রাজাকারের ছেলে আওয়ামী প্রার্থী

0

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে আসন্ন  ইউপি নির্বাচনে চিহ্নিত এক রাজাকারের ছেলে। দলের স্থানীয় নেতাকর্মীদের অভিযোগ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী ছায়েদুল হক একক সিদ্ধান্তে ‘রাজাকার’ তাজুল ইসলামের ছেলে ফারুক মিয়াকে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী করা হয়েছে। এনিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী ও মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে। মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদাতা দলের প্রার্থী হিসেবে স্বাধীনতাবিরোধী একজনের সন্তানকে মেনে না নেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন তারা। দলের হরিপুর ইউনিয়নের নেতারা প্রার্থী বদলের জন্য কেন্দ্রীয় কমিটিতে চিঠি পাঠিয়েছেন বলে জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকার জানিয়েছেন। হরিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মো. দৌলত রেজা বলেন, “ফারুকের বাবা তাজুল ইসলাম ওরফে তাইজুদ্দিন একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে। স্থানীয় রাজাকারদের সঙ্গে তাজুল ইসলাম নানা অপকর্মে লিপ্ত ছিল। “অথচ মন্ত্রী দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই চিহ্নিত এ রাজাকারের ছেলেকে দলের মনোনয়ন দিয়েছেন। আমরা মন্ত্রীর দেওয়া এই মনোনয়নের বিরোধিতা করছি। কোনো রাজাকারের ছেলে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হতে পারে না।” হরিপুর ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. জামাল উদ্দিন বলেন, একাত্তরে চান্দুরার সাতগাঁওয়ের রাজাকার কমান্ডার আবদুর রহমানের নেতৃত্বে তাজুল হরিপুরসহ বিভিন্ন স্থানে অনেক বাড়িতে লুটপাট করেছে। “হেন কাজ নেই যা একাত্তরে তারা করেনি,” বলেন এই মুক্তিযোদ্ধা। তিনি বলেন, একাত্তরের ৭ ডিসেম্বর নাসিরনগর মুক্ত হওয়ার পর ১৪ ডিসেম্বর হরিপুর থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে ধরা পড়েন তাজুলসহ পাঁচজন। এরপর হরিপুর শ্মশানে গুলি চালিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার হারুন অর রশীদ এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, “আরেক রাজাকার আনজব আলী এখনও জীবিত আছে। সে তাইজুদ্দিনের ভাই।” আমরা মুক্তিযোদ্ধারা কোনোভাবেই চাই না যে মানুষ একাত্তর সালে মুক্তিকামী মানুষের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে তার সন্তান আওয়ামী লীগের টিকেট নিয়ে নির্বাচন করুক,” বলেন মুক্তিযোদ্ধা হারুন। আগামী ২৩ এপ্রিল অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ফারুক দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে আনা এই অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জড়িত। এতদিন আমাকে কেউ রাজাকারের ছেলে বলেনি।