মির্জা ফখরুলের ওপর হামলা ছিল পরিকল্পিত,ঘটতে পারতো ভয়াবহ কিছু

0

জিসাফো ডেস্কঃপূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী উপরের নির্দেশেই রাঙ্গুনিয়ায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের গাড়িবহর হামলা চালিয়েছে স্থানীয় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ পরিকল্পনা করা হয়েছিল ঘটনার একদিন আগেই। উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার শামসুল আলম ও উত্তর জেলা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক আবু তৈয়ব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য উপরের নির্দেশ পান।

জানা গেছে, উপজেলার রানীরহাটে অবস্থান নিয়ে মির্জা ফখরুলের গাড়িবহর প্রতিরোধ করার কথা ছিল তাদের। রুট পরিবর্তন করায় ইছাখালী বাজারে তারা অবস্থান নেয়। তবে, মির্জা ফখরুলের গাড়িবহর রুট পরিবর্তন না করলে আরও ভয়াবহ ঘটনা ঘটতো বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

জানা গেছে, এ ঘটনার পর ঢাকা থেকে সরকারি দলের কেন্দ্রীয় এক নেতা স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাকে টেলিফোনে ভর্ৎসনা করেন। তার এলাকায় কেন এ ধরনের ঘটনা ঘটল তা জানতে চান। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন। ওই নেতা দলের হাইকমান্ডের কাছে অধিক গুরুত্ব পাওয়ার জন্যই এ ঘটনা ঘটিয়ে এখন বিপাকে পড়েছেন বলে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে কানাঘুষা চলছে।

অপরদিকে, মির্জা ফখরুলের গাড়িবহর আটকে দেয়ার সিদ্ধান্তের কথা পরোক্ষভাবে গণমাধ্যমের কাছে স্বীকার করেছেন রাঙ্গুনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার শামসুল আলম। তিনি বলেন, আমাদের সিদ্ধান্ত ছিল তারা যদি পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্তদের ত্রাণ দেয়ার জন্য রাঙ্গামাটি যেতে চান, তবে হাইওয়ে ব্যবহার করে যেতে পারবেন। কিন্তু রাঙ্গুনিয়া নামতে দেয়া হবে না। বিএনপির উপজেলা পর্যায়ের নেতাদেরও আমরা বিষয়টি বলেছি। রাঙ্গুনিয়ায় যাতে কেউ না নামে, বিশৃঙ্খলা না করে। এ নিয়ে বিএনপি ও প্রশাসনের মধ্যেও সমঝোতা হয়েছিল। এরপরও রোববার সকাল ৭টা থেকে চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি রুটের রাঙ্গুনিয়া, রানীরহাটসহ বিভিন্ন পয়েন্টে সরকারি দলের শত শত নারীসহ নেতাকর্মীরা অবস্থান নিয়েছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতাদের নির্দেশে উপজেলা ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাকর্মীরা মির্জা ফখরুলের গাড়িবহরে হামলা করে। উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি রাসেল রাসু, ছাত্রলীগ কর্মী পাভেল বড়–য়া, সারেক, যুবলীগ ক্যাডার সরওয়ার, স্বেচ্ছাসেবক লীগ কর্মী জাহাঙ্গীর আলম ও ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বেই হামলা হয়েছে। হামলার পর তারা জয়বাংলা স্লোগান দিয়ে মিছিলও করেছে। এসব ঘটনার ভিডিও বিএনপির কাছে আছে। হামলাকারীদের প্রায় সবাই উত্তর জেলা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক আবু তৈয়বের অনুসারী।

উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার শামসুল আলমও বলেছেন, যেখানে হামলা হয়েছে, সেই ইছাখালী এলাকায় ছাত্রলীগ নেতা রাসেল রাসু ও সরওয়ারসহ অনেকের বাড়ি। উৎসুক লোকজনের সঙ্গে হয়তো তারাও ঘটনাস্থলে ছিলেন। তাই বলে তারা হামলায় জড়িত, সেটা বলা যাবে না।

আরেকটি সূত্রে জানা গেছে, মির্জা ফখরুলের গাড়িবহর যদি রাঙ্গুনিয়ার রানীরহাট দিয়ে যেত তাহলে আরও বড় ধরনের ঘটনা ঘটত। এখানে গাড়িবহর আটকানো ও ফিরিয়ে দেয়ার দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল বখতেয়ার-এরশাদকে। তারা দলবল নিয়ে প্রস্তুত ছিল। এ ধরনের ইঙ্গিত পেয়ে বিএনপির গাড়িবহর রুট পরিবর্তন করে। কিন্তু রুট পরিবর্তন করেও হামলা থেকে রেহাই পায়নি। মির্জা ফখরুলের গাড়িবহর অক্সিজেন এলাকা থেকে রুট পরিবর্তন করার সঙ্গে সঙ্গে উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম খবর পান। এরপর তিনি উত্তর জেলা ছাত্রলীগ ও উপজেলা ছাত্রলীগ-যুবলীগের শীর্ষ কয়েকজন নেতাকে বিষয়টি জানান। তাদের নির্দেশে রানীরহাটে ইছাখালী বাজারে মির্জা ফখরুলের গাড়িবহরে ছাত্রলীগ, যুবলীগ এবং স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাকর্মীরা হামলা চালায় ।

এদিকে কয়েকটি টিভি চ্যানেলের ভিডিও ফুটেজ ও ফেসবুকের স্থিরচিত্র দেখে মির্জা ফখরুলের গাড়িবহরে হামলাকারীদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে। হামলাকারীদের সন্ধানে গোয়েন্দা সংস্থার ঊর্ধ্বতন একাধিক কর্মকর্তা ঘটনাস্থল ঘুরে দেখছেন। স্থানীয় লোকজন ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলছেন। জড়িতদের ব্যাপারে সরকারের উচ্চপর্যায়ে তারা অবহিত করেছেন বলে জানা গেছে।