মায়ানমারে সরকারের চাল কিনতে যাওয়া মানে দেশকে ছোট করা; নজরুল ইসলাম খান

0

জিসাফো ডেস্কঃ মায়ানমারে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলামের চাল কিনতে যাওয়া মানে আমাদের অবস্থানকে দুর্বলতা প্রকাশ করা বলে  মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। জাতীয় সংকটকে জাতীয়ভাবে মোকাবেলার আহবান জানিয়েছে তিনি বলেন, মানবতার স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হই। সকলের সহযোগিতা নিন। সমস্যার সমাধান করুন। বিএনপি পাশে আছে। সবাই একত্রে কাজ করলে সারা বিশ্ব জানবে বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দল একত্রে কাজ করছেন। তাহলে মায়ানমার সরকারকে চাপ সৃষ্টি হবে । এবং  দ্রুত রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হবে।

বুধবার মহানগর নাট্যমঞ্চে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ১০ম কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এ আলোচনা সভার আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, রোহিঙ্গাদের নিয়ে আমরা কোন রাজনীতি করি না আর করবোও না। সবার উচিৎ রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ানো। কিন্তু সরকার বিএনপিকে তাদের পাশে দাড়াতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। আমরা মির্জা আব্বাসের নেতৃত্বে ত্রান দিতে গেলাম তাতে বাধা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু একদিন পরে এরশাদ সাহেব ত্রান দিতে গিয়ে বক্তব্য দিলেন। সরকার তাতে বাধা দিল না। আমাদের বাধা দিয়ে ত্রান বিতরন ঠেকানো যায়নি। আমরা ৩০ হাজার লোককে ত্রান দিয়েছি। এখন বিএনপির নেতাকর্মীরা ত্রান দিচ্ছে।

সরকারের সমালোচনা করে নজরুল ইসলাম বলেন, আমরা বিএনপি করি বলে, আত্মমানবতার পাশে দাড়াতে পারবো না। গ্রেফতার করেন। এটা হতে পারে না। এসব বন্ধ করুন। যারা রোহিঙ্গাদের সহযোগিতা করতে চায় তাদের সহযোগিতা করতে দিন। আপনারা সরকারে আছেন বিদায় শৃঙ্খলা রক্ষা করুন। যারা ত্রান নিয়ে যাবেন তাদেরকে ত্রান দিতে দিন। কিন্তু আপনাদের দিয়ে আসবে তারপারে আপনারা অন্য লেভেল লাগিয়ে আপনারা দিবেন তা হবে না।

বিএনপির এই নেতা বলেন, চালের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাহিরে চলে গেছে। এর মধ্যে থাইল্যান্ড থেকে  দুই জাহাজ পঁচা চাল এনেছে। যা খাবার অনুপযোগি। এছাড়াও  মায়ানমারে মুসলিম হত্যা, নারী- শিশু নির্যাতন চলছে। যা দেশে বিশ্ববাসী হতবাক হয়েগেছে। সেখানে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম চাল কিনতে গেলেন স্ত্রীকে নিয়ে। দেশের মানুষ চাল কিনতে পারছে না। আর তিনি ( কামরুল ইসলাম) গেণে আনন্দ ভ্রমনে। মায়ানমারে সরকারের চাল কিনতে যাওযা মানে দেশকে ছোট করা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমালোচনা করে নজরুল ইসলাম বলেন, রোহিঙ্গাদের প্রথমে সরকার বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেয় নাই। তারা ফিরিয়ে দিয়ে গর্বের সঙ্গে বরেছেন আজকে এত হাজার রোহিঙ্গাদের পাঠিয়ে দিয়েছি। প্রধানমন্ত্রীও বললেন, মায়ানমারের সেনাবাহিনীর সাথে আমরা যৌথ অভিযান পরিচালনা করবো। এরপরে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বিবৃতি দিয়ে বলছেন, মানবিক দিক বিবেচনা করে রোহিঙ্গাদের আশ্রায় দিন। তিনি একই সাথে বলেছেন কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে রোহিঙ্গাদের নাগরিক সকল সুবিধা দিয়ে নিজ দিতে ফেরত দিতে হবে। এরপরই পরিস্থিতি পাল্টে যায়। এবং রোহিঙ্গারা এদেশে আসতে পেরেছেন।

বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাংগঠনিক দক্ষতার কথা উল্লেখ করে নজরুল ইসলাম বলেন, আমরা দলের নেতাকর্মীরা তারেক রহমানের খোঁজ খবর না রাখলেও শেখ হাসিনা রেখেছে। তারেক রহমানের প্রতি ঈর্সান্বিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সহ আওয়ামী লীগের নেতারা তার বিরুদ্ধে কুৎসা রটাচ্ছে। মিথ্যা অভিযোগে তারেক রহমানকে সাজা দিয়েছে। এটা শুধু রাজনৈতিক প্রতিহিংসা।

বিএনপির একজন কর্মী হয়ে আমরা গর্ববোধ করি এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, মহান স্বাধীনতার ঘোষক , বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান আমাদের দলের প্রতিষ্ঠাতা।  তাকে নিয়ে আমরা গর্ব করতেই পারি।

স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবুর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদব আব্দুল কাদির ভূইয়া জুয়েলের সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য রাখেন, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান, বরকত উল্লাহ বুলু, সাংবাদিক শওকত মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ওবায়দুল ইসলাম, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সমম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহসভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, সহসভাপতি গোলাম সারোয়ার, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াসিন আলী, স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি ফখরুল ইসলাম রবিন, সাধারণ সম্পাদক গাজী রেজওয়ানুল হোসেন রিয়াজ, ঢাকা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দল দক্ষিণের সভাপতি এস. এম জিলানী, সাধারণ সম্পাদক মোঃ নজরুল ইসলাম প্রমুখ।