রোহিঙ্গা মুসলিমদের রক্ত ভেজা মাটি মিয়ানমার থেকে চাল কিনছে বাংলাদেশ

0

জিসাফো ডেস্কঃ দেশের খাদ্য খাটতি মেটাতে রোহিঙ্গা মুসলিমদের রক্ত ভেজা মাটি মিয়ানমার থেকে চাল কিনছে বাংলাদেশ, ১ লাখ টন আতপ চাল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। যেখানে প্রতি টন চালের দাম পড়বে প্রায় ৪৪২ ডলার।

সোমবার (১৮ সেপ্টেম্বর) খাদ্য মন্ত্রণালয়ে মিয়ানমারের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ কায়কোবাদ। মিয়ানমারের পক্ষে ছিলেন রাইস ফেডারেশনের কর্মকর্তারা।

বৈঠক শেষে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র ব্রেকিংনিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সূত্রের ভাষ্য, বিভিন্ন ধাপে আগামী তিন মাসের মধ্যে ওই ১ লাখ টন চাল বাংলাদেশে পাঠাবে মিয়ানমার। তবে এ বিষয়ে চুক্তি হতে আরও ১৫ থেকে ২০ দিন সময় লাগবে। দুই দেশের ক্রয়সংক্রান্ত কমিটি চাল ক্রয়ের এই সমঝোতার বিষয়টি অনুমোদন করার পরই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক চুক্তি হবে।

এদিকে চাল আমদানির ব্যাপারে গণমাধ্যমকে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেছেন, ‘মিয়ানমার থেকে আমরা ১ লাখ টন চাল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। গতকাল রবিবার থেকে খোলা বাজারে চাল বিক্রি (ওএমএস) শুরু হয়েছে। চালের এ সমস্যা নিয়ে আগামীকাল দুপুরে মিলমালিক, আমদানিকারক, চাল ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সভা করা হবে।’

এসময় কুষ্টিয়া, বগুড়াসহ বিভিন্ন মিলে অভিযান চালানোর ফলে চালের দাম কিছুটা নিম্নমুখী হয়েছে বলে দাবি করেন মন্ত্রী।

খ্যাদ্য অধিদফতর সূত্র জানিয়েছে, মিয়ানমার সেদ্ধ চালের বাজারমূল্য বেশি চাওয়ায় আতপ চাল কেনার ব্যাপারে রাজি হয় বাংলাদেশ।

প্রথম দফায় আগামী এক মাসের মধ্য ৩০ হাজার টন চাল বাংলাদেশে পৌঁছাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন খাদ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক (ডিজি) বদরুল হাসান।

এর আগে ৭ সেপ্টেম্বর খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলামের নেতৃত্ব একটি প্রতিনিধিদল মিয়ানমার যায়। ৮ সেপ্টেম্বর তিন লাখ টন চাল আমদানির ব্যাপারে সমঝোতা স্মারক সই হয়। এরই ধারাবাহিকতায় মিয়ানমার থেকে ১ লাখ টন চাল কেনার সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে বাংলাদেশ।

উল্লেখ্য, হাওরডুবির ঘটনায় সরকারকে বাড়তি খাদ্য সরবরাহ করতে হচ্ছে। ফলে বাইরের দেশ থেকে চাল আমদানি করছে সরকার। সারা দেশে বন্যা ও হাওর তলিয়ে ফসলহানির পর দেশের খাদ্য চাহিদা মেটাতে ইতোমধ্যে ভারত, কম্বোডিয়া ও ভিয়েতনামসহ বেশ কিছু দেশ থেকে কয়েক দফায় চাল আমদানি করেছে বাংলাদেশ। চুক্তি অনুযায়ী ওইসব দেশ থেকে পর্যায়ক্রমে আরও চাল আসার কথা রয়েছে। এর মধ্যে সেনা অভিযানের মুখে প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়ায় সাময়িকভাবে দেশের খাদ্য চাহিদা আরও বেড়েছে।

ইতোমধ্যে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ভারত, মরক্কো ও ইরানের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধাপে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য মোট ২৫০ টন ত্রাণ সামগ্রী বাংলাদেশে এসেছে।