মুখোশ পরে নিজ দলের নেতাকর্মীকে মারপিট

0

রাজশাহী : মুখোশ পরে নিজ দলের নেতাকর্মীর ওপর হামলা ও হলের কক্ষের দরজা ভেঙে লুটপাট করার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এ হামলায় বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়।

বুধবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) নবাব আব্দুল লতিফ হলে এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন- রাবির নবাব আব্দুল লতিফ হল শাখা ছাত্রলীগের সাবেক কমিটির (আহমেদ-বিপু) শিক্ষা ও পাঠচক্র বিষয়ক সম্পাদক নূর জাহিদ সরকার নিয়ন, লোক প্রশাসন বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী নূর কুতুবুল আলম সবুজ, দর্শন বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী মোস্তাফিজুর রহমান আম্মান, ইতিহাস বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী নিশান চৌধুরী। এরা সবাই লতিফ হল শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি প্রার্থী শামীমের অনুসারী।

হলের কয়েকজন আবাসিক শিক্ষার্থী জানান, বুধবার রাতে লতিফ হলের ৩০১ নম্বর কক্ষে বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন রাবি ছাত্রলীগের সাবেক নেতা নিয়ন, ছাত্রলীগকর্মী সবুজ ও আম্মানসহ কয়েকজন। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে হল ছাত্রলীগ সভাপতি মিজানুর ইসলামের অনুসারী ভাষা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী নিরব, তৃতীয় বর্ষের নাজমুল,ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সমীরণ কুমার মণ্ডলসহ ছাত্রলীগের ১০-১২ জন নেতাকর্মী ওই কক্ষে হামলা চালায়।

হামলাকারীরা মুখে গামছা-রুমাল পেঁচিয়ে লোহার রড ও হাতুড়ি নিয়ে ৩০১ নম্বর কক্ষে অবস্থান করা সবাইকে পেটাতে থাকে। ঘটনাস্থল থেকে নিয়ন ও আম্মান পালিয়ে নিচ তলায় হলের পুলিশ কক্ষে গিয়ে আশ্রয় নিলেও ছাত্রলীগের মুখোশধারীরা সবুজ ও নিশানকে লোহার রড-হাতুড়ি দিয়ে এলোপাতাড়ি শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করতে থাকে।

হলের কয়েকজন আবাসিক শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ সূত্র জানায়, আহতদের চিকিৎসা কেন্দ্রে নেয়ার পর রাত ৪টার দিকে ৩০১ নম্বর কক্ষের তালা ভেঙে একটি ল্যাপটপ, একটি ইলেক্ট্রিক গিটার, একটি সাধারণ গিটার, মূল সনদপত্রসহ একটি ট্রাংক লুট করে নিয়ে গেছে হল ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের হামলার বিষয়টি স্বীকার করে লতিফ হল শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি মিজানুর ইসলাম বলেন, তাদের দুই-একজন ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তাদের সঙ্গে নিয়ে সাবেক ছাত্রলীগের এক নেতা রাকাবের ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির উদ্দেশ্যে কক্ষে জড়ো হয়েছিলো। তাই তাদের মেরে হল থেকে বের করে দেয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি মিজানুর রহমান রানা বলেন, হলের বিষয়টি আমি প্রাথমিক ভাবে শুনেছি। তবে লুটপাট ও মারধরের বিষয়টি জানি না।