মেয়র অধ্যাপক এম.এ মান্নান পুনরায় শ্যোন এরেস্ট

0

জিসাফো ডেস্কঃ গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচিত মেয়র অধ্যাপক এম.এ মান্নানের বিরুদ্ধে সকল মামলায় জামিন বহাল থাকার পরেও আজ পুনরায় ২০১৪ সালের একটি চাঁদাবাজির মামলা দিয়ে তাকে শ্যোন এরেস্ট দেখানো হয়েছে।

উচ্চ আদালত থেকে জামিন হওয়ার ২৪ ঘন্টার মধ্যেই কারারুদ্ধ গাজীপুর সিটিকরপোরেশনের সাময়িক বরখাস্ত হওয়া মেয়র অধ্যাপক এম এ মান্নানের বিরুদ্ধে ২৮ নম্বর মামলায়  গ্রেফতারী পরোয়ানা দিয়েছে  নিম্ন আদালত।

শুক্রবার গাজীপুরের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত আদেশ দেন। আদালতের আদেশে নতুন মামলার গ্রেপ্তারী পরোয়ানা কারাাগরে চলে যাবে। ফলে অধ্যাপক মান্নান আর এখন মুক্তি পাচ্ছেন না।

গাজীপুর আদালতের পরিদর্শক মো. রবিউল ইসলাম জানান, টঙ্গী শিলমন এলাকার মোঃ রমিজ উদ্দিন বৃহস্পতিবার রাতে অধ্যাপক এম এ মান্নানসহ ৭ জনের নামে এবং অজ্ঞাত আরো ২-৩ জনের বিরুদ্ধে জয়দেবপুর থানায় চাঁদাবাজি ও মারধরের অভিযোগে মামলা করেন। শুক্রবার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কারবন্দি মান্নানকে গ্রেপ্তার দেখাতে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আবেদন করেন। আদালতের বিচারক মো: ইলিয়াস রহমান আসামি অধ্যাপক এম এ মান্নানকে গ্রেপ্তারের আদেশ দেন।

এদিকে বৃহস্পতিবার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের সাময়িক বরখাস্তকৃত মেয়র অধ্যাপক এমএ মান্নানকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন আপিল বিভাগ বহাল রাখেন। ফলে কারামুক্তির অপেক্ষায় ছিলেন মেয়র মান্নান।

এজাহার সূত্রে জানা গেছে, বাদি মোঃ রজিম উদ্দিন টঙ্গী শিল্প এলাকায় তার নিজ জমিতে কারখানা করার জন্য ‘এনওসি’ সার্টিফিকেটের (অনাপত্তি সনদের) জন্য গাজীপুর সিটি মেয়র অধ্যাপক এমএ মান্নানের কাছে যোগাযোগ করেন। এ প্রেক্ষিতে ২০১৪ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর বাদি তার কাগজপত্রসহ মেয়রের কার্যালয়ে যান। এসময় মেয়রের কার্যালয়ের একটি রুমে নিয়ে মেয়র মান্নান তার কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দিলে তাকে কারখানা করতে দিবে না বলে হুমকি দেয়া হয়। দাবিকৃত চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে অধ্যাপক এম এ মান্নানের হুকুমে ও নির্দেশে অপরাপর আসামি মেয়রের এপিএস মোঃ বিল্লাল হোসেন, মোঃ রইচ উদ্দিন, আরিফ হাওলাদার, মোঃ সালাউদ্দিন, মোঃ আমিনুল ইসলাম লিটু ও মোঃ কাওসারসহ অজ্ঞাতনামা আরো ২-৩ জন তাকে এলোপাতারি মারধর করে। এক পর্যায়ে তিনি ডাক-চিৎকার করলে অধ্যাপক মান্নান তার গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করে। এসময় অন্যান্য আসামিরা তার কাছ থেকে নগদ ৫৫ হাজার টাকা ও মোবাইল সেট ছিনিয়ে নেয়। আর চাঁদা না দিলে তাকে হত্যা করে বস্তায় ভরে নদীতে ফেলে দিবে বলে হুমকি দেয়। এ মামলায় অধ্যাপক মান্নানসহ ৭ জনকে নামে এবং অজ্ঞাত আরো ২-৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।

এদিকে সিটি কর্পোরেশনের ত্রাণ ও দরিদ্র তহবিলের টাকা আত্মসাতের দুদকের মামলায় ১৯ জুন মেয়র মান্নানকে সব শেষ গ্রেফতার দেখানো হয়। বৃহস্পতিবার এ মামলায় তার জামিন সংক্রান্ত হাইকোর্টের দেয়া আদেশ আপিল বিভাগ বহাল রাখেন।

গাজীপুরে মেয়র মান্নানের আইনজীবী ড; মো: শহীদুজ্জামান জানান, যাত্রীবাহীবাসে পেট্রলবোমা হামলার মামলায় গত বছরের ১১ ফেব্রæয়ারি সন্ধ্যায় মেয়র এম এ মান্নানকে ঢাকার বারিধারার বাসভবন থেকে গ্রেফতার করা হয়। ২২ মামলায় জামিনের পর হাইকোর্ট থেকে জামিন লাভের পর চলতি বছরের ২ মার্চ তিনি কারা মুক্ত হন। এপ্রিল মাসে তিনি মেয়র পদ ফিরে পান। এ অবস্থায় চলতি বছর ১৫ এপ্রিল এমএ মান্নানকে ফের নাশকতার মামলায় গ্রেফতার করে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী। পরে তাকে ফের বরখাস্ত করা হয়। গত ১৫ এপ্রিল থেকে তিনি কারাগারে আছেন। এ নিয়ে তার বিরুদ্ধে মোট ২৮টি মামলা হয়েছে।

এদিকে উচ্চ আদালত থেকে জামিন হওয়ার পর পূর্বের ঘটনায় নতুন মামলা দায়ের ও নতুন মামলায় গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী নিয়ে আইনী জটিলতা দেখা দিয়েছে। আইনজীবীরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে আটক আসামীর উচ্চ আদালতে জামিন হওয়ার পর নতুন মামলা রুজু ও  নিম্ন আদালত কর্তৃক গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী কোন আইনী সমস্যার সৃষ্টি করেছে কিনা তার সিদ্ধান্ত দিবে উচ্চ আদালত।