“ম্যায় ইন্ডীয়ান হু, মেরা ভারত মহান হ্যায়”- একটি হতভাগ্য জাতির আশু লজ্জার ইতিকথা ও কিছু প্রশ্ন

0

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার পিতা সপরিবারে নির্মমভাবে নিহত হওয়ার পর ১৯৭৫ থেকে ১৯৮১ পর্যন্ত প্রায় ছয় বছর ভারতের রাজনৈতিক আশ্রয়ে ছিলেন। ইন্দিরা গান্ধীর সরকার তাকে এবং তার ছোট বোন শেখ রেহানাকে রেখেছিলেন বিশেষ তত্ত¡াবধানে।ভারতীয় নাগরিকদের সাথে তাদের সামাজিক দেখা-সাক্ষাতের ওপর কঠোর বিধি নিষেধ আরোপ করা হয়েছিল। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করে থাকেন, সর্বক্ষণ তাদের ভারতের স্বার্থের দিকগুলো বোঝানো হয়েছে এবং বাংলাদেশের যেসব রাজনীতিককে ভারত তার স্বার্থের অনুকূল বিবেচনা করে না তাদের বিরুদ্ধে শেখ মুজিবের দুই কন্যার মন বিষিয়ে দেয়া হয়েছে প্রায় ছয় বছর ধরে। কিন্তু আর কী করতেন শেখ হাসিনা? এমনও কি হতে পারে যে, নাৎসিদের ক্ষমতাপ্রাপ্তি ও ক্ষমতা স্থায়ী করার কলা-কৌশল সম্বন্ধেই পড়ছিলেন অথবা সে বিষয়ে কারো পরামর্শ শুনেছিলেন তিনি। তার বিভিন্ন সময়ে দেয়া উক্তিগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তিনি প্রকৃতই গোয়েবলসের প্রচার দর্শন বিশ্বাস করতেন। তার কর্মকান্ডের দিকে দৃষ্টিপাত করলে ভারতীয় স্বার্থ বাস্তবায়নের প্রতিচ্ছবি পরিলক্ষিত হয়।

জন্মক্ষণেই বাংলাদেশকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী চিহ্নিত করেছিলেন ‘এক কৌশলগত অসঙ্গতি’ রূপে। এ অসঙ্গতি দ্বিমাত্রিক: রাজনৈতিক এবং নিরাপত্তা বিষয়ক। রাজনৈতিকভাবে বাংলাদেশের জন্মকে তখন ভারতীয় নেতৃবৃন্দের অনেকেই দেখেছেন সন্দেহের চোখে। নেহেরু-গান্ধীর একজাতিতত্তে¡র ভারতবর্ষ বিভক্ত হয় জিন্নাহর দ্বি-জাতিতত্তে¡র ভিত্তিতে। শেখ মুজিবের বাঙালি জাতীয়তাবাদ তাকে ত্রিভঙ্গ মুরীর করে তোলে এবং সূচনা হয় ভারতের বিভিন্ন অংশে, বিশষ করে উত্তর-পূর্বাংশে বিদ্যমান বিভন্ন জাতিসত্তার ভিত্তিতে, বহুজাতিক ভারতকে খন্ডচ্ছিন্ন করার অশুভ প্রক্রিয়া। ১৯৭১-এর ডিসেম্বরে ভারতীয় নেতৃত্বের দ্বিমুখিতা, দ্বিধা ও সংশয় সম্পর্কে প্রফেসর এনায়েতুর রহিম ও জয়সী এল রহিম ‘প্রবন্ধে লিখেন: ‘চিরপ্রতিদ্ব›দ্বী পাকিস্তানের একটি পাখা ছেঁটে দেবার সমূহ সম্ভাবনা ভারতের কিছুসংখ্যক নেতার নিকট আকর্ষণীয় হয়ে উঠলেও তারা সচেতন ছিলেন যে, পাকিস্তানকে ভেঙ্গে দেয়া ভারত ইউনিয়নের খন্ডচ্ছিন্ন হওয়ার পথ প্রশস্ত করবে এবং সঙ্গে সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ ও নিকটবর্তী এলাকার রাজনীতিতে বামপন্থীদের প্রভাবকে করবে আকাশচুম্বি এবং তাও বাংলাদেশীদের অতি প্রগতিশীল আন্দোলনের সহায়তায়।তাইতো ইন্দিরা গান্ধী চেয়েছিলেন রাজনৈতিক দিক থেকে না হলেও অর্থনীতিক দিক থেকে বাংলাদেশ ভারতের সাথে সংযুক্ত হোক। এই প্রচেষ্টা এখনও অব্যাহত রয়েছে। অন্য কথায়, তাদের সন্দেহ অমূলক ছিল না। বাংলাদেশের পথেই ভারতের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের সাত বোনে জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের দাবিতে যে সংগ্রাম চলছে এবং গত প্রায় সিকি শতাব্দীব্যাপী পশ্চিম বঙ্গ ও আসামে বাম রাজনীতির যে প্রভাব তা তারই প্রমাণ।নিরাপত্তার দিক থেকেও বাংলাদেশ ভারতীয় নেতৃবৃন্দের চোখে এক প্রশ্নবোধক চিহ্ন হয়ে পড়ে।জন্মক্ষণেই বাংলাদেশকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী চিহ্নিত করেছিলেন ‘এক কৌশলগত অসঙ্গতি’ রূপে। এ অসঙ্গতি দ্বিমাত্রিক: রাজনৈতিক এবং নিরাপত্তা বিষয়ক। রাজনৈতিকভাবে বাংলাদেশের জন্মকে তখন ভারতীয় নেতৃবৃন্দের অনেকেই দেখেছেন সন্দেহের চোখে। নেহেরু-গান্ধীর একজাতিতত্তে¡র ভারতবর্ষ বিভক্ত হয় জিন্নাহর দ্বি-জাতিতত্তে¡র ভিত্তিতে। শেখ মুজিবের বাঙালি জাতীয়তাবাদ তাকে ত্রিভঙ্গ মুরীর করে তোলে এবং সূচনা হয় ভারতের বিভিন্ন অংশে, বিশষ করে উত্তর-পূর্বাংশে বিদ্যমান বিভন্ন জাতিসত্তার ভিত্তিতে, বহুজাতিক ভারতকে খন্ডচ্ছিন্ন করার অশুভ প্রক্রিয়া। ১৯৭১-এর ডিসেম্বরে ভারতীয় নেতৃত্বের দ্বিমুখিতা, দ্বিধা ও সংশয় সম্পর্কে প্রফেসর এনায়েতুর রহিম ও জয়সী এল রহিম ‘প্রবন্ধে লিখেন: ‘চিরপ্রতিদ্ব›দ্বী পাকিস্তানের একটি পাখা ছেঁটে দেবার সমূহ সম্ভাবনা ভারতের কিছুসংখ্যক নেতার নিকট আকর্ষণীয় হয়ে উঠলেও তারা সচেতন ছিলেন যে, পাকিস্তানকে ভেঙ্গে দেয়া ভারত ইউনিয়নের খন্ডচ্ছিন্ন হওয়ার পথ প্রশস্ত করবে এবং সঙ্গে সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ ও নিকটবর্তী এলাকার রাজনীতিতে বামপন্থীদের প্রভাবকে করবে আকাশচুম্বি এবং তাও বাংলাদেশীদের অতি প্রগতিশীল আন্দোলনের সহায়তায়।তাইতো ইন্দিরা গান্ধী চেয়েছিলেন রাজনৈতিক দিক থেকে না হলেও অর্থনীতিক দিক থেকে বাংলাদেশ ভারতের সাথে সংযুক্ত হোক। এই প্রচেষ্টা এখনও অব্যাহত রয়েছে। অন্য কথায়, তাদের সন্দেহ অমূলক ছিল না। বাংলাদেশের পথেই ভারতের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের সাত বোনে জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের দাবিতে যে সংগ্রাম চলছে এবং গত প্রায় সিকি শতাব্দীব্যাপী পশ্চিম বঙ্গ ও আসামে বাম রাজনীতির যে প্রভাব তা তারই প্রমাণ।নিরাপত্তার দিক থেকেও বাংলাদেশ ভারতীয় নেতৃবৃন্দের চোখে এক প্রশ্নবোধক চিহ্ন হয়ে পড়ে।

এ সকল কারনে ভারতের মুল লক্ষ্য বাংলাদেশ কে শিক্ষা দিক্ষা, অর্থনীতি ,শিল্প সংস্কৃতি তথা জাতীর মেরুদন্ড কে ভেঙ্গে দিয়ে অকার্যকর একটি রাস্ট্রে পরিনত করে ২য় সিকিমে পরিনত করা। সংগত কারনেই কিছু প্রশ্ন জাগে , আর সেই প্রশ্নের উত্তর খুজে ফিরি জাতির কাছে। এই হতভাগা জাতির কাছে।

১। পূর্বে বাংলাদেশ এবং পাকিস্তান থেকে ভারতে গমনকারী হিন্দুদের ভারতে ৭ বছর অবস্থান করার পর নাগরিকত্ব প্রদান করা হত । কিন্তু অতি সম্প্রতি ভারত ঘোষণা করে যে, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান থেকে ভারতে গমনকারী হিন্দু , বৌদ্ধ ও খৃীষ্টানদের চাহিবা মাত্র নাগরিকত্ব প্রদান করা হবে । হঠাৎ ভারতের এই পলিসি পরিবর্তনের কারণ কি ?

২। বর্তমান পরিস্থিতির কারনে বাংলাদেশে নিরাপত্তা হুমকির অজুহাতে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল ও কলেজ সমূহ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে । অন্যদিকে ভারত ঘোষণা করেছে তারা বাংলাদেশী ছাত্রদের বৃত্তি দিয়ে ভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ দিবে । ভারতের এই ঘোষণার পিছনে উদ্দেশ্য কি ?

৩। বাংলাদেশে চাঞ্চল্যকর ঘটনায় আটককৃত জঙ্গীদের তদন্তের আগেই ক্রসফায়ারের নামে হত্যা করা হচ্ছে । অপরাধের প্রকৃত ঘটনা প্রকাশিত হচ্ছে না এবং প্রমান নষ্ট করে ফেলা হচ্ছে ।এর কারণ কি ?

৪। বাংলাদেশে জেএমবি”র উত্থান একটি ভারতীয় প্রকল্প ছিল । বর্তমানে ভারত জেএমবি”র সাথে কি সম্পর্ক রাখে ?

৫। ২০০১ থেকে ২০০৬ সালে বিএনপি শাসনামলে জেএমবি অপারেশন শুরু করে । সেই সময় পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে জেএমবি এর ‘সাপোর্ট বেজ’ ছিল। এই ‘সাপোর্ট বেজ’ এর বর্তমান অবস্থা কি ?

৬। আওয়ামীলীগ নেতা মীর্জা আজম এর আপন ভগ্নিপতি এবং জেএমবি”র প্রধান শায়খ আব্দুর রহমানের ছেলে জঙ্গী মামলায় পুলিশ কর্তক আটক হয় এবং তার নামে মামলা হয় । গত ৯ বছর ধরে এই মামলা নিস্পত্তি না হয়ে ঝুলে আছে কেন?

৭। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বলেছেন, “দিল্লি থেকে বাংলায় সন্ত্রাস রপ্তানী করা হচ্ছে” – এই উক্তি কি ইঙ্গিত বহন করে ?

৮। জঙ্গী উত্থান ও বিদেশী নাগরিক হত্যার কারণে বিদেশী বিনিয়োগকারী এবং গার্মেন্টস এর সম্মানিত বায়ারগণ বাংলাদেশে আসতে অনিচ্ছা প্রকাশ করছে । পাশাপাশি ভারতে সাম্প্রতিক সময়ে গার্মেন্টস শিল্প গড়ে তোলার হিড়িক পড়ে গেছে – এর পিছনের কারণ কি ?

হয়ত আবারো পলাশীর প্রন্তরের সেই ২৩ জুন ফিরে আসবে , একই দিনে জন্ম নেয়া বর্তমানে অবৈধ ভাবে ক্ষমতা দখলকারী শেখ হাসিনার দল আওয়ামীলীগ। বাস্তবায়িত হবে ইন্দিরা-মুজিব চুক্তির মাধ্যমে বাঙালী জাতির দ্বাসত্ব ও পরাধীনতার নতুন সূর্য। হয়ত আমাদের কোনো একদিন বলতে হবে – “ম্যায় ইন্ডীয়ান হু, মেরা ভারত মহান হ্যায়”