাংলাদেশে। এর মধ্যে পাশ্ববর্তী দেশ ভারতেও ঢুকে গেছে বেশ কিছু রোহিঙ্গা। তবে উপমহাদেশীয় তথা আঞ্চলিক রাজনীতির কৌশলগত কারণে ভারত এখনও রোহিঙ্গাদের পক্ষে সরাসরি কোনও বক্তব্য দিচ্ছে না।

আর সে কাজটি করেই এবার ক্ষমতাসীন বিজেপির রোষানলে পড়লেন আসামের মুসলিম সংখ্যালঘু এক নারীনেত্রী। তিনি রোহিঙ্গাদের পক্ষে সমর্থন জানিয়ে বক্তব্য দিয়েছিলেন। ওই নারীনেত্রীর নাম বেনেজির আরফান। তিনি আসামে তিন-তালাক বিরোধী আন্দোলনে বিজেপির মুখপাত্র ছিলেন। বিজেপির আসাম ইউনিট তাদের নির্বাহী কমিটি থেকে ওই নেত্রীকে বরখাস্ত করেছে। খবর: এনডিটিভি।

চলমান রোহিঙ্গা ইস্যুতে সম্প্রতি এক ফেসবুক পোস্টে রাখাইনের রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার সরকারের নিপীনের প্রতিবাদে গেল শনিবার আয়োজিত এক ভুখা সমাবেশে যোগ দিতে অনুরোধ জানানোর পর বিজেপির পক্ষ থেকে বেনেজিরের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হলো।

তিনি পোস্টে যে প্রতিবাদ কর্মসূচি শেয়ার করেছিলেন তার আয়োজক ছিল গুয়াহাটিভিত্তিক এনজিও ইউনাইটেড মাইনরিটি পিপলস ফোরাম।

বৃহস্পতিবার বিজেপির আসাম ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক দিলিপ সাইকিয়া এক চিঠিতে বেনেজিরকে দল থেকে বরখাস্ত করার পাশাপাশি কেন সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না তার কারণ দর্শাতে তিন দিনের সময় দেন। উত্তরে যদিও বিষয়টি নিয়ে ক্ষমা চান বেনেজির। কিন্তু তাতে কান দেয়নি বিজেপি।

ক্ষমা চাওয়ার পর ওই নেত্রী দেশটির শীর্ষ গণমাধ্যম এনডিটিভিকে বলেন, ‘ব্যক্তিগত অবস্থান থেকে রোহিঙ্গাদের ওপর চলমান নিপীড়ন আমি সমর্থন করি না। আর সেটি আমি ফেসবুকে শেয়ার করেছি। যেটি আমাদের পার্টিপ্রধান রনজিৎ দাস পছন্দ করেন।’

তাকে কোনও কিছু জিজ্ঞেস না করে কিংবা কারণ দর্শানোর নোটিশ ছাড়াই বরখাস্ত করা হয়েছে বলে এনডিটিভিকে জানিয়েছেন বেনজির।

ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, বেনেজির নিজেও তিন তালাকের শিকার। ২০১২ সালে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন। সর্বশেষ বিধানসভা নির্বাচনে তিনি বিজেপির টিকেটে প্রতিদ্বন্দ্বিতাও করেছিলেন।

উল্লেখ্য, সেনা অভিযানের মুখে নির্যাতন-নিপীড়ন-হামলা-ধর্ষণ ও গণহত্যার শিকার রোহিঙ্গারা জীবন বাঁচাতে সাগর পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা। মানবিক দিক বিচারে বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গাদের যথাসাধ্য সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। ত্রাণ পাঠানো হচ্ছে বিভিন্ন দেশ থেকে। রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় ও মানবাধিকার মহল থেকে।

ইতোমধ্যে প্রায় ৪০ হাজার রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে ভারতে। যদিও এসব শরণার্থীকে ‘অবৈধ’ ঘোষণা করে তাদের ফেরত পাঠানোর নির্দেশ জারি করেছে ভারত সরকার।