রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিরুদ্ধে সুন্দরবন রক্ষার আন্দোলনে আমাদের বিজয়ী হওয়ার বিকল্প কিছু নেই

0

জিসাফো ডেস্কঃ সুন্দরবন রক্ষায় দেশের সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার তাগিদ দিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এ আন্দোলনে বিজয়ী হওয়ার কোনো বিকল্প নেই। সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে বিজ্ঞান আন্দোলন মঞ্চ আয়োজিত ‘সুন্দরবনের ওপর রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রভাব’ শীর্ষক মতামত সভায় বক্তারা এ মত ব্যক্ত করেন।

 তেল-গ্যাস-খনিজসম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মাদ বলেন, ‘রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিরুদ্ধে আমরা যে আন্দোলন করছি, আমাদের সাথে আছে দেশের সাধারণ মানুষের যুক্তি এবং শক্তি। আর সরকার কোনো দিক দিয়ে যুক্তি দেখাতে পারছে না, শুধু তাদের আছে একগুঁয়েমিপনা। সুতরাং সুন্দরবন রক্ষার আন্দোলনে আমাদের বিজয়ী হওয়ার বিকল্প কিছু নেই।’

 আনু মুহাম্মাদ আরো বলেন, ‘সরকার ও তার অনুসারীরা টাকা এবং স্বার্থের লোভে জ্ঞানবুদ্ধি হারিয়ে ফেলেছে। এই প্রকল্পের পক্ষে তারা কোনো যুক্তি দেখাতে পারছে না। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য কোম্পানি ও সরকার একাকার হয়ে গেছে। তাদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। তারা জনগণের স্বার্থ দেখছে না, দেখছে কোম্পানির স্বার্থ। যখন কোনো দেশ এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়, তখন সে দেশে দুর্যোগ দেখা দিতে পারে।’

 সুন্দরবনের গুরুত্ব সরকারের কাছে নেই, এ অভিযোগ করে এ বরেণ্য অর্থনীতিবিদ বলেন, ‘যত দ্রুত সুন্দরবন ধ্বংস করা যায়, সরকার সেই ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। কিন্তু সরকার জানে না, সুন্দরবন ধ্বংস হয়ে গেলে সমস্ত বাংলাদেশ অরক্ষিত হয়ে যাবে।’

 বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান বলেন, ‘রামপাল নিয়ে সরকারের মন্ত্রী-এমপিদের কথা শুনলে মনে হয়, বাতাস,পানি সবকিছুই তাদের কথা অনুযায়ী চলছে। রামপালের ক্ষতি সম্পর্কে ওই এলাকার মাঝিরা যা বুঝতে পারে, সরকারের  মন্ত্রী-এমপিরা তাও বুঝতে পারে না।’

 জ্বালানি বিশেষজ্ঞ রহমতউল্লাহ বলেন,‘সরকার যদি ভারতীয় সৈন্য নিয়ে এসেও রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করে, তারপরও আমাদেরকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে, এটি আমরা সরিয়ে দেব। সুন্দরবনকে আমাদের রক্ষা করতেই হবে।’

 আয়োজক সংগঠনের সভাপতি প্রকৌশলী ইমরান হাবিব রমনের সভাপতিত্বে মতামত সভায় আরো বক্তব্য দেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক তৌহিদা রশিদ,পরিবেশ আইনবিদ সৈয়দা  রিজওয়ানা হাসান, পরিবেশ বিশেষজ্ঞ ড.আব্দুল মতিন প্রমুখ।