মার্চের মধ্যে জাতীয় কাউন্সিল হচ্ছে বিএনপির

0

জিসাফো ডেস্কঃ আপাতত আন্দোলন নয়, দ্রুত জাতীয় কাউন্সিল করতে তৎপর বিএনপি। এ জন্য গৃহীত পরিকল্পনার আলোকেই সক্রিয় দলের দায়িত্বপ্রাপ্তরা। কেন্দ্রীয় কাউন্সিল  করতে ইতিমধ্যে ৯০ শতাংশ প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। বিএনপির কেন্দ্রীয় কয়েক জন নেতার সঙ্গে আলাপকালে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। তারা আরো জানিয়েছেন, এবারের কাউন্সিলে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের  মতামতকে গুরুত্ব দেয়া হবে। যোগ্য, ত্যাগীরা থাকবেন বিশেষ দৃষ্টিতে। স্থায়ী কমিটি, ভাইস চেয়ারম্যান এবং জাতীয় নির্বাহী কমিটিসহ প্রায় সকল পর্যায়ে পরিবর্তন আনা হবে। তরুণ নেতৃত্বের চমকও থাকবে এবারের বিএনপির কমিটিতে।

দীর্ঘ ছয় বছর পর জাতীয় কাউন্সিল হতে যাচ্ছে বিএনপির। কাউন্সিলের মধ্যে দিযে  দলটি আরও গতিশীল হবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিএনপির সূত্রগুলো জানিয়েছে, দলের জাতীয়  কাউন্সিলের দিনক্ষণ নির্ধারণ এবং তৃণমূল সংগঠন পুনর্গঠনের সবশেষ অবস্থা জানতে শিগগিরই সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন বেগম খালেদা জিয়া। বেশিরভাগ নেতাই চান কাউন্সিলের মাধ্যমে দলের নেতৃত্বে গতিশীলতা আসুক।

দলটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির ১৯ সদস্যের মধ্যে বেশ কয়েকজন অসুস্থ। অসুস্থতা ও  বার্ধক্যজনিত কারণে নিষ্ক্রিয় রয়েছেন এরা। ফলে দলের এই ফোরামটিতে পরিবর্তন আনা খুবই জরুরি মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির ১৯ সদস্যের স্থায়ী কমিটিতে অন্তত ৯টি পদে নতুন মুখ দেখা যেতে পারে। এদের মধ্যে দলের সাবেক মহাসচিব মরহুম খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের (মৃত্যুর কারণে) শূন্যপদটি পূরণ ছাড়াও আরও ৮টি পদে রদবদলের চিন্তাভাবনা চলছে। শারীরিক অক্ষমতার জন্য স্থায়ী কমিটির ৫ জন সদস্য সরে যাওয়ার বিষয়টি মোটামুটি নিশ্চিত। তাছাড়া নিষ্ক্রিয়তা, অনিয়ম ও বিতর্কিত কর্মকান্ডের কারণে আরও তিনজনকে সরিয়ে দেয়া হতে পারে।

সূত্র জানায়, বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে নতুন যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন- বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি ভারমুক্ত হলেই পদাধিকার বলে স্থায়ী কমিটির সদস্য হবেন। এর বাইরে স্থায়ী কমিটিতে জায়গা পেতে পারেন- ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, আবদুল্লাহ আল নোমান, সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. এম ওসমান ফারুক, ইনাম আহমেদ চৌধুরী, আবদুল আউয়াল মিন্টু, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

এছাড়া নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ও যুগ্ম মহাসচিবসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সম্পাদক পদে যারা আসতে পারেন তাদের মধ্যে রয়েছেন- রুহুল কবীর রিজভী, অধ্যাপক এমএ মান্নান, সালাহউদ্দিন আহমেদ, আমান উল্লাহ আমান, শিরিন সুলতানা, বরকতউল্লাহ বুলু, সৈয়দা আশিফা আশরাফি পাপিয়া, মিজানুর রহমান মিনু, গোলাম আকবর খন্দকার, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, এডভোকেট আহমেদ আযম খান, নজরুল ইসলাম মঞ্জু, ফজলুল হক মিলন, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, আহসান হাবিব দুলু, নাজিমউদ্দিন আলম, এহসানুল হক মিলন, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, হাবিব উন নবী খান সোহেল, আবুল খায়ের ভূইয়া, এমরান সালেহ প্রিন্স, ব্যারিস্টার নাসিরউদ্দিন অসীম, আসাদুজ্জামান রিপন, কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীম, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, রশিদুজ্জামান মিল্লাত, তাবিথ আউয়াল, নাদিম মোস্তফা, মির্জা আব্বাসের স্ত্রী আফরোজা আব্বাস, ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহমিনা রুশদী লুনা, রেহানা আক্তার রানু, নীলুফার চৌধুরী মনি, শাম্মী আক্তার, ব্যারিস্টার রুহিন আফরিন আহাদ, শ্যামা ওবায়েদ ও আজিজুল বারী হেলাল প্রমুখ।

কেন্দ্রীয় সম্মেলনের বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির দপ্তরের দায়িত্বে থাকা যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ২০১০ থেকে প্রতিনিয়ত বিএনপির নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। দলের মহাসচিবকে একাধিকবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে। স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য এখনো কারাগারে। আমি নিজেও প্রায় এক বছর কারাগারে ছিলাম। কাউন্সিল করার জন্য যে পরিবেশ দরকার তা নেই। তবে দমন-পীড়নের মধ্যেও তৃণমূল পর্যায়ে কমিটি গঠনের কাজ চলছে। অনেক জায়গায় সম্মেলন হয়েছে। তৃণমূলে সব সম্মেলন শেষ হলে সুস্থ, গণতান্ত্রিক পরিবেশ থাকলে যথাসময়ে কেন্দ্রীয় কাউন্সিল হবে।

বিএনপির গঠনতন্ত্রে বলা আছে, জাতীয় কাউন্সিলে দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটি নির্বাচিত হবে। এই কমিটি নির্বাচিত হবে তিন বছরের জন্য। সে হিসাবে গত ডিসেম্বরের মধ্যে দলটির আরও দুটি কাউন্সিল হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু একটিও হয়নি। বিএনপির সর্বশেষ কাউন্সিল হয়েছিল ২০০৯ সালের ৮ ডিসেম্বর।