যুবলীগ নেতা মতিন সরকার :মাদক সাম্রাজ্যের এক কালো অধযায় ও বগুড়ার ত্রাস!

0

২০১২ সালের ২৪ আগস্ট যুবলীগের নেতা মতিনকে চামড়া গুদাম লেনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে ফেনসিডিল, বিয়ার, হেরোইন, বিদেশি চাকু, জুয়া খেলার সরঞ্জাম, ১০ লাখ টাকাসহ গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। পরদিন র‍্যাবের তৎকালীন অধিনায়কের অপসারণ দাবিতে শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে যুবলীগ।

তখন পুলিশ জানিয়েছিল, মতিন শহরের শীর্ষ সন্ত্রাসী। তাঁর বিরুদ্ধে সদর থানায় ছয়টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ২০০১ সালের একটি অস্ত্র মামলায় তাঁর ২৭ বছরের কারাদণ্ড হয়েছে। এ ছাড়া ২০০৬ সালে তিনটি, ২০০৩ সালে একটি এবং ২০০১ সালেও দুটি মামলা হয়। এ পর্যন্ত পুলিশ তাঁকে চারবার, র‍্যাব দুবার এবং যৌথ বাহিনী একবার গ্রেপ্তার করেছে।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, ১৯৯৮ সালের ১৮ জুন নুরানী মোড়ে খুন হন গোলাম রসুল। এই হত্যাকাণ্ডে মতিনের নাম আসে। ২০০১ সালে চকসূত্রাপুরে অভ্যন্তরীণ কোন্দলে খুন হন মতিনের ঘনিষ্ঠ মুন্সি উজ্জ্বল। মাটিঢালি বাণিজ্য মেলার মাঠে ২০১১ সালে খুন হন যুবলীগের নেতা শফিক চৌধুরী। এ ঘটনায়ও মতিনের নাম আসে।

২০১২ সালের ২ ডিসেম্বর যুবদলের নেতা ইমরান হত্যার প্রধান আসামি ছিলেন মতিন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পুলিশ তাঁকে অভিযুক্ত করেনি।

এলাকার বাসিন্দারা জানান, মতিনকে রাজনীতিতে আনেন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল আলম। কিন্তু তিনি এখন তাঁর পক্ষে নেই। মতিন এখন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মমতাজ উদ্দিনের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত।

জানা গেছে, মজিবর রহমানের সাত সন্তানের মধ্যে ছয় জন মাদক ব্যবসা ও একজন ভূমি দস্যুতার সঙ্গে জড়িত। সাত ভাইয়ের বড় ভাই মতিন ভূমিদস্যু হিসেবে পরিচিত। দ্বিতীয় ভাই মতিন এখন আত্মগোপনে থাকলেও তার মাদক ব্যবসা দেখাশোনা করছে ‘সুইপার সোহেল’ নামের এক যুবক। তৃতীয় ভাই পুটু সরকার হেরোইনের কারবারি হিসেবে এলাকায় পরিচিত। চতুর্থ ভাই সোহাগ সবধরনের মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। পঞ্চম ভাই ঝুমুর ও ষষ্ঠ ভাই ওমর ইয়াবার ব্যবসা করে। এছাড়া ছোট ভাই তুফানের মূল ব্যবসা ছিল ফেনসিডিল। এরা সবাই যুবলীগ ও শ্রমিক লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত। মাদক ব্যবসা ছাড়াও জুয়া, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধে জড়িত তারা। তুফান গ্রেফতার হওয়ার পর মতিনসহ ও অন্যরা আত্মগোপন করেছে। তবে তাদের মাদক ব্যবসা বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।