যে কোন পরিস্থিতী মোকাবেলায় প্রস্তুত বিএনপি

0

জিসাফো ডেস্কঃ বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া অচিরেই জেলে যাচ্ছেন এমন গুঞ্জন এখন সর্বত্রই শোনা যাচ্ছে। এমন কী বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের মুখেও উচ্চারিত হচ্ছে। সাম্প্রতিক পরিস্থিতি মোকাবেলায় দুই মামলায় (জিয়া অরফানেজ এবং জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট) খালেদা জিয়ার সাজা হতে পারে এমন বদ্ধমূল ধারণা এখন দলের শীর্ষ স্থানীয় পর্যায়ের নেতাদের মনেও ঘুরপাক খাচ্ছে। ফলে বেগম জিয়া জেলে গেলে তখন বিএনপি কীভাবে এবং কার নেতৃত্বে চলবে এ নিয়েও শুরু হয়েছে নানা অপ্রকাশ্য গুঞ্জন।

এইতো পরিস্থিতি বিবেচনায় বুধবারই মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সরকার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, বেগম জিয়ার কারাগারে যাওয়ার মতো কোনো পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি। আর বেগম জিয়া কারাগারে গেলে এ দেশে কোনো নির্বাচন হবে না।
তবে রাজনীতির মাঠে নেতারা যাই বলুক না কেন, খালেদা জিয়ার জেলে যাওয়ার বিষয়টি একেবারেই উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিএনপির শীর্ষ নেতারা। কেননা, সরকারের মোটিভ আগেই আঁচ করতে পারছেন তারা।

দলীয় সূত্র থেকে জানা গেছে, খালেদা জিয়ার জেলে যাওয়ার বিষয়টি উড়িয়ে না দিয়ে এমন অঘটন ঘটলে দল কীভাবে চলবে এরই মধ্যে নেতারা সে ধরনের আগাম প্রস্তুতিও নিয়ে রাখছেন। সেই সময়ে ৫ সদস্যের একটা কমিটি করা হতে পারে যাদের সমন্বিত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দলের কার্যক্রম পরিচালিত হবে। দলে যাতে বিভক্তি না ঘটে সেজন্য ওই সময় দলের প্রতিনিধিত্ব করবে জিয়া পরিবারেরই কেউ না কেউ।
এ বিষয়ে পরামর্শ করতে সম্প্রতি বিএনপি সমর্থক এক বুদ্ধিজীবীর বাসায় দলের কয়েকজন নেতা ও থিঙ্কট্যাংকের কয়েক সদস্য বৈঠকও করেছেন। সেখানে ৫ সদস্যের একটি ‘আপদকালীন’ কমিটি করার কথা জানা গেছে।

ওই সূত্রে আরো জানায়, স্থায়ী কমিটির তিনজন সদস্য, একজন ভাইস চেয়ারম্যান, একজন উপদেষ্টা কিংবা প্রভাবশালী একজন যুগ্ম মহাসচিবের সমন্বয়ে পাঁচ সদস্যের ‘আপদকালীন’ ওই কমিটি করার বিষয়ে আলোচনা চলছে। যারা ওই সময় আন্দোলন হলে দলকে সঠিকভাবে নেতৃত্ব দিতে পারবেন।
দলের একটি সূত্রে জানা গেছে, কারাগারে যেতে হবে এমন প্রতিকূল বিষয় মাথায় রেখে এখন পরিকল্পনা সাজাচ্ছেন বেগম জিয়া। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় কমিটির শূন্যপদ পূরণ, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ, জেলা এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কমিটি গঠনের কাজও দ্রুত এগিয়ে নিতে কাজ করছেন। এর মধ্যে স্থায়ী কমিটির তিন শূন্যপদসহ ছাত্রবিষয়ক ও সহ-ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক, দুজনকে আন্তর্জাতিক সম্পাদক এবং দুজন বিশেষ সম্পাদক পদে নিয়োগের বিষয়টি প্রায় চূড়ান্ত।

শোনা যাচ্ছে মধ্য সারির নেতাদের সঙ্গে চেয়ারপারসন আগামীর পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলছেন বেশি। তার কারণ হিসাবে জানা গেছে দলের বেশিরভাগ জ্যেষ্ঠ নেতার ওপর তিনি এখন আর আস্থা রাখতে পারছেন না। অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতা এবং কেন্দ্রীয় কমিটির তরুণ ও মধ্য সারির নেতাদের বেগম জিয়া বলছেন, তোমাদের ওপর আস্থা আছে, আমি কারাগারে গেলে তোমাদেরকেই দলের জন্য কাজ করতে হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলের এক নেতা বলেন, ম্যাডামের ধারণা দলকে বিভক্ত করতে কয়েকজন নেতা সরকারের সঙ্গে আঁতাত করছেন। এদের মধ্যে স্থায়ী কমিটির দুজন নেতাকে সন্দেহের চোখে দেখছেন তিনি। কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতাকে পর্যবেক্ষণ করছেন।
সাজা হওয়ার পর বিএনপি চেয়ারপারসন রাজনীতিতে আগের মতো সক্রিয় থাকতে পারবেন কিনা তা নিয়েও শঙ্কায় আছেন তার আইনজীবীরা। কারণ রায়ে এমন কিছুও থাকতে পারে, যাতে তিনি রাজনীতিতে আর প্রত্যক্ষভাবে থাকতে পারবেন না।

এ বিষয়ে বিএনপির এক সিনিয়র নেতা বলেন, দূরদর্শিতা থাকলে সরকার সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মতো নেত্রীকে কারাগারে পাঠাবে না। আর যদি তাকে কারাগারে পাঠানো হয়ই, তার অনুপস্থিতিতে কীভাবে দল চলবে সেই পরিকল্পনা গ্রহণের মতো দূরদর্শিতাও বেগম জিয়ার আছে।
তিনি বলেন, সরকার কিংবা দলের ভেতরে কোনো নেতা যদি ভাবেন, বেগম জিয়া জেলে গেলে দলের কার্যক্রম স্থবির হয়ে যাবে কিংবা দলে বিভক্তি হতে পারে, তাদের বলব- ওয়ান ইলেভেন পরবর্তী সময় থেকে শিক্ষা নিন। তখন শত চেষ্টা করেও বিএনপিকে বিভক্ত করা যায়নি। সবাই খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ ছিলেন, এখনো আছেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন।

তবে এ বিষয়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছেন বেগম জিয়ার কারাগারে যাওয়ার মতো কোনো পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি। আর বেগম জিয়া কারাগারে গেলে এ দেশে নির্বাচন হবে না।
তিনি বলেন, খালেদা জিয়াকে মিথ্যা বা সাজানো মামলায় সাজা দিয়ে নির্বাচন দেয়া হলে তা কখনো সফল হতে দেয়া হবে না এবং দেশের মানুষ এমন প্রহসনের নির্বাচনে কোনো দিন অংশ নেবে না।
তিনি আরো বলেন, সরকারের এই নিল নকশা কখনো বাস্তবায়ন হবে না। দেশের মানুষ তা কোনোভাবেই মেনে নিবে না।