মিথ্যা মামলায় বার বার বন্দী হচ্ছেন (গাসিক) মেয়র মান্নান

0

জিসাফো ডেস্কঃ গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের (জিসিসি) মেয়র (সাময়িক বরখাস্ত) ও বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান কারাগারে বন্দি অধ্যাপক এম এ মান্নানকে বার বার বিভিন্ন মিথ্যা  মামলায় গ্রেফতার দেখানো হচ্ছে।

এর আগে গাজীপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে শুনানি শেষে বিচারক তাকে গ্রেফতারের আদেশ দেন। এ নিয়ে তার বিরুদ্ধে মোট ২৬টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে আদালত থেকে ২৫ মামলায় তিনি ইতোমধ্যে জামিন লাভ করেন।বন্দী অবস্থায় তার বিরুদ্ধে এখন মোট ২৮টি মামলা হয়েছে।

সর্বশেষ সিটি কর্পোরেশনের ত্রাণ ও দরিদ্র তহবিলে এক কোটি ৩ লাখ ৮ হাজার ১৩২ টাকা আয় এবং ৯০ লাখ ৪৭ হাজার ৮৪৬ টাকা ব্যয়ে দুর্নীতির অভিযোগে ১৩ জুন দুদকের উপ-পরিচালক সামছুল আলম জয়দেবপুর থানায় মামলা দায়েরের পর বুধবার (১৭ আগস্ট) বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও জেবি এম হাসানের নেতৃত্বে হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ মান্নানকে তিন মাসের জামিনের আদেশ দেন। একই সঙ্গে এ বিষয়ে রুল জারি করেন আদালত। জামিন লাভের কয়েক ঘন্টা পরই তাকে আরো একটি মামলায় গ্রেফতার দেখানো হলো।

গাজীপুর আদালতের ইন্সপেক্টর মো. রবিউল ইসলাম জানান, বিএনপি-জামায়াতের অবরোধ চলাকালে নাশকতা সৃষ্টির জন্য বাস ট্রাকে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করে জানমালের ক্ষতিসাধনের জন্য গত বছরের ২৭ জানুয়ারি বিকেলে গাজীপুর মহানগরের ভুরুলিয়ার পাশে গোপন বৈঠক করছিল জামায়াত বিএনপির নেতা কর্মীরা। এখবর পেয়ে পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। এসময় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে জেলা জামায়াতের আমীর আবুল হাশেম এবং মহানগর জামায়াতের অর্থ বিষয়ক সম্পাদক নাসরুল্লাহকে ১০টি পেট্রোল বোমাসহ আটক করলেও অন্যরা পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় এসআই মনির হোসেন বাদি হয়ে জামায়াত-বিএনপির ১০ নেতা-কর্মীর নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরো ১০/১৫ জনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে জয়দেবপুর থানায় মামলা দায়ের করেন।

 

পরে মামলার তদন্তকালে ওই ঘটনার সঙ্গে অধ্যাপক এমএ মান্নানের জড়িত থাকার তথ্যের ভিত্তিতে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই জহিরুল ইসলাম ওই মামলায় তাকে (এমএ মান্নান) গ্রেফতারের জন্য বুধবার আদালতে আবেদন করেন। এর প্রেক্ষিতে বিকেলে শুনানি শেষে গাজীপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক আব্দুল হাই ওই আবেদন মঞ্জুর করে মান্নানকে গ্রেফতারের (শ্যোন অ্যারেস্ট) আদেশ দেন। এনিয়ে অধ্যাপক এম এ মান্নানকে মোট ২৬টি মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

অধ্যাপক এম এ মান্নানের আইনজীবী মঞ্জুর মোর্শেদ প্রিন্স জানান, সর্বশেষ বুধবার হাইকোর্ট থেকে জয়দেবপুর থানায় দায়েরকৃত দুদকের একটি মামলায় জামিন লাভ করেন অধ্যাপক এমএ মান্নান। এরপর বুধবারই তাকে জয়দেবপুর থানার আরো একটি নাশকতার মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হলো। বর্তমানে অধ্যাপক এমএ মান্নান গাজীপুরে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-১ এ বন্দি রয়েছেন। তিনি বিএনপির সদ্য ঘোষিত জাতীয় নির্বাহী কমিটিতে ভাইস চেয়ারম্যান পদে মনোনীত হয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি রাতে গাজীপুরে যাত্রীবাহীবাসে পেট্রোলবোমা হামলার মামলায় একই বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় রাজধানী ঢাকার বারিধারার ডিওএইচএস’র নিজ বাসা থেকে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের (জিসিসি) মেয়র ও বিএনপি নেতা অধ্যাপক এম এ মান্নানকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

মোট ২২টি মামলায় ১৩ মাস কারাবরণের পর গত ২ মার্চ অধ্যাপক এমএ মান্নান জামিনে কারামুক্ত হন।

 

এরপর গত ১৫ এপ্রিল রাতে অধ্যাপক এমএ মান্নানকে কালিয়াকৈরের মৌচাক এলাকা থেকে নাশকতার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে কয়েক সহযোগিসহ আবারো গ্রেফতার করে পুলিশ। একই দিন কালিয়াকৈরের আনসার একাডেমির সামনে এবং টঙ্গীর টিএন্ডটি আলিফ কমিউনিটি সেন্টারের সামনে গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও পেট্রল বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। এ তিনটি ঘটনায় অধ্যাপক এমএ মান্নানকে আসামী করে জয়দেবপুর, কালিয়াকৈর ও টঙ্গী থানায় পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করে ঘটনার (১৬ এপ্রিল) পরদিন গাজীপুরের আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এসব মামলার প্রায় সবগুলোই বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের অবরোধ ও হরতালকালে গাড়ি ভাঙচুর, অগ্নি সংযোগ, হত্যা, নাশকতা, বিস্ফোরক ও পুলিশের সরকারি কাজে বাধাদানসহ বিভিন্ন আইনে দায়ের করা হয়েছে। ইতোমধ্যে দু’টি মামলায় তার বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশীট দাখিল করা হয়েছে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গাজিপুর জেলা আওয়ামীলিগ নেতা বলেন, গাজিপুর সিটিতে ভারপ্রাপ্ত মেয়র কিরণ পুতুল হয়ে বসে আছেন।মূলত এড,আজমত ঊল্লাহ খানই সব পরিচালনা করছে।আধ্যাপক মান্নানের কাছে বিপুল ভোটে পরাজয়ের কষ্ট আজমত খান এখনও ভুলতে পারেনী।তার প্রতিশোধ নিচ্ছে মেয়র মান্নানকে কারাগার বন্দী করে।সিটিতে চোখে পরার মত তেমন উন্নয়ন না হলেও আজমত খান ও কিরণের লোকজনের পকেটের উন্নয়ন হয়েছে।উন্নয়নের নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে তারা।

মান্নানের বিরুদ্ধে পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্র ২০১৫ সালের ১২মে গাজীপুরের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিমের আদালতে গৃহীত হওয়ায় ওই বছরের ১৯ আগস্ট স্থানীয় সরকার বিভাগ তাকে মেয়র পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করে। পরে কারামুক্তির পর গত ৩১ মার্চ মেয়র পদ থেকে তার সাময়িক বহিস্কারাদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট আবেদন করলে মেয়র মান্নানকে দেওয়া স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের ওই সাময়িক বরখাস্তের আদেশ গত ১১ এপ্রিল ছয় মাসের জন্য স্থগিত করে হাইকোর্ট। পরে ১৩ এপ্রিল সুপ্রীম কোর্টে আপিল করলে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের তিন সদস্যের বেঞ্চ হাইকোর্টের দেয়া আদেশ বহাল রাখেন।গাজিপুরবাসীর প্রাণের দাবি অধ্যাপক এম,এ মান্নানের মুক্তি।