মানুষের নিরাপত্তা এখন লাশবাহী গাড়িতে : দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া

0

জিসাফো ডেস্কঃ মানুষের নিরাপত্তা এখন লাশবাহী গাড়িতে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তিনি বলেছেন, ‘মানুষের নিরাপত্তা, অধিকার, ভোটাধিকার, নির্বাচন, গণতন্ত্র, শান্তি, স্বস্তি এখন লাশবাহী গাড়িতে। বর্তমান ভোটারবিহীন সরকারের সহিংস রক্তপাত ছাড়া টিকে থাকার কোনো পথ খোলা নেই। দেশ পরিচালনায় যেহেতু জনগণের সমর্থন নেই, সেহেতু খুন-জখম টিকিয়ে রাখাকেই তারা পরিত্রাণের পথ মনে করছে।’

মঙ্গলবার (২৬ এপ্রিল) দলের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদের পাঠানো এক বিবৃতিতে খালেদা জিয়া এ কথা বলেন। সোমবার (২৫ এপ্রিল) রাজধানীর কলাবাগানে বাসায় ঢুকে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের সাবেক প্রটোকল কর্মকর্তা ও বর্তমানে ইউএসএইড’র কর্মকর্তা জুলহাস মান্নান, তার বন্ধু ত্রৈমাসিক পত্রিকা রুপবান সম্পাদনা ও প্রকাশনার সঙ্গে যুক্ত সাংবাদিক মাহবুব রাব্বী তনয়কে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে এবং কাশিমপুর কারাগারের সামনে সাবেক সর্বপ্রধান কারারক্ষী রুস্তম আলীকে দুর্বৃত্তদের গুলি করে হত্যার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এ বিবৃতি দেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘দেশে যে কোনো হত্যাকাণ্ডকে নিজেদের স্বার্থে অতি অবিশ্বাস্য কল্পকাহিনী রচনা করা আওয়ামী লীগের স্বভাবধর্ম। কিছুদিন ধরে দেশব্যাপী বিভিন্ন ধর্ম সম্প্রদায় ও বিদেশি হত্যার ঘটনাগুলোতেও তারা একের পর অপপ্রচার চালিয়েছে। বিরোধী দলের ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করেছে। ভোটারবিহীন সরকারের এসব অপকৌশল মূলত প্রকৃত ঘটনাকে ধামাচাপা দেওয়া ও আসল অপরাধীদের আড়াল করা।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ইঙ্গিত করে বিএনপি প্রধান বলেন, ‘সরকারপ্রধান যতই উচ্চস্বরে বক্তব্য দিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করুন না কেন, তাভেল্লা হত্যাকাণ্ড থেকে শুরু করে জুলহাস মান্নান, মাহবুব রাব্বী তনয় এবং রুস্তম আলী পর্যন্ত প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের দায় এই সরকারকেই নিতে হবে। তিনি যতই উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপানোর অপচেষ্টা করুন না কেন, জাতীয় অর্থনীতির হরিলুট, রাজকোষ চুরির ঘটনা এড়াতে তিনি যতই অপকৌশল করুন না কেন, জনগণের দৃষ্টিকে ঝাপসা করতে পারবেন না। তার অপকৌশল বাস্তবায়ন করতে তিনি যতই দূষিত পরিকল্পনা করুন না কেন, ভোটারবিহীন সরকারকেই এরজন্য জনগণের কাছে একদিন জবাবদিহি করতেই হবে।’

দেশের সার্বিক পরিস্থিতি অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে এখন আরও বিপজ্জনক দাবি করে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ‘দেশের মানুষ এক ভয়াল নৈঃশব্দের মধ্যে আতঙ্কে দিন যাপন করছে। ব্যাংকার, শিক্ষক, এনজিও কর্মী, সাংবাদিক, জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, ছাত্র, নারী, শিশুসহ অনেককেই রাষ্ট্রযন্ত্রের যথেচ্ছ ব্যবহারের কারণে জীবন দিতে হয়েছে। সরকার সর্বক্ষেত্রে একচেটিয়াত্ব প্রতিষ্ঠিত করতে গিয়ে গণতন্ত্রের পাশাপাশি রাজনৈতিক, সামাজিক ভারসাম্যকেও চরমভাবে ভেঙে ফেলেছে। সর্বক্ষেত্রে দলীয়করণ করতে গিয়ে রাষ্ট্রের সকল অঙ্গ নিরপেক্ষতা হারিয়েছে। সুতরাং চারিদিকে অরাজকতারই জয়জয়কার। দেশে হত্যা, হানাহানি, রক্তপাত, অপহরণ, গুম, মুক্তিপণ আদায়, বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড প্রচণ্ড আধিপত্য বিস্তার করেছে। সুতরাং কর্তৃত্ববাদী শাসন এতো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে যে, মানুষের মুখে টু শব্দ শুনলেই সেই মানুষের টুটি টিপে ধরার জন্য ধেয়ে আসে রাষ্ট্রযন্ত্র।’

খালেদা জিয়া বলেন, ‘মনে হয় আমরা যেন একটি পিশাচ দ্বীপে বসবাস করছি। সুস্থ পরিবেশে গণতন্ত্র চর্চা এখন কেবল কবরেই সম্ভব। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করার কারণেই ক্ষমতাসীন দলের সশস্ত্র ক্যাডাররা উৎসাহিত হয়ে ভোটকেন্দ্র দখল করে, ব্যালট পেপারে বেপরোয়া সিল মারে এবং অস্ত্রের মুখে ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দেয়; খুন-জখমসহ নানাবিধ অনাচারে লিপ্ত থেকে দেশকে অতল গহ্বরের দিকে ঠেলে দেয়।’

সেজন্য দেশের শান্তিপ্রিয় সাধারণ মানুষ এখন আর স্বাভাবিক মৃত্যুর আশা করে না বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করেন বিএনপি চেয়ারপারসন।

খালেদা জিয়া অবিলম্বে এসব হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানান।