রামপালে কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন একটি দেশ বিরোধী-গণবিরোধী সিদ্ধান্ত

0

জিসাফো ডেস্কঃ বিদ্যুৎ উৎপাদনের অনেক বিকল্প আছে, বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের স্থানেরও অনেক বিকল্প আছে , কিন্তু সুন্দরবনের কোন বিকল্প নেই।আরও বলেন,রামপালে কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন একটি দেশ বিরোধী-গণবিরোধী সিদ্ধান্ত। এই কথাগুলো বলেছেন ২০ দলীয় জোট নেত্রী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশমাতা বেগম খালেদা জিয়া। আজ বিকাল ৪.৪৫ মিনিটে গুলশানস্থ বিএনপি চেয়ারপার্সনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই বক্তব্য রাখেন। সংবাদ সম্মেলনের পুরো বক্তব্য নিচে তুলে ধরা হলো:

সুন্দরবনকে ধ্বংসকারী কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার প্রতিবাদে ২০ দলীয় জোট নেত্রী, বিএনপি চেয়ারপার্সন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশমাতা বেগম খালেদা জিয়া’র সংবাদ সম্মেলন, তারিখ : ২৪ আগস্ট ২০১৬, স্থান : বিএনপি’র চেয়ারপার্সন কার্যালয়

বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম

প্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা

আসসালামু আলাইকুম।
দেশের উন্নয়ন ও জনজীবনের স্বাচ্ছন্দের জন্য বিদ্যুৎ প্রয়োজন। কিন্তু সেই বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে গিয়ে যদি দেশ এবং দেশের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্থ হয়, জনজীবন বিপর্যস্থ হয়, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র ধ্বংস হয় – তাহলে সেই সিদ্ধান্ত হয় দেশ বিরোধী-গণবিরোধী। বাগেরহাট জেলার রামপালে কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন ঠিক তেমনি একটি দেশ বিরোধী-গণবিরোধী সিদ্ধান্ত। বিশ্বের বৃহত্তম ম্যাগগ্রোভ বনাঞ্চল সুন্দরবনের মাত্র ১৪ কিলোমিটার দূরে রামপালে ১৩২০ মেগাওয়াট এবং মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরে ৫৬৫ মেগাওয়াট ওরিয়ন কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার কাজ এগিয়ে চলেছে। দেশ-বিদেশের পরিবেশবিদ, সামাজিক সংগঠন এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানসমূহের প্রতিবাদ এবং বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে এ ধরনের প্রকল্পের মারাত্মক বিরূপ প্রতিক্রিয়ার দৃষ্টান্ত উপেক্ষা করে গণবিরোধী অনির্বাচিত সরকার রামপালে ১৩২০ মেগাওয়াটের আরও একটি কয়লা-বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের লক্ষ্যে জমি ভরাটের জন্য অর্থ বরাদ্দ করেছে। জনমত উপেক্ষা করে দেশ ও জনগণের স্বার্থ বিরোধী সিদ্ধান্ত জনগণের উপর জবরদস্তিমূলক ভাবে চাপিয়ে দিচ্ছে এই স্বৈরাচারী সরকার। সুন্দরবনের এত কাছে স্থাপিত কয়লা-বিদ্যুৎ প্রকল্পের অনিবার্য্য অশুভ ও মারাত্মক ক্ষতিকারক প্রতিক্রিয়ার সব প্রমাণ উপস্থাপনের পরেও সরকার তার অবস্থান পরিবর্তনে শুধু অস্বীকৃতি জানাচ্ছে নাÑবরং আরও দ্রুত এই গণবিরোধী – দেশবিরোধী সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের উদ্যোগী হয়েছে। এর দ্বারা আবারো প্রমাণিত হলো যে, এই সরকার স্বৈরাচারী বলেই জনমত কিংবা দেশের স্বার্থের পরোয়া করেনা। যে প্রকল্প দেশের দক্ষিণাঞ্চলের প্রাকৃতিক বেষ্টনী ধ্বংস করবে, জীব-বৈচিত্রের বিলোপ ঘটাবে, লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন ও জীবিকা ধ্বংসের কারণ হবে, পরিবেশ ও পানি দূষিত করবে, আশে পাশের কৃষি জমির উর্বরা শক্তি এবং মৎস সম্পদ ধ্বংস করবে এবং সর্বোপরি যে প্রকল্প অর্থনৈতিকভাবে অলাভজনকÑ তা বাস্তবায়নে সরকারের যুক্তিহীন জেদ ও দ্রুততা শুধু সন্দেহজনক নয়, দেশবাসীর জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়। যে সুন্দরবন লক্ষ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান করছে, যে সুন্দরবন প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবন এই দেশকে আইলা, সিডর, ঘূর্ণিঝড় থেকে বাঁচার জন্য প্রাকৃতিক সুরক্ষা দিচ্ছেÑ টঘঊঝঈঙ কর্তৃক ঘোষিত সেই আন্তর্জাতিক ঐতিহ্য সুন্দরবনকে নিশ্চিত ধ্বংসের শিকার করার চক্রান্ত সফল হতে দেয়া যায় নাÑ দেয়া উচিত নয়। দেশের অস্তিত্ব ও স্বার্থের বিনিময়ে ব্যক্তি কিম্বা গোষ্ঠীর মুনাফা এবং অনৈতিক স্বার্থ উদ্ধারের অপচেষ্টা রোধ করা তাই সময়ের দাবী।

প্রিয় সাংবাদিক বৃন্দ,
রামপাল কয়লা-বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার বিরুদ্ধে ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ কর্তৃপক্ষ, রামসার কনভেনশনের সচিবালয়Ñএমন কি বাংলাদেশের বন অধিদপ্তরের আপত্তি অগ্রাহ্য করে সরকার এই প্রকল্পের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় জনগণের প্রতিবাদ-প্রতিরোধ উপেক্ষা করে, তাদেরকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ না দিয়ে প্রায় ৮ হাজার পরিবারকে জোর করে উচ্ছেদ করা হয়েছে। ফসলী জমি ও মাছের ঘের ভরাট করা হয়েছে। এই উচ্ছেদকৃত কৃষিজীবীদের সাথে সুন্দরবনে কাঠ, গোলপাতা, মধু সংগ্রহ করে এবং এর আশ-পাশের নদী ও খালে মাছ শিকার করে যে হাজার হাজার পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করতো তারাও বেকার ও নিঃস্ব হয়ে যাবে। উল্লেখযোগ্য যে, ভারতের ন্যাশনাল থার্মাল পাওয়ার কর্পোরেশন (ঘঞচঈ) নামের যে প্রতিষ্ঠানটির সাথে যৌথভাবে রামপাল কয়লা-বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপিত হচ্ছেÑ সেই একই প্রতিষ্ঠান ভারতের মধ্য প্রদেশের নরসিংহপুর জেলায় ১৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন কয়লা-বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের যে প্রস্তাব দিয়েছিল, ভারত সরকার তা বাতিল করে দিয়েছে। নরসিংহপুর প্রকল্পটি ১০০০ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠা করার প্রস্তাব ছিল – অথচ রামপালে এই একই আকারের বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য দেয়া হয়েছে ১৮৩৪ একর জমি।
নরসিংহপুরের প্রকল্প বাতিল করা হয়েছে প্রধানত: ৩টি কারণ-
ক) জন বসতিপূর্ণ এলাকায় তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র গ্রহণযোগ্য হতে পারে না;
খ) কৃষি জমির উপর তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র করা যাবে না এবং
গ) নর্মদা নদী থেকে ঘন্টায় ৩২ কিউসেক পানি নেওয়া যাবে না।
এর সাথে রামপালের তুলনা করলে যা দেখা যায় – তা’হলো –
ক) নরসিংহপুর জেলার আয়তন ৫১২৫.৫৫ বর্গ কিলোমিটার এবং জনসংখ্যার ঘণত্ব প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ১৮৭ জন। অন্য দিকে বাগের হাট জেলার আয়তন ৩৯৫৯.১১ বর্গ কিলোমিটার আর রামপালের আয়তন ৩৩৫.৪৬ বর্গ কিলোমিটার এবং জনসংখ্যার ঘনত্ব ৩৮২ জন – অর্থাৎ নরসিংহপুরের চেয়ে দ্বিগুনেরও বেশী।
খ) নরসিংহপুরের জমি দোফসলী কিন্তু রামপালের জমি তিন ফসলী। ঘের গুলোতে মাছ চাষ হয় সারা বছর।
গ) নর্মদা নদী থেকে ঘন্টায় ৩২ কিউসেক পানি নিতে দেয়া যাবে না বলে মধ্যপ্রদেশে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অনুমতি দেয়া হয়নি।
অথচ নর্মদার চেয়েও ছোট পশুর নদী থেকে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য প্রতি ঘন্টায় ১৪৪ কিউসেক পানি নেয়া হবে এবং তা লবনাক্ততামুক্ত করার জন্য আলাদা প্লান্ট বসানো হবে। আর যদি গভীর নলকূপ বসিয়ে মিষ্টি পানি তুলতে হয় তা হলে ২ কিউসেক ক্ষমতা সম্পন্ন ৭২টি গভীর নলকূপ বসাতে হবে। একটি নলকূপের ১ হাজার ফুটের মধ্যে আরেকটি নলকূপ বসানো যায় না। অর্থাৎ, এক বিস্তৃত এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানি শুকিয়ে এক মারাত্মক বিপর্যয় সৃষ্টি করবে। ভারতে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ২৫ কিলোমিটারের মধ্যে কয়লা-বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনে আইনী বাধা আছে। অথচ সে দেশেরই একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান তাদের নিজের দেশে যা করতে পারে না শুধুমাত্র ব্যবসায়িক স্বার্থে তা বাংলাদেশে করছে। আর জনগণের প্রতি দায়িত্বহীন এবং দেশের স্বার্থের প্রতি উদাসীন বাংলাদেশ সরকার তার অনুমতি দিয়েছে। উল্লেখযোগ্য যে, ২০০৮ সালে ভারতের কর্নাটক রাজ্যের রাজীব গান্ধী ন্যাশনাল পার্কের ২০ কিলোমিটার দূরে ১ হাজার মেগাওয়াট কয়লা-বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা জনগণের প্রবল প্রতিরোধের মুখে ভারত সরকার বাতিল করতে বাধ্য হয়। ঐ ন্যাশনাল পার্কের আকার সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশের এক দশমাংশ মাত্র। বনাঞ্চলের ২৫ কিলোমিটারের মধ্যে হওয়ায় ভারত সরকার তামিলনাড়ু রাজ্যের একটি কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব বাতিল করেছে ২০১২ সালে। অন্যদিকে ভারতের সেন্টার ফর সায়েন্স এন্ড এনভায়রনমেন্ট (ঈঝঊ) ’এর এক গবেষণায় রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব প্রাপ্ত ঘঞচঈ নামের প্রতিষ্ঠানটিকে ভারতের সব চেয়ে দূষণকারী প্রতিষ্ঠান বলে চিহ্নিত করেছে।

প্রিয় সাংবাদিকবৃন্দ,
বিভিন্ন গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, সুন্দরবনের এত কাছে পশুর নদীর তীরে রামপাল কয়লা-বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপিত হলে বাংলাদেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্য বিনষ্ট হবে এবং তার বিরূপ প্রতিক্রিয়া হবে সুদূর প্রসারী। ১৯৯৭ সালে ইউনেস্কো কর্তৃক বিশ্ব ঐতিহ্য বলে ঘোষিত সুন্দরবন, এই বনের বিরল প্রজাতির পশু-পাখি, বনের ভিতর ও পাশ দিয়ে বলে চলা নদী ও খালের মৎসসম্পদ এবং বিপুল বনজ সম্পদ বিনষ্ট হওয়ার যে আশংকা বিজ্ঞানীরা করছেনÑ তার প্রমাণ অসংখ্য। আমেরিকার টেক্সাসে ফায়েত্তি কয়লা-বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বছরে ৩০ হাজার টন সালফারডাই অক্সাইড নির্গত হতো। এর ফলে টেক্সসের হাইওয়ে ২১’এর ৪৮ কিলোমিটার জুড়ে গাছপালা ধ্বংস হয়েছে। ফলে প্রকল্পটি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এছাড়া এটা বৈজ্ঞানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত যে, কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে পানি নির্গমন হলে তাতে বিভিন্ন মাত্রার দূষণকারী উপাদান থাকে। সে কারণে পৃথিবীর সব দেশে কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ক্ষেত্রে ‘শূণ্য নির্গমন’ নীতি অবলম্বন করা হয়। কিন্তু ঘঞচঈ রামপালে এই নীতি অনুসরণ না করেই বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করতে যাচ্ছে। অথচ এই ঘঞচঈ ই যখন ভারতে ছত্তিশগড়ে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মাণ করতে চেয়েছিল তখন ‘শূণ্য নির্গমন’ নীতি মানার প্রতিশ্রিুতি দিয়েছিল। ‘শূণ্য নির্গমন’ নীতি অনুসরণ না করার ফলে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে প্রতি ঘন্টায় নির্গত ৫১৫০ ঘনমিটার পানি পশুর নদীর জলজ পরিবেশের তাপমাত্রা, পানি নির্গমনের গতি, পানিতে দ্রবীভূত নানান উপাদান বিভিন্ন মাত্রায় পরিবর্তন করবে, যা পুরো সুন্দরবন এলাকার পরিবেশের উপর ধ্বংসকারী প্রভাব সৃষ্টি করবে। ইআইএ (ঊওঅ) প্রতিবেদন অনুযায়ী ১৩২০ মেগাওয়াটের এই প্রকল্পে বছরে ৪৭ লাখ ২০ হাজার টন কয়লা পোড়ানো হবে। সরকারী প্রতিবেদন অনুযায়ী সুপার ক্রিটিক্যাল পদ্ধতি ব্যবহার করার পরেও ৭৯ লাখ টন কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গত হবে। যত উচু চিমনিই ব্যবহার করা হোক, বাতাসের চেয়ে ভারী এই মারাত্মক গ্যাস এদেশেই এবং সুন্দরবনের উপরেই ফিরে আসবে। এছাড়াও প্রতিদিন এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে ১৪২ টন বিষাক্ত সালফার ডাই অক্সাইড এবং ৮৫ টান নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড নির্গত হয়ে সুন্দরবনের বাতাসের ঘনত্ব বাড়িয়ে গোটা সুন্দরবন ও তার আশপাশের অঞ্চলকে ধ্বংস করবে। ১৯৯৭ সালের বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী সুন্দরবনের মত পরিবেশগত স্পর্শকাতর এলাকায় বাতাসে সালফার ডাই অক্সাইড ও নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইডের ঘনত্ব প্রতি ঘনমিটারে ৩০ মাইক্রোগ্রামের বেশী হতে পারবেনা। অথচ ইআইএ’র প্রতিবেদন অনুযায়ী বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে নির্গত এসব গ্যাসের ঘনত্ব নভেম্বর-ফেব্রুয়ারী মাসে ৫৪ মাইক্রোগ্রাম হবে। এই অগ্রহনযোগ্য মাত্রাকে বৈধতা দেয়ার জন্য সরকার সুন্দরবনকে আবাসিক ও গ্রাম এলাকা দেখিয়ে জনগণের সাথে প্রতারণা করেছে। একই ধরনের প্রতারণা করা হয়েছে ২৭৫ মিটার উঁচু চিমনি দিয়ে নির্গত গ্যাসীয় বর্জ্যরে ১২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা স্থানীয় এলাকার তাপমাত্রা বৃদ্ধি করবেনা বলে। রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সবচেয়ে ক্ষতিকর বর্জ্য হবে দুই ধরণের কয়লা পোড়া ছাই। এখানে প্রতি বছর ৪৭ লাখ ২০ হাজার টন কয়লা পোড়ানোর ফলে ৭ লাখ ৫০ হাজার টন ফ্লাই অ্যাস ও ২ লাখ টন বটম অ্যাস বর্জ্য তৈরী হবে। এই ফ্লাই অ্যাস, বটম অ্যাস এবং তরল ঘণীভূত ছাই বিপদজনক মাত্রায় পরিবেশ দূষণ করে। কারণ এতে পারদ, সীসা, নিকেল, আর্সেনিক, বেরিলিয়াম, ক্রোমিয়াম, রেডিয়াম ইত্যাদির মত বিভিন্ন ক্ষতিকর ও তেজ:স্ক্রিয় ভারী ধাতু মিশে থাকে। ই.আই.এ প্রতিবেদনে উৎপাদিত ছাই ইএসপি সিস্টেমের মাধ্যমে চিমনির মধ্যেই ধরে রাখার কথা বলা হলেওÑকিছু উড়ন্ত ছাই বাতাসে মিশবে বলে স্বীকার করা হয়েছে। এই কিছুর পরিমাণ ১ শতাংশ হলেও বছরে ৭ হাজার ৫০০ টন ফ্লাই অ্যাস আশেপাশের এলাকাসহ সুন্দরবনে ছড়িয়ে পড়ে তেজ:স্ক্রিয় দুষণ ঘটাবে এবং নিউমোনিয়াসহ ফুসফুসের রোগ সৃষ্টি করবে। এই প্রকল্পের কঠিন বর্জ্যরে একটি অংশ দিয়ে ১৪১৪ একর স্থানীয় নীচু জমি ভরাট করার যে পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে তা পরিবেশের জন্য আরও মারাত্মক হবে। এসব বর্জ্য বাতাসে উড়ে আশ-পাশের এলাকা এবং পানিতে ভিজে ভূগর্ভস্থ পানির সাথে মিশে নদীর পানি বিষাক্ত ও তেজঃক্রীয় করবে।