“রাষ্ট্রপতির কাজ তো শেষ হয়ে গেছে। উনি তো করে ফেলেছেন, যেটা অপকর্ম করার করে ফেলেছেন- মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

0

সোমবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “এদেশের মানুষ তারা খুব ভালোভাবেই উপলব্ধি করেন, নির্বাচনকালীন সময়ে যদি একটি নিরপেক্ষ সরকার না থাকে তাহলে কারো পক্ষেই সুষ্ঠু নির্বাচন করা সম্ভব না। সেই কারণেই নির্বাচনকালীন সময়ে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন পরিচালনার জন্য সহায়ক সরকার প্রয়োজন। আমরা এই সহায়ক সরকারের প্রস্তাব দেবে।

“এই প্রস্তাব দিয়ে আমরা সরকারকে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়ার জন্য বলব। এবার আমরা প্রধানমন্ত্রীকেই এই প্রস্তাব দেব যে, এভাবে আসতে হবে। তা না হলে সকল দায়-দায়িত্ব তাকেই বহন করতে হবে।”

নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যৌথ সভার পর এই সংবাদ সম্মেলন হয়।

নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের প্রস্তাব রাষ্ট্রপতিকে দেবেন কিনা প্রশ্ন করা হলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “রাষ্ট্রপতির কাজ তো শেষ হয়ে গেছে। উনি তো করে ফেলেছেন, যেটা অপকর্ম করার করে ফেলেছেন। আমরা এখন প্রধানমন্ত্রীকে সহায়ক সরকারের প্রস্তাব দেব।”

নির্বাচন কমিশন গঠনের আগে খালেদা জিয়ার দেওয়া ১৩ দফা প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর সংলাপের বিষয়টিও তুলে ধরেন ফখরুল।

“আমাদের ভিক্টোরিটা কোথায় জানেন? দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১৩ দফা একটা প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তার আগে আওয়ামী লীগের নেতারা কোনো কথাই বলতে চায়নি। পরিষ্কার করে বলে দিয়েছিল যে, কোনো আলোচনাই হবে না, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে। আমাদের প্রস্তাবের পরেই প্রেসিডেন্ট রাজনৈতিক দলগুলোকে ডেকেছিলেন, কথাবার্তা বলেছেন এবং একটা ব্যবস্থা নিয়েছেন।”

নির্বাচন কমিশন গঠনের আগে গত ১৮ ডিসেম্বর খালেদা জিয়া নির্বাচন কমিশন শক্তিশালীকরণে ১৩ দফা প্রস্তাব জাতির উদ্দেশ্যে উপস্থাপন করে তা রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠান এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ আয়োজনের আহবান জানান। এর পরপরই রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনে বিএনপি, আওয়ামী লীগসহ ৩১টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ করেন।

এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “নতুন প্রধান নির্বাচন কমিশনার সম্পর্কে আমরা জনগণের সামনে, আপনাদের সামনে পরিষ্কার করে বলে দিয়েছি, তার দলীয় অবস্থান, তার ব্যক্তিগত অবস্থান। আমরা বলেছি যে, তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনার হওয়ার মতো যোগ্য মানুষ নন।

“এই নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচনে আমরা যাব কি যাব না, এটা তা তো অনেক পরের ব্যাপার। স্থানীয় সরকার নির্বাচন চলমান প্রক্রিয়া। আমরা করছি, এটা আমরা করব।”

সার্চ কমিটির সুপারিশ করা ১০ জন থেকে সম্প্রতি রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ পাঁচ সদস্যের যে নির্বাচন কমিশন গঠন করেন তাতে সিইসি নূরুল হুদার সঙ্গে কমিশনার হিসেবে আছেন সাবেক সচিব রফিকুল ইসলাম, সাবেক অতিরিক্ত সচিব মাহবুব তালুকদার, অবসরপ্রাপ্ত জেলা জজ কবিতা খানম ও অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শাহাদৎ হোসেন চৌধুরী।

ঢাকা মহানগর কমিটি কবে হবে প্রশ্ন করা হলে দলের মহাসচিব বলেন, “খুব শিগগিরই এটা আপনারা দেখবেন যে, পর্দা উত্তোলন হবে।”