মে দিবস কী, জানেন না শ্রমিক নেতারাও

0

জীবিকার তাগিদে মে দিবসেও কাজ করছেন শ্রমিকরা।

ইউছুফ আলী মোল্লা। ট্যাক্সি ক্যাব শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি। বড় ব্যানার ও কিছু সমর্থক ও সদস্যদের নিয়ে প্রেসক্লাবের সামনে আসেন মিছিল ও র‌্যালি করতে। একটি সংগঠনের সভাপতি হিসেবে মে দিবস কী জানতে চাইলে একটু হেসে বলেন, এত কিছু বুঝি না। তবে মে দিবস মানে দাবি আদায়ের দিন। এজন্য তারা তাদের দুটি দাবি নিয়ে প্রেসক্লাবের সামনে জমায়েত হয়েছেন। ঢাকা মহানগরীতে ট্যাক্সি ক্যাব পার্কিং ও ড্রাইভারদের আয় থেকে দায় শোধ প্রকল্পের মাধ্যমে ক্যাব বিতরণের দাবি তাদের। তাছাড়া পুলিশ এদিন তাদের বাধা দেন না।

মে দিবস কী। শ্রম দিবসের এই দিনে জানতে চাওয়া হয়েছিল শ্রমজীবীদের কাছে। তাদের অনেকেই জানেন না এ দিবসটি কী। আবার কেউ কেউ জানেন শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের দিন হিসেবে। কিন্তু জেনে কি লাভ উল্টো জানতে চান তারা। কাজ না করলে কেউ খেতে দেবে? কাজ করেই তো খেতে হবে। বেঁচে থাকতে হলে কাজ করেই খেতে হবে। তাই মে দিবসেও চলে তাদের জীবিকার সংগ্রাম।

আসলাম শেখ, মহসিন আলী ও দুলাল হোসেনসহ কয়েকজন কাজ করছিলেন রাজধানীর মোহাম্মদপুরের হুমায়ুন রোডের সড়ক সংস্কারে। জানতে চাইলাম, আজ তো মে দিবস। শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের দিন। আজও কাজ করছেন? মহসিন বললেন, জানি আজ মে দিবস। শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে অনেক কথা হয়। কিন্তু আমি যদি কাজ না করি আমাকে আপনি খাওয়াবেন? পাল্টা প্রশ্ন করেন তিনি। তার মতে মিছিল-মিটিং করে লাভ নেই। কাজ করেই খেতে হবে। মা, স্ত্রী ও এক সন্তানসহ চারজনের সংসার। কাজ না করলে না খেয়ে থাকতে হবে সবার।

খাজা টায়ার অ্যান্ড ব্যাটারি নামে মোহাম্মদপুরের তাজমহল রোডের একটি গ্যারেজে কাজ করেন হাফিজুর। বয়স ১৪-১৫ বছরের মতো। মে দিবস কী জানতে চাইলে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে, উল্টো জানতে চান- এটা আবার কী? বাড়ি রংপুরে। আদাবরের শেখের টেকে বোনের বাসায় থাকেন। কখনও মালিকের বাসায়ও থাকেন। মে দিবসেও অন্যান্য দিনের মতো গ্যারেজ খুলে কাজ শুরু করেন হাফিজুর। বাবা নেই। কাজ না করলে কে খাওয়াবে।

গাবতলী থেকে সদরঘাটগামী যাত্রীবাহী বাসের হেলপার শাহজাহান আলী। বয়স ২০-২২ বছর। মে দিবসেও কাজ করছেন। মে দিবস কী জানতে চাইলে বলেন, এটা জেনে লাভ কি! দিন শেষে দুইশ’ টাকা পাবেন সেটাই লাভ। তাকেও মিছিলে যেতে বলেছিলেন অনেক সহকর্মী। কিন্তু তার এসবের প্রতি কোনও আগ্রহ নেই। বলেন, এগুলো করে নেতারাই লাভবান হন। শ্রমিকদের কিছুই হয় না।

দিনমজুর নুরুল ইসলাম। আগে নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করতেন। এখন রিকশা চালান। বাড়ি ভোলার সদরেই। একমাত্র ছেলে কলেজে পড়েন। এলাকায় দিনমজুরি করতে লজ্জা লাগে। এজন্য ঢাকায় এসে কাজ করেন। কল্যাণপুর পোড়া বস্তিতে থাকেন। কিছু আয়-রোজগার করে তিন-চার মাস পর বাড়ি যান। গিয়ে কয়েকদিন থেকে আবার ঢাকায় আসেন। তিনিও জানেন না মে দিবস কী। তারও একই বক্তব্য- জেনে কি হবে!

মিরপুর লিবার্টি গার্মেন্টে কাজ করেন মরিয়ম ও লিপি। মে দিবসের আন্দোলনে অন্যদের সঙ্গে অংশ নিতে গিয়েছিলেন প্রেসক্লাবের সামনে। মে দিবস কী জানতে চাইলে তারা বলেন, নেতারা তাদের অধিকার নিয়ে কথা বলেন। নেতারা বলেছেন বলেই প্রেসক্লাবে এসেছেন তারা। ভাড়া বাসে আবার ফিরবেন মিরপুরে।

একইভাবে প্রেসক্লাবের সামনে মিছিলে যোগ দিতে মহাখালী থেকে এসেছিলেন পরিবহন শ্রমিক নয়ন মিয়া। তিনিও জানেন মে দিবস মানে দাবি আদায়ের জন্য একটি দিন। যেদিন পুলিশ কিংবা অন্য কেউ এ আন্দোলনে বাধা দেবেন না। মে দিবস সম্পর্কে এর বেশি কিছু জানেন না তিনি।