রোহিঙ্গাদের ত্রান বিতরনে সেনা বাহিনীকে সম্পৃক্ত করার দাবি বিএনপি’র

0

জিসাফো ডেস্কঃ কক্সাবাজারের উখিয়া-টেকনাফে রোহিঙ্গাদের ত্রান বিতরনে সরকারের কোনো ব্যবস্থাপনা নেই বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। তারা অবিলম্বে এই কর্মকান্ডে সেনা বাহিনীকে সম্পৃক্ত করার দাবি জানিয়েছে।

রোববার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর  বলেন, ‘‘ সরকার যে ত্রান-টান করছেন, ব্যবস্থা করছেন তা লোক দেখানো ব্যাপার। এখন পর্যন্ত খবর আছে সেখানে কোনো ম্যানেজমেন্ট নেই, প্রায় ফেল করে যাচ্ছে। ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।”

‘‘ এই বিশাল সমস্যা মোকাবিলায় সরকারের অবিলম্বে জাতীয় পর্যায়ে সমস্ত রাজণৈতিক দল ও সংগঠনগুলোকে নিয়ে আলোচনা করে সকল মানুষকে এখানে সম্পৃক্ত করাটা অত্যন্ত জরুরী বলে আমরা মনে করি। আমি বলব, পরস্পর কাঁদা ছুঁড়াছুড়ি না করে ভালো হবে আওয়ামী লীগে সাধারণ সম্পাদক সাহেব এই বিষয়গুলোর ওপর জোর দেন।”

‘‘ একই সঙ্গে আমরা মনে করি যে, অবিলম্বে মিয়ানমার সরকারের ওপরে চাপ সৃষ্টি করার জন্য, রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে নাগরিকত্ব দিয়ে স্বসন্মানে ফিরিয়ে নেয়ার জন্য কুটনৈতিক তৎপরতা আরো বৃদ্ধি করা প্রয়োজন এবং তার জন্য যা যা করার প্রয়োজন তা তাদের ব্যবস্থা নেয়া অত্যন্ত দরকার বলে আমরা মনে করি।’’

কক্সবাজার থেকে সরেজমিনে দেখে এসে রিলিফ টিমের আহবায়ক স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, ‘‘ সেখান অবস্থা ভয়াবহ। সরকারের প্রতি আহবান জানাবো, অবিলম্বে দেশী-বিদেশী যত সহযোগিতা ও অনুদান এসেছে তা সুষ্ঠুভাবে বন্টনের জন্য রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে সেনাবাহিনী নিয়োগ করুন। রোহিঙ্গা শরনার্থীদের পূর্ণবাসনসহ সকল প্রকার ত্রান তৎপরতায় সেনা বাহিনী নিয়োগ করার জন্য আমরা অনুরোধ জানাচ্ছি।”

‘‘বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও দলের পক্ষ থেকে আমরা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলতে চাই, রোহিঙ্গা ইস্যুতে কোনো রাজনীতি নয় আসুন দলমত নির্বিশেষ সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে আর্ত মানবতার সেবায় কাজ করি। জাতীয় দুযোর্গে যখন একসঙ্গে কাজ করা কর্তব্য তখন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ত্রান কাজে বাঁধা প্রদানের মতো নোংরামী থেকে বিরত থাকার জন্য আমি সরকার ও মাথা মোঠা মন্ত্রীদের প্রতি আহবান জানাচ্ছি।”

রোহিঙ্গাদের ত্রান ও সহায়তা প্রদানে মির্জা আব্বাসের নেতৃত্বে একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়। গত ১৩ সেপ্টেম্বর দলের এই রিলিফ টিম মির্জা আব্বাসের নেতৃত্বে কক্সবাজারের উখিয়ায় ত্রান দিতে গেলে স্থানীয় কক্সবাজারেই দলের ২২টি ট্রাক আটিকয়ে দেয়।

মির্জা আব্বাস জানান, ২২ ট্রাকের ত্রান সামগ্রি স্থানীয়ভাবে রোহিঙ্গাদের কাছে বিতরণ করা হচ্ছে। রোববার দুপুরে নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন হয়।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল  বলেন, ‘‘ আমি কিছুক্ষন আগেই ইউএনডিপি‘র ঢাকার আবাসিক প্রধানের সঙ্গে কথা বলে এসেছি তারা বলেছে যে রোহিঙ্গা শরনার্থী ওয়ান মিলিনয় ছাড়িয়ে গেছে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে সরকারের উচিৎ ছিলো জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করা, সরকারের উচিৎ ছিলো সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলোকে, পেশাজীবী সংগঠনগুলোকে এবং অন্যান্য সংগঠনগুলোকে যারা ত্রান কার্য্ পরিচালনা করে তাদেরকে ডেকে কথা বলে একটা জাতীয় ঐক্য তৈরি করে এই ভয়াবহ যে চ্যালেঞ্জ, সেই চ্যালেঞ্জকে মোকাবিলা করার জন্য জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করা।”

‘‘ সরকার তা না করে অত্যন্ত অন্যায়ভাবে বিরোধী দল যে ত্রান নিয়ে যাচ্ছে বিশেষ করে বিএনপি যে ত্রান নিয়ে গেছে তাতে বাঁধার সৃষ্টি করেছে।”

স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস অভিযোগ করে বলেন, ‘‘ আমরা সফরকালে অসংখ্য প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনকে ত্রান তৎপরতা দিতে দেখলেও সরকার ও আওয়ামী লীগের তেমন কোনো কার্য্ক্রম দেখিনি। ১৩ সেপ্টেম্বর আমাদেরকে ত্রান বিতরণ করতে বাঁধা দেয়া হলেও ১৪ সেপ্টেম্বর জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ সাহেবকে ত্রান বিতরণ করতে এবং মঞ্চ করে ব্যানার লাগিয়ে বক্তৃতা দিতে দেয়া হয়েছে। আমরা সরকারের এহেন দ্বিমুখী আচরণের তীব্র নিন্দা জানাই।”

‘‘ আর্ত মানবতার সেবায় আমরা ত্রান দিতে গিয়ে ছিলাম, এটা কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি ছিলো না। একই সঙ্গে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে ক্ষমতাসীনরা চাঁদাবাজী করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

‘‘ মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা অসহায় মানুষদের কাছ থেকে ক্ষমতাসীনদের চাঁদাবাজীর খবর শুনেছি। এই অপরাধে যুব লীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক বর্তমানে কারাগারে আছেন।”

কেন্দ্রীয় রিলিফ টিমের সঙ্গে কাজ করার অভিযোগে স্থানীয় দলের ৬ নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার ও তাদের ভ্রাম্যমান আদালতে সাজা প্রদানের ঘটনার নিন্দাও জানান রিলিফ টিমের আহবায়ক।

মির্জা আব্বাস জানান, বিএনপির রিলিফ টিম টেকনাফ ও উখিয়ায় শরনার্থী শিবিরের কাছে ৪০টি স্যানেটারি টয়লেট, ১২টি টিউবওয়েল স্থাপন, মৃত রোহিঙ্গাদের দাফনে সহযোগিতা প্রদান, চিকিৎসা সেবা ও বিনামূল্যে ঔষধ প্রদান করেছে।

তিনি বলেন, ‘‘ আমাদের ত্রান তৎপরতা বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশমতো অব্যাহত থাকবে এবং কোনো অপকৌশলে এই কার্য্ক্রম সরকার বন্ধ করতে পারবে না।”

সংবাদ সম্মেলনে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, চেয়ারপারসনের ‍উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালী, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু প্রমূখ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।