রাজধানীতে ডাকাত-ছিনতাইকারী দলের ১৬ সদস্যকে গ্রেপ্তার

0

জিসাফো ডেস্কঃ রাজধানীর রামপুরা ও রমনা এলাকা থেকে ডাকাত-ছিনতাইকারী দলের ১৬ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ। তারা নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে আসছিল।

শনিবার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানান ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার আবদুল বাতেন।

ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার বলেন, রমজান ও ঈদে ছিনতাই-ডাকাতিসহ অপরাধমূলক কর্মকা- ঠেকাতে অভিযানে নামে গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। এই অভিযানের অংশ হিসেবে রামপুরা বনশ্রী রোড থেকে গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত একটার দিকে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন- জুয়েল রানা, ইয়াসিন, বাদল, মোমেন আলী, শহিদুল ইসলাম, ফিরোজ, সৈয়দ মনিরুজ্জামান, মো. বালী ও সবুজ।

এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, দুটি গুলি, দুটি চাপাতি, চারটি ছুরি, একটি ওয়াকিটকি, তিনটি ডিবি লেখা জ্যাকেট, দুটি হ্যান্ডকাপ, দুটি বেতের লাঠি, একটি ব্যাগ ও দুটি ডিবি স্টিকার উদ্ধার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি মাইক্রোবাসসহ তিনটি গাড়িও জব্দ করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এই নয়জনকে ছাড়াও গতকাল রাতে ডিবি উত্তরের একটি দল হোটেল শেরাটনের দক্ষিণ পাশ থেকে সাতজনকে গ্রেপ্তার করে।

তারা হলেন- লিটন খান, বাবলু মিয়া ওরফে আকাশ, মনির হোসেন, সাইদুর রহমান, মো. মনির হোসেন, মাহমুদুল হাসান ও আফজাল হোসেন।

তাদের কাছ থেকে একটি মাইক্রোবাস, দুটি খেলনা পিস্তল, একটি ওয়াকিটকি, এক জোড়া হ্যান্ডকাফ, ১৭টি অব্যবহৃত মোবাইল সিম, লাঠিসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সদস্যদের বাইরে ভুয়া ডিবি বা পুলিশ সদস্যদের কাছে হাতকড়া বা পুলিশ পোশাক কীভাবে যায় এ প্রশ্নের জবাবে আবদুল বাতেন বলেন, খোলা বাজারে এসব পোশাক ও সরঞ্জাম কিনতে পাওয়া যায়। যারা বিক্রি করেন, তাদের সতর্ক করে বলা হয়েছে, পুলিশ সদস্যদের বাইরে যেন পোশাক ও সরঞ্জামাদি বিক্রি না করেন। এ বিষয়ে নীতিমালা প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

এসব ঘটনার সঙ্গে কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য জড়িত নন বলে জানান ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার আবদুল বাতেন।

রমনা এলাকায় গ্রেপ্তার সাতজন সম্পর্কে তিনি বলেন, তারা বিভিন্ন জায়গায় সোর্স নিয়োগ করতেন। কেউ ব্যাংক থেকে টাকা তুললে বা জমা দিতে এলে সোর্সের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করতেন। পরে টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যেতেন।

সবাইকে সতর্ক করে আবদুল বাতেন বলেন, কেউ বড় অঙ্কের অর্থ ব্যাংকে লেনদেন করলে যেন পুলিশের সহায়তা নেন।