রাত পোহালেই কাউন্সিল, শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি

0

বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলের আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি। রাত পোহালেই এ কাউন্সিল। এরই মধ্যে সব প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন। কাউন্সিল ভেন্যু রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন ও পার্শ্ববর্তী সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ঘিরে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।

শনিবার সকাল ১০টায় জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করবেন কাউন্সিলের প্রধান অতিথি বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। এ লক্ষ্যে ওইদিন সকাল ৯টা ২০ মিনিটে গুলশানের বাসভবন ‘ফিরোজা’ থেকে রওনা হবেন তিনি।

কাউন্সিলের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেন, ‘কাউন্সিলের প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে। কাউন্সিলকে সফল করতে গঠিত সকল উপ-কমিটি তাদের কার্যক্রম শতভাগ সম্পন্ন করেছে। সব মিলিয়ে শনিবারের জাতীয় সম্মেলন ও কাউন্সিল একটি যুগান্তকারী রাজনৈতিক ঘটনা হিসেবে ইতিহাসে স্থান পাবে।’

এ প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে সারা দেশে আট থেকে নয় হাজার ডেলিগেটস কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। সারা দেশ থেকে কাউন্সিলর ও ডেলিগেটসরা ইতোমধ্যে ঢাকায় পৌঁছে গেছেন। দেশের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা ও বিভিন্ন ইউনিট থেকে আগত নেতারা অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে ডেলিগেটস ও কাউন্সিলর কার্ড সংগ্রহ করেছেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বৃহস্পতিবার  বলেন, বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠানের জন্য আমাদেরকে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ব্যবহারের অনুমতি দেয়া হয়েছে।

কাউন্সিলে আগত ডেলিগেটসদের বসার জন্য সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ব্যবহার করা হবে জানিয়ে তিনি গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘কাউন্সিল ও সম্মেলনে বিদেশি মেহমান, সাংবাদিক, কাউন্সিলর, ডেলিগেটস ও নেতাকর্মীরা আসবেন। তাদের অধিকাংশের গাড়ি রয়েছে। এতো গাড়ি রাখার জায়গা তো দরকার। রাস্তায় রাখলে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হতে পারে।’

এ প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, ‘ডেলিগেটসদের বসার ব্যবস্থা করা এবং ডেলিগেটস ও নেতাকর্মীসহ সংশ্লিষ্টদের গাড়ি রাখাসহ অন্যান্য কাজে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ব্যবহার করা হবে। আর শিখা চিরন্তনের গেটটি ব্যবহার করা হবে তাদের গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য।’

জানা গেছে, বিএনপির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তন ছাড়াও এর সামনের প্রাঙ্গণ, পূর্ব দিকের সামনের সড়ক, সেমিনার হল, পেছনের মাঠ অর্থাৎ নতুন ভবনের সামনের মাঠও বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ইনস্টিটিউশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কেবল টেনিস মাঠটি ছাড়া আশপাশের পুরো জায়গাই বিএনপি ব্যবহার করতে পারবে।

সরেজমিনে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে গিয়ে দেখা যায়, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনকে ঘিরে কাউন্সিলের প্রস্তুতি চলছে। ইনস্টিটিউশন প্রাঙ্গণজুড়ে সামিয়ানা টাঙানোর কাজ চলছে। দলীয় নেতা-কর্মিরা বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে বসে রয়েছেন। আইইবি’র নতুন ভবনের সামনে উত্তরমুখী করে সম্মেলনের মঞ্চ তৈরির কাজ চলছে। মঞ্চের পাশের রয়েছে বড় বড় দুটি এসি। মঞ্চে আসন গ্রহণকারী অতিথিদের প্রচণ্ড গরমের হাত থেকে রক্ষা করতে এসব এসি ব্যবহার করা হবে বলে জানা গেছে।

কাউন্সিলের সাউন্ড সিস্টেমের দায়িত্বে রয়েছে ‘সুপার স্টার সাউন্ড সিস্টেম কোম্পানি। কোম্পানির স্বত্বাধিকারী আওলাদ হোসেন বলেন, কাউন্সিলের বক্তব্য সুষ্ঠূভাবে প্রচারের জন্য আমাদেরকে ৩৫টি মাইক লাগাতে বলা হয়েছে। দুই গেটসহ ইনস্টিটিউশনের ভেতরের অংশে এসব মাইক লাগানো হবে। কিছু মাইক পার্শ্ববর্তী সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দিকে মুখ করে লাগানো হবে।

মঞ্চের পাশ ঘেঁষে (টেনিস মাঠ সংলগ্ন) তৈরি করা হচ্ছে গণমাধ্যম কর্মিদের বসার স্থান। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের অংশ বিশেষে (ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন সংলগ্ন) চলছে খুঁটি লাগানোর কাজ।

টেনিস মাঠ সংলগ্ন ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনের পেছনের জায়গাটি রান্নার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। সেখানে খাঁচায় করে সারিবদ্ধভাবে মুরগি এনে রাখা হয়েছে। চলছে খাবার তৈরির কাজ। কাউন্সিল কাভার করতে আসা সাংবাদিকদের আপ্যায়নের জন্য পাশের দুইতলা বিশিষ্ট ভবনটির ‍দ্বিতীয় তলা ব্যবহার করা হবে বলে জানিয়েছেন আপ্যায়ন উপ-কমিটির সদস্য আব্দুল মান্নান।

ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের প্রধান গেইট দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করলেই হাতের বামে দেখা গেছে, ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) প্যাভিলিয়ন। কাউন্সিল উপলক্ষে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করবে তারা। এছাড়া মিলনায়তনে ঢোকার পথে হাতের বায়ে জিয়া স্মৃতি পাঠাগার ও জাতীয়তাবাদী প্রকাশনা সংস্থার বইয়ের স্টলের কাজ চলছে।

এর আগে, ২০০৯ সালের ৮ ডিসেম্বর রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বিএনপির সর্বশেষ পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়।