মেধাবীদের করুন অবস্থা >> কোনো রুমে ঠাঁই নাই গণরুমেই ঠাঁই চাই

0

জিসাফো ডেস্কঃ হাফিজুর মোল্লার কথা নিশ্চয়ই মনে আছে সবার। ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার পূর্ব শ্যামপুর গ্রামের দরিদ্র অটোরিকশাচালক ইসহাক মোল্লা ও হালিমা বেগম দম্পতির একমাত্র সন্তান ১৯ বছরের এই মেধাবী তরুণ একরাশ স্বপ্ন নিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ছাত্রলীগের হল শাখার সাধারণ সম্পাদক দিদার মুহাম্মদ নিজামুল ইসলামের মাধ্যমে ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষে মার্কেটিং বিভাগে ভর্তি হওয়া হাফিজুরের ঠাঁই হয়েছিল সলিমুল্লাহ মুসলিম হলে। সিট সংকটে তাকে থাকতে হতো ফ্লোরে। শীতের কারণে খুব দ্রুতই তিনি আক্রান্ত হন নিউমোনিয়া ও টাইফয়েডে। ছাত্রলীগের নেতাদের নির্দেশে এ অবস্থাতেও চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি ‘গেস্টরুম করতে’ বাধ্য হন হাফিজুর। র‌্যাগিংয়ের এই ধকল সহ্য করতে পারেননি তিনি। পরদিন গ্রামের বাড়ি চলে যেতে হয় তাকে। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। চিকিৎসকদের উন্নত চিকিৎসার পরামর্শে তার বাবা-মা আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে টাকা ধার করে হাফিজুরকে নিয়ে রওনা হন ঢাকার দিকে। কিন্তু বাবা-মাকে শূন্য করে ঢাকা পেঁৗছানোর আগেই চিরতরে না ফেরার দেশে চলে যান তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া প্রথম বর্ষের অসংখ্য শিক্ষার্থী তীব্র আবাসন সংকটের কারণে ধরনা দেন ছাত্রনেতাদের কাছে। হল পর্যায়ের ছাত্রনেতারা তাদের হলে তোলার বিনিময়ে নিজ নিজ গ্রুপের কাজে লাগান, পেশিশক্তি বাড়ান। জোর করে মিছিল-মিটিংয়েও নেন। মাথা গোঁজার ঠাঁই পেতে বাধ্য হয়েই এসব করেন শিক্ষার্থীরা। এ চিত্র দীর্ঘদিনের। হাফিজুরের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে এর নিষ্ঠুর দিক উঠে এসেছে সবার সামনে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের প্রথম বর্ষের ছাত্র আবদুর রশীদ ভূঁইয়া বলেন, ‘হলে সিট পেতে বহুদিন ছাত্রনেতাদের পেছনে ছুটেছি। বেশিরভাগ হলেই প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষে কোনো আসন মেলে না। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ, দয়া করে একটু ঠাঁই দিন আমাদের। আমরা আপনাদেরই সন্তান, কোনোমতে পড়াশোনা করার জায়গাটা দিন।’ রোকেয়া হলে সংযুক্ত ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্রী তাবাসসুম হাসান মৌ বলেন, ‘মেয়েদের হলে সিট ক্রাইসিস আরও বেশি। গাদাগাদি ঠাসাঠাসি করে থাকায় রাতে ভালো ঘুমও হয় না। সকালে ক্লাসে গেলেও মনোযোগ থাকে না।’

গণরুম রাজনীতির শিকার নিরুপায় শিক্ষার্থীরা: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো হলেই দ্বিতীয় বা তৃতীয় বর্ষে ওঠার আগে আসন মেলে না। শুধু নতুন অসাম্প্রদায়িক হল হিসেবে খ্যাত বিজয় একাত্তর হলে আসন মিলত প্রথমবর্ষ থেকেই। কিন্তু এবার সেখানকার গেস্ট রুমেও গণরুমের ‘শুভ উদ্বোধন’ হয়েছে। মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের অর্থনৈতিক কারণেই অবস্থান নিতে হয় ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনের নিয়ন্ত্রণাধীন এসব গণরুমগুলোতে। প্রতিটি হলেই এমন কয়েকটি রুম রয়েছে, যেখানে মূলত প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা ঢালাও বিছানা পেতে থাকেন। বৈধ দ্বৈতাবাসিক আট শিক্ষার্থী থাকতে পারেন অর্থাৎ চারটি বেড রয়েছে এমন একেকটি রুমকে গণরুমে পরিণত করা হয়। একেকটি গণরুমে গাদাগাদি করে থাকেন ৩০ থেকে ৪০ জন শিক্ষার্থী। স্যার এ এফ রহমান হলে চারটি, হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলে ১০টি, মাস্টারদা সূর্যসেন হলে ছয়টি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে দুটি, জগন্নাথ হলে তিনটি, পল্লীকবি জসীম উদ্দীন হলে পাঁচটি, শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলে পাঁচটি এবং মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলে ছয়টি এ ধরনের গণরুম রয়েছে।

একাধিক শিক্ষার্থী জানান, গণরুমের প্রত্যেক ছাত্রকেই কোনো না কোনো রাজনৈতিক গ্রুপের অধীনে থাকতে হয়। দিনে তাদের রাজনৈতিক কার্যক্রমে অংশ নিতে হয়। আর রাতে একটি নির্দিষ্ট সময়ে গণরুমের প্রত্যেককেই সেখানে উপস্থিত থাকতে হয়। সশরীরে তাদের বক্তব্য ও নির্দেশনা জানতে হয়।

গণরুমের বাস্তবতা স্বীকার করে উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সংখ্যা ৩৫ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। তাদের মধ্যে মাত্র এক-তৃতীয়াংশকে আমরা আবাসিক হলে আসন দিতে পারছি। বেশিরভাগ শিক্ষার্থীরই ঢাকায় থাকার মতো স্থান নেই। নিরুপায় হয়েই তাদের গণরুম, হলের বারান্দাসহ বিভিন্ন স্থানে থাকতে হচ্ছে কষ্ট করে।’

সূর্যসেন হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল বলেন, ‘ছাত্রনেতাদের ধরে সাধারণ শিক্ষার্থীদের হলে উঠতে হয়, এ বাস্তবতা অস্বীকার করে লাভ নেই। আবাসিক সংকটের কারণে প্রথম বর্ষ থেকেই কাউকে সিট দিতে পারি না। তারা তাই বিকল্প পথ খোঁজে। তবে হল প্রশাসনের কাছেও কোনো ছাত্র কোনো সমস্যা নিয়ে এলে অবশ্যই তার সমাধান করা হয়।’

গণরুমের শিক্ষাজীবন: বিজয় একাত্তর হলে সংশ্লিষ্ট প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী আতাউর রহমান আকাশ হতাশা জানিয়ে বলেন, ‘মাত্র ৮০ জন ছাত্রকে আসন দেওয়া হয়েছে আমাদের এ হলে। অথচ সংযুক্ত করা হয়েছে প্রায় ৪০০ জনকে! থাকার জায়গা নেই, তাই নিরুপায় হয়েই হলের গেস্ট রুমে থাকছি। গরমের দিনেও মাথার ওপর কোনো ফ্যান পর্যন্ত নেই আমাদের!’

বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে ছোট হল হিসেবে পরিচিত স্যার এ এফ রহমান হলের চারটি গণরুমে শিক্ষার্থীদের ঘুমাতে হয় এক পাশ হয়ে। গণরুমের ভাষায়, এভাবে কাত হয়ে ঘুমানোকে বলা হয় ইলিশ ফালি হওয়া। রুমগুলোতে পর্যাপ্ত ফ্যান নেই, আছে ছারপোকা আর মশা। শিক্ষার্থীদের অনেকেই তাই মসজিদে গিয়ে ঘুমান। শিক্ষার্থীদের অধ্যয়নের পর্যাপ্ত সুযোগও নেই এখানে। ছোট রিডিং রুমে সন্ধ্যার আগে জায়গা দখল না করলে পাওয়া যায় না পড়ার সুযোগ।

সূর্যসেন হল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, জগন্নাথ হল ও জিয়াউর রহমান হলসহ প্রায় প্রতিটি হলের গণরুমের নিত্যদিনের গণসাথী ছারপোকা, মশা, ফ্যান স্বল্পতা, ভ্যাপসা গরম, ঘুমানোর জায়গার স্বল্পতা ও নিম্নমানের খাবার। জ্বর এবং বসন্ত রোগের সঙ্গে পরিচিত সবাই। ছোঁয়াচে কোনো রোগে একজন আক্রান্ত হলে নিমেষেই তা ছড়িয়ে পড়ে অন্যদের মধ্যে। একই চিত্র ছাত্রীবাসগুলোতে।

যেখানে গণরুম নেই: কয়েকটি হলে এমন গণরুমও নেই। সেসব হলে থাকতে হয় হলের বারান্দা, ছাদ, মসজিদ, গেমসরুম, টিভি রুম এমনকি খেলার মাঠেও। সলিমুল্লাহ মুসলিম হলে ছাত্রদের ঘুমাতে হয় হলের বারান্দা ও ছাদে। খোলা আকাশের নিচে রাতে ঘুমাতে গিয়ে হঠাৎ ঝড়ো বৃষ্টিতে জেগে উঠতে হয় তাদের, বৃষ্টির জলে মিশে যায় অসহায় শিক্ষার্থীদের চোখের নোনাপানি। মশার কামড়ে প্রায়ই ডেঙ্গু জ্বরে ভুগতে হয় এ হলের শিক্ষার্থীদের। হলের বারান্দায় থাকা শিক্ষার্থীরা এ জন্য সেটির নাম দিয়েছে ডেঙ্গু ব্লক।

এ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক গোলাম মোহাম্মদ ভূঁইয়া বলেন, ‘বারান্দায় থাকার কারণে তাদের সিরিয়াস কিছু সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। এতে কোনো সন্দেহ নেই।’

সব হলেই কক্ষ সংকট: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদের আবাসিক হল ১৩টি। এসব হলে মোট ধারণক্ষমতা আট হাজার ৬৫১ জন। কিন্তু সেখানে থাকছেন প্রায় তিনগুণ। ১১টি হলে মোট দুই হাজার ৭৭৭টি কক্ষ আছে। এক শয্যার কক্ষ রয়েছে ৮০৭টি। দুই, তিন, চার ও পাঁচ শয্যার কক্ষ রয়েছে এক হাজার ৯৭০টি।

শহীদুল্লাহ্ হলে ২৯৬টি কক্ষে ৮১১ জনের থাকার ব্যবস্থা আছে। কিন্তু এখানে সব মিলিয়ে এক হাজার ২০০ শিক্ষার্থী থাকেন। মাস্টারদা সূর্যসেন হলের ৩৮৬টি কক্ষে ৫৭৪ জনের আবাসনের ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু হলটিতে রয়েছেন প্রায় এক হাজার ৩৩৫ জন। মোট ৩৯৭ জনের ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন ১২০টি কক্ষের জসীম উদ্?দীন হলে থাকেন প্রায় এক হাজার ৫৫ জন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের ১০৪টি চার শয্যাবিশিষ্ট কক্ষ ও আটটি পাঁচ শয্যাবিশিষ্ট কক্ষে মোট ৪৭২ জনের থাকার কথা থাকলেও অন্তত এক হাজার ৮৬ জন থাকেন।

শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলে ৩৪টি এক আসনবিশিষ্ট, ১৮০টি দুই আসন ও ৮০টি চার আসনবিশিষ্ট কক্ষ রয়েছে। হলের ধারণক্ষমতা ৭২৫ জন। কিন্তু হলে থাকেন অন্তত এক হাজার ২১ জন। অমর একুশে হলের ১৫৫টি কক্ষের সবক’টিই চার আসনের। ৬২০ জনের ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন এ হলে থাকেন অন্তত এক হাজার বাসিন্দা। হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল ৫৪০ জনের জন্য নির্মিত। থাকেন অন্তত এক হাজার ৪৪০ জন। ফজলুল হক মুসলিম হলে মোট কক্ষ ২৪৪টি। ৭৬৬ আসনবিশিষ্ট হলটিতে থাকেন এক হাজার ৯০ জন। স্যার এ এফ রহমান হলের ১০৪টি কক্ষে ৪১০ জন থাকার কথা। কিন্তু থাকেন অন্তত এক হাজার ২২ জন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে বড় হল জগন্নাথ। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য নির্মিত এ হলের মোট চারটি ভবনে চার শয্যার ২৮৩টি কক্ষ, তিন শয্যার ১৫টি, দুই শয্যার ৭০টি এবং এক শয্যার ১৬০টি কক্ষে মোট এক হাজার ৪৭৭টি আসন রয়েছে। হলটিতে কত সংখ্যক অছাত্র থাকেন, তার কোনো হিসাব নেই হল কর্তৃপক্ষের কাছেও। এমনিভাবে সব হলই অতিরিক্ত শিক্ষার্থীর ভারে ভারাক্রান্ত।

বিষয়টি স্বীকার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ‘হলগুলোতে কক্ষ বাড়ানোর সুযোগ কতুটুকু আছে তা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল বিভাগ নিরূপণ করবে। তবে নতুন নতুন হল নির্মাণ ছাড়া এ সংকট কাটানো সম্ভব নয়।’

নতুন পরিকল্পনা: গত ৫ নভেম্বর ভিসি বাংলোতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক আবাসন সংকট কাটাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নতুন পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের এক্সটেনশন নির্মাণ করে আরও এক হাজার আসন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রি-একনেক সভাও হয়ে গেছে। শিগগিরই একনেক সভায় তা পাস হবে বলে আশা করছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এক হাজার আসন বাড়ানো গেলে সেখানে কমপক্ষে দুই হাজার শিক্ষার্থীর আবাসনের ব্যবস্থা করা যাবে। কারণ প্রতিটি হলে প্রাধ্যক্ষের অনুমতি নিয়ে দ্বৈতাবাসের (ডাবলিং) অনুমতি দেওয়া হয়।’

উপাচার্য বলেন, ‘পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে নিত্যনতুন যুগোপযোগী বিভাগ খোলা হচ্ছে। শিক্ষার্থীও বাড়ছে। এ অবস্থায় আগামীতে কোনো আবাসিক হলই কমপক্ষে ২০ তলার নিচে করার কোনো মানে হয় না।’ নতুন পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের বর্তমান তিনতলা ভবন ভেঙে সেখানে নতুন ২০তলা ভবন নির্মাণের কথা ভাবা হচ্ছে।’

উপাচার্য বলেন, ‘সূর্যসেন ও মুহসীন হলের স্থানে নতুন কিছু করা যাচ্ছে না। ভবন দুটি খুব পুরনো হলেও সংস্কার করে আমরা আপাতত ভবন দুটিকে ঝুঁকিমুক্ত করছি। তবে অদূরভবিষ্যতে এ ভবন দুটি ভেঙে ফেলার প্রয়োজন হতে পারে।’ তিনি বলেন, ‘জহুরুল হক হলের স্থানে ২০তলা আবাসিক হল নির্মাণ করা গেলে সূর্যসেন ও মুহসীন হলের শিক্ষার্থীদের সেখানে সরিয়ে নেওয়া হবে। এ দুটি হলের স্থানে নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণ করা হবে। এতে একবিংশ শতাব্দীর চাহিদা পূরণ করতে পারবে এ বিশ্ববিদ্যালয়। রিপোর্ট তৈরিতে সহযোগিতা করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক রেজা আকাশ