রাজনীতি এবং শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান

0

রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন সময়ে জিয়াউর রহমান দেশে পুনরায় গণতন্ত্রায়ণের উদ্যোগ নেন। তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র চালুর সিদ্ধান্ত নেন। দেশের রাজনীতিতে প্রতিযোগিতা সৃষ্টির আভাস দিয়ে তিনি বলেন,
“I will make politics difficult for the politicians.”

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি আওয়ামীলীগ ও তার শরীকদলগুলোর রাজনীতিবিদদের জন্য কঠিন কোন বিষয় না হলেও বিএনপি’র রাজনীতিবিদদের জন্য সত্যি খুব কঠিন বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। যার অন্যতম কারণ শহীদ রাষ্ট্রপতি মেজর জেনারেল জিয়াউর রাহমান বীর উত্তম এর বহুদলীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পুনর্বাসন করার প্রতিদান স্বরূপ। হয়তো তাই এই কাঠিন্যতা থেকে মুক্তির প্রত্যাশায় স্বৈরতন্ত্র দানবীয় উপাখ্যানে ব্রত হওয়ার অভিপ্রায় খুঁজে বেড়ায়।

নির্বাচন ব্যবস্থা পুনর্বহাল এবং অবাধ রাজনৈতিক কর্মকান্ডের সুযোগ প্রদানের লক্ষ্যে জিয়াউর রহমান যত দ্রুত সম্ভব রাজনীতির গণতন্ত্রায়নে ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। এর প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে তিনি বাংলাদেশ কৃষক-শ্রমিক আওয়ামী লীগের আমলে নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দলগুলিকে তাদের কার্যক্রম পুনরুজ্জীবিত করতে পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। এইভাবে, তিনি সংবাদপত্রের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেন, সংবাদপত্রের মাধ্যমে তথ্যের অবাধ প্রবাহ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে দেশে গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে যোগদান করেন। ১৯৭৮ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে তিনি উপরাষ্ট্রপতি বিচারপতি আব্দুস সাত্তারকে প্রধান করে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল (জাগদল) প্রতিষ্ঠা করেন। ছয়টি রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে গঠিত জাতীয় ফ্রন্টের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এই নির্বাচনে তিনি ৭৬.৬৭% ভোট পেয়ে বিজয়ী হন এবং রাষ্ট্রপতির পদে নিয়োজিত থাকেন।

১৯৭৮ সালের ৩রা জুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জিয়াউর রহমান জয়লাভ করেন। এই নির্বাচনে মোট ১০ জন প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল। এখানে উল্লেখ্য যে, এ নির্বাচনে ১১ জন প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেন। ২ জনের মনোনয়নপত্র বাছাই এ বাদ পড়ায় বৈধভাবে মনোনীত প্রার্থীর সংখ্যা ৯ জন। ১ জন আপীল দাখিল করায় ও তাঁর আপীল গৃহীত হওয়ায় এবং কোন প্রার্থী প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করায় সর্বশেষ প্রতিদ্বন্দ্বীর সংখ্যা ১০ জন ছিল।
বিএনপি গঠন করার আগে ১৯৭৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল (জাগদল) নামে আরেকটি দল উপ-রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আব্দুস সাত্তারকে সভাপতি করে গঠিত হয়েছিল। ২৮শে আগস্ট ১৯৭৮ সালে নতুন দল গঠন করার লক্ষ্যে জাগদলের বর্ধিত সভায় ওই দলটি বিলুপ্ত ঘোষণার মাধ্যমে দলের এবং এর অঙ্গ সংগঠনের সকল সদস্য জিয়াউর রহমান ঘোষিত নতুন দলে যোগদানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তিনি রাষ্ট্রপতি থাকা অবস্থায় ১৯৭৯ সালে দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ২৯৮টি আসনের মধ্যে ২০৭টিতে জয়লাভ করে। নির্বাচনে অংশ নিয়ে আব্দুল মালেক উকিল এর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ ৩৯টি ও মিজানুর রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ ২টি আসনে জয়লাভ করে। এছাড়া জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল ৮টি, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি ১টি ও মুসলিম ডেমোক্রেটিক লীগ ২০টি আসনে জয়লাভ করে। শুধু তাই নয়, এই জিয়াউর রহমানের শাসন আমলেই জননেত্রী শেখ হাসিনা নিরাপদে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করার সুযোগ পান।

তাহলে দেখাই যাচ্ছে, ইতিহাস প্রমাণ করে যে, বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের গঠিত রাজনৈতিক দল বিএনপি কোন ভাবেই সেনা উত্থানের মধ্যে দিয়ে জন্ম লাভ করেনি। বরং দল গঠন এবং নির্বাচনে জয় লাভ করার পুরো প্রক্রিয়াটিই ছিল জনগণের ভোটের মাধ্যমেই। তাই সংবিধান বদলে ফেললেই ইতিহাস বদলে যায় না। জনগণের কাছে স্পষ্ট প্রতীয়মান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের গহন যোগ্যতা। কোন বহির্জাগতিক আর অন্তর্জাগতিক নীল নকশার ধৃষ্টতা বিএনপির জন্য উপযোগী নয়।

তবে, যে পরিবর্তিত সংবিধানের দোহাই দিয়ে আজকে আওয়ামীলীগ বিএনপি দলটিকে অবৈধ বলতে চাচ্ছে, ঠিক একই দোহাই দিয়ে তাহলে বলতেই হয়; স্বৈরশাসক এরশাদের জাতীয় পার্টি কি তাহলে বৈধ ? তিনিতো দীর্ঘ নয় বছর ক্ষমতায় ছিলেন। তার স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে আওয়ামীলীগ, বিএনপি জনগণের সাথে একাত্ম হয়েই আন্দোলন করেছিলো। অথচ সেই জাতীয় পার্টির সাথেই আজকে আওয়ামীলীগ সরকারের সহ অবস্থান। এরা কি কারণে বৈধ ? তাহলে কি আওয়ামীলীগের সঙ্গে থাকলেই বৈধ আর না থাকলেই অবৈধ ? যেন, জনগণের ভোট বিহীন প্রহসনের নির্বাচনে তাদের অবৈধ ভাবে ক্ষমতায় থাকাকে সমর্থন না দেয়াটাই বিএনপির জন্য দোষের হয়ে দাঁড়িয়েছে।

(ফাইজাল এস খানের ফেসবুক ওয়াল থেকে)