মন্দিরে কোরআন শরীফ পুড়ানো ঘটনার পিছনে সুগভীর চাল

0

আমান আব্দুহু

১. বাংলাদেশের কোন সাংবাদিক, কোন পত্রিকা অথবা কোন টিভি চ্যানেলকে বিশ্বাস করবে একমাত্র হদ্দ বোকার দল। বাংলাদেশী কোন টিভি চ্যানেলে লাইভ ভিডিও দেখালেও তা সত্য মনে করার কোন কারণ দেখিনা। ক্ষমতা থাকলে কোন কিছু ম্যানপিুলেট করা কঠিন কাজ না।

২. সাম্প্রদায়িক দাঙা এবং প্রচন্ড হানাহানি বাংলাদেশে আওয়ামী শাসনের জন্য সুবিধাজনক। তাই আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে মন্দির পুড়ানো মুর্তি ভাঙা এসব বেড়ে যায়। আবার আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য আন্দোলন করলেও এসব ঘটে। সংখ্যালঘু নির্যাতন ধর্ষণের কোন অপরাধী ধরা পড়ে গেলে দেখা যায় ‘কাকতালীয়ভাবে’ সে আওয়ামী লীগের সাথে জড়িত। তখন অবশ্য সে ‘মানসিক অসুস্থ’ হয়ে যায়। কোন বোমাবাজ জঙ্গি ধরা পড়ার পর দেখা যায় তারও কিছু ‘কাকতালীয়’ আওয়ামী কানেকশন আছে। বাংলাদেশে যদি কোনদিন ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হয় তাহলে তা আওয়ামী লীগের উদ্যোগেই হবে কোন সন্দেহ নেই।

৩. পংকজ শরণের পর নতুন যে ভারতীয় হাই কমিশনার এসেছে, সেও ইজরায়েলে চাকুরী করে এসেছে। মোসাদ জিন্দাবাদ।

আপনি ঈমানদার মুসলমান। কুরআন শরীফ পুড়ানোতে আপনার বুকে রক্তক্ষরণ হয়। আপনার রক্ত টগবগ করে ফুটতে থাকে। এই সঠিক আবেগ প্রয়োজনীয়। যে কোন ধর্মের মানুষের অধিকার আছে তার নিজ ধর্মের সম্মানকে রক্ষার।

কিন্তু যখন আপনি শেখ হাসিনার পরিবর্তে আপনার স্থানীয় হিন্দু অথবা বৌদ্ধ একজন মানুষকে আপনার প্রতিশোধের লক্ষ্য বানিয়ে নেন, তখন আপনি একজন ভুল আবেগি বলদ। দুঃখিত, আপনার মতো বলদরাই কুরআন শরীফ পুড়ানোর মতো জঘন্য ঘটনা ঘটানোর উপলক্ষ।

আপনি এক আবেগে টুইটুম্বুর জাতি। আপনাকে অথবা আপনাদেরকে বিক্ষুদ্ধ করে দেয়া খুব একটা কঠিন কিছু না। এ আবেগের ভালো দিক আছে। আবার খারাপ দিকও আছে।

যেমন আল্লাহ বা রাসুল সা. অথবা ইসলামকে নিয়ে শাহবাগিদের অকথ্য লেখার অল্প কিছু নমুনা আমার দেশ পত্রিকাতে দেখেই মানুষ শাহবাগিদেরকে ঘৃণা করতে শুরু করেছিলো। এটা একটা ভালো দিক।

অন্যদিকে খারাপ দিক হলো, আবেগ সবসময় শর্টসাইটেড। শাহবাগিদের ঐসব লেখার সত্যিকার মাত্রা যদি মানুষ বুঝতো তাহলে তারা শাহবাগিদেরকে এমন বয়কটই করতো যে বাংলাদেশে শাহবাগিরা লজ্জ্বায় আর কোনদিন দাঁড়াতে পারতো না। শাহবাগিদের পৃষ্ঠপোষক আওয়ামী লীগ ধ্বংস হয়ে যেতো।

কিন্তু আবেগে ভেসে গিয়ে বন্যার ঢলের মতো বের হয়ে এসে মতিঝিলে এক ধাতানি খেয়ে বাঙালী মুসলমান সোজা হয়ে গিয়েছে। আর এদিকে শাহবাগিদের যেইকে সেই রামরাজত্ব বহাল তবিয়তে চলমান।

সুতরাং প্রতিবাদে ফেটে পড়ার আগে ভেবে দেখা দরকার বাস্তব দৃশ্য দেখে ফেটে পড়ছি? না কি মঞ্চনাটক দেখে ফেটে পড়ছি?

বাংলাদেশে ইসলামের কি এমন সম্মান আছে যে আপনি নিজেকে অনেক প্রতিবাদী ভাবছেন? দাড়ি-টুপি-বোরকা থাকলে যেখানে গ্রেফতার হতে হয়, কোরআন-হাদিস বাসায় থাকলে পুলিশ ধরে নিয়ে যায়, সেই দেশে এখন তুমুল প্রতিবাদী হওয়া দেখে এক আবুল হোসেনের কথা মনে পড়ে। আবুল হোসেনের লজ্জ্বা-শরম একটু বেশিই আর কি। কিন্তু সে দরিদ্র মানুষ, লুঙ্গি ছাড়া আর কোন কাপড় তার নেই। সুতরাং রাস্তায় চলতে চলতে যদি সামনে কোন বেগানা আওরত এসে যায় তখন আবুল হোসেন তাড়াতাড়ি লুঙ্গির কোণা তুলে মুখ ঢেকে নেয়।