রিজভীতে উজ্জীবিত নেতাকর্মী,সরব বিএনপি নয়াপল্টন কার্যালয়

0

জিসাফো ডেস্কঃ রিজভীতে উজ্জীবিত বিএনপির নেতা-কর্মীরা। সরব হয়ে উঠেছে বিএনপির নিষ্প্রাণ কেন্দ্রীয় কার্যালয়। বিচক্ষণতার সাথে আবার গণমাধ্যমে উঠে আসছে বিএনপির নেতা-কর্মী, সমর্থক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মনের কথা। তৃণমূল নেতা-কর্মীর মোবাইলে ভাসছে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের বার্তা। ক্ষোভ, বঞ্চনা আর প্রত্যাশার কথাও জানাতে পারছেন দলের সংক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা। আলাপকালে এমন তথ্য দিয়েছেন দলীয় নেতারাই। তবে তার অবর্তমানে আগে এই কার্যালয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতার ভূমিকা, নেতিবাচক কর্মকা-, প্রতিপক্ষের গুণ-প্রশংসায় পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে বিএনপির অবস্থান প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে। ওই নেতার অহমিকা, দাম্ভিকতা, আর স্বপ্রণোদিত মন্তব্যে আদর্শে আঁচড় লেগেছিল বিএনপির। এ কারণেই নেতাকর্মীরা কার্যালয়বিমুখ হয়ে পড়েছিলেন। একাধিক নেতার ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে দলীয় কার্যালয়ে। তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, কিন্তু আলোর মুখ দেখেনি রিপোর্ট।

দায়িত্বপ্রাপ্ত ওই নেতার বিরুদ্ধে পাহাড়সম অভিযোগ পড়েছে শীর্ষ নেতার কাছে। যাদের নির্দেশে সারা দেশে দলের লাখো নেতাকর্মী মামলা-হামলা, জেল-জুলুম ও নির্যাতনের শিকার, তাদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন মৌখিক দায়িত্বপ্রাপ্ত মুখপাত্র। সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পরদেশীদের কাছে মুচলেকা দেয়ার ঘটনাও ঘটিয়েছেন ওই নেতা। তাকে নিয়ে নেতাকর্মীরা যেমন অস্বস্তিতে ছিলেন তেমনি বিব্রত ছিল হাইকমান্ডও। রিজভী আহম্মেদ ফিরে আসায় এসবের অবসান ঘটেছে। বিএনপির নেতাকর্মীদের ভাষায়, রাজনীতিতে ত্যাগী, কর্মীর প্রতি দায়িত্বশীল, নেতার প্রতি আনুগত্যশীল আর আদর্শে প্রতিশ্রুতিশীল নেতা রুহুল কবির রিজভী। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব। দলীয় দফতরের দায়িত্বপ্রাপ্ত। গ্রেফতার, হাসপাতালে ভর্তি, কৌশলে গা ঢাকাসহ নানা নাটকীয় ঘটনার শিকার সাবেক এই ছাত্রনেতা। দীর্ঘ কারাবাসের পর ফিরে এসেছেন নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে। তিনি ফিরে আসায় যে পাল্টে গেছে দৃশপট। এই কার্যালয়ই ছিল তার ঠিকানা। বই পড়ে, বই লিখে, নিত্যদিন সংবাদ সম্মেলনসহ নানামুখী কর্মকান্ডেই দিন পার হতো তার। কর্মসূচি দিয়ে অন্যরা যখন নিরাপদ দূরত্বের শীতাতপ চেম্বারে বা বাসায় আয়েশে থাকতেন, কখনো দু-তিনজন সহকর্মীকে নিয়ে অবরুদ্ধ নয়াপল্টন কার্যালয়ের সামনে দলীয় স্লোগান দিয়েছেন এই নেতা। কার্যালয়ের স্টাফদের সুখ-দুঃখের সাথীও রিজভী আহম্মেদ। তার ভূমিকার বিচারে গণমাধ্যমে শিরোনাম হয়ে ওঠেন রিজভী আহম্মেদ। আদর্শের পরীক্ষায় উতীর্ণ ’৯০-এর আন্দোলন থেকেই। ২০০৭ সালের ১/১১-তে তিনি যেমন ভূমিকা পালন করেছেন, বর্তমান সরকারের শাসন আমলেও একই। এই ছাত্রদল নেতার গায়ে ভীতিতে পদলেহন, দলীয় কর্মপরিকল্পনার তথ্য পাচার, কিংবা কারাগারে মুচলেকা দিয়ে মুক্তি পাওয়ার মতো কলঙ্কের দাগ পড়েনি।

গত বুধবার বিকালে রিজভী আহম্মেদ নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এসে পৌঁছালে দলের নেতাকর্মীরা তাকে পুষ্পস্তবক দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। কর্মীরা করতালি দেন। রিজভী কার্যালয়ের তৃতীয় তলায় দফতর শাখা পৌঁছালে দলের সহ দফতর সম্পাদক, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ও মহিলা দলের নেতাকর্মীরা ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। পরে যুবদল, মুক্তিযোদ্ধা দল, স্বেচ্ছাসেবক দল, কৃষক দল, মহিলা দল, উলামা দল, ছাত্রদল প্রভৃতি অঙ্গসংগঠনের পক্ষ থেকে নেতারা কারামুক্ত নেতাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। দলের আন্তর্জাতিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান রিপনও ফুল দিয়ে রিজভী আহম্মেদকে অভিনন্দন জানান। রিজভী আহম্মেদ ঘুরে ঘুরে নিজ দফতরের সবার সাথে কুশল বিনিময় করেন। সব শেষে দফতরে বসেই গণমাধ্যমে কথা বলেছেন। কারাবন্দি এবং মুক্তির পর জনজীবন কেমন তার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।বলেছেন, কারাগার, কারাগারের বাইরে জনজীবনটা বন্দিশালার মতো মনে হচ্ছে।

গত ৭ ডিসেম্বর উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে ১০ মাস পর মুক্তি পান বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এর আগে দশম সংসদ নির্বাচনের বর্ষপূর্তির কর্মসূচি নিয়ে উত্তেজনার মধ্যে গত ৩ জানুয়ারি রাতে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে রিজভী অসুস্থ হয়ে পড়লে পুলিশ তুলে নিয়ে তাকে বসুন্ধরার এ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি করে। চার দিনের মাথায় গভীর রাতে সেখান থেকে চুপিসারে বেরিয়ে যান তিনি। মূলত এর পর থেকেই গোপন স্থান থেকে বিবৃতির মাধ্যমে দলের কর্মসূচি ঘোষণা করে আসছিলেন বিএনপির এই নেতা। এরপর ‘আত্মগোপনে’ থেকে তিনি দলের হরতাল-অবরোধের কর্মসূচি ঘোষণা করছিলেন। দলের পক্ষে বিবৃতি দেন। রিজভীকে ৩০ জানুয়ারি র‌্যাবের একটি দল বারিধারার একটি বাসা থেকে আটক করে। ২৩ দফায় রিমান্ডে নেয়া হয় তাকে।