মামা যুবলীগ নেতা,খুনিকে ধরতে পুলিশের গড়িমসি

0

জিসাফো ডেস্কঃ মামা স্থানীয় যুবলীগ নেতা এবং ৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর। তাই হত্যা মামলার আসামি হওয়া সত্ত্বেও রায়হান হোসেন বিধানকে (২০) ধরছে না পুলিশ। গত ১১ মে তার ব্যাটের আঘাতেই মৃত্যু হয় এসএসসিতে জিপিএ ৫ পাওয়া বাবুল শিকদারের।এ ঘটনায় বাবুলের বাবা মোস্তফা শিকদার বাদী হয়ে রায়হান হোসেন বিধানকে একমাত্র আসামি করে মিরপুর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

কিন্তু বিধান যুবলীগ নেতা ইকবাল হোসেন টিপুর ভাগ্নে হওয়ায় পুলিশ তাকে ধরতে গড়িমসি করছে বলে অভিযোগ করেছে নিহতের পরিবার।বুধবার রাতে কথা হলে মোস্তফা শিকদার বলেন, ‘পুলিশ চাইলেই অনেক কিছু করতে পারতো। কিন্তু হের (বিধানের) মামা আওয়ামী লীগের নেতা। তাই পুলিশ কতটুকু আন্তরিকতার সাথে আসামী গ্রেপ্তারের বিষয়টি দেখছে তা নিয়ে আমার সংশয় রয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, আমি ছেলের বিচারের দাবি জানাই এবং তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি যাতে ভবিষ্যৎ এ এমনটা করার কেউ সাহস না পায়।বাবুলের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, এ হত্যাকাণ্ডের পরে একাধিকবার বিধান জনতা হাউজিং মাঠে এসেছে। স্থানীয় অনেকেই তাকে দেখেছে। কিন্তু তারপরও পুলিশ তাকে ধরছে না।তবে এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা প্রযুক্তি থেকে শুরু করে এমন কোন জিনিস নাই, বিধানকে ধরতে যার সহযোগিতা নেয়া হয়নি। এমনকি আমরা তার ভার্সিটি কর্তৃপক্ষের সাথেও কথা বলেছি। কিন্তু সে এই হত্যাকাণ্ডের পর থেকে গা ঢাকা দিয়েছে। একদিনও সে ভার্সিটিতে যায়নি।’

এদিকে মামলার ১০ দিন পর গত ২২ মে ছেলের ময়নাতদন্ত রিপোর্ট হাতে পান মোস্তফা শিকদার। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে, মাথায় আঘাতের কারণে মৃত্যু হয়েছে বাবুলের। এর ফলে মামলার কারণ ও প্রমাণাদি আরো শক্ত হলো বলে জানান বাবুলের বাবা।

ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শফিকুর রহমান বলেন, ‘আসলে অপেশাদার হত্যাকারীদের চেয়ে পেশাদার ক্রিমিনালদের ট্রেস করা সহজ। তবে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে ২৪ ঘণ্টাই, ফোন ট্র্যাকিং এর মাধ্যমে আমাদের চেষ্টা চলছে কিন্তু ফোননম্বর বন্ধ থাকার কারণে একটু বেগ পেতে হচ্ছে।’