মনে হচ্ছে দেশের কর্তৃত্ব জঙ্গিবাদী-উগ্রপন্থীরা গ্রহণ করেছে : মির্জা ফখরুল

0

জিসাফো ডেস্কঃ বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আজ মঙ্গলবার দুপুরে এক বিবৃতি দিয়েছেন।তিনি উল্লেখ করেন, “মনে হচ্ছে ভোটারবিহীন সরকারের নিস্ক্রিয়তায় জঙ্গিবাদী উগ্রপন্থীরা দেশের কর্তৃত্ব গ্রহণ করেছে।”

ফখরুল বলেন, দেশব্যাপী বেছে বেছে হত্যাকাণ্ড চলছে। আর এই হত্যাকাণ্ডের শিকার হচ্ছেন- মসজিদের ঈমাম-মোয়াজ্জিন, পীর ও পীরের শিষ্য, প্রকাশক, পুলিশ সদস্য, পুলিশ সদস্যের পরিবার, ভিন্ন মতাবলম্বী ব্লগার, ধর্মগুরু, পুরোহিত, যাযক, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান সম্প্রদায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও বিদেশি নাগরিক।

বিবৃতিতে আজ মঙ্গলবার ভোরে দুর্বৃত্তদের কর্তৃক ঝিনাইদহের করাতিপাড়ায় সনাতন ধর্মাবলম্বী পুরোহিত আনন্দ গোপাল গাঙ্গুলীকে গলাকেটে পৈশাচিকভাবে হত্যার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ এবং শোক প্রকাশ করেছেন মির্জা ফখরুল।

বিবৃতিতে এসপি বাবুলের স্ত্রী হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে বিএনপির মহাসচিব বলেন, গত পরশু দিন চট্টগ্রামে পুলিশ সুপারের স্ত্রী মাহমুদা খানমকে হত্যা করা হয়েছে। এটা সম্পূর্ণ ঘৃন্য ও কাপুরোষোচিত অমানবিক কাজ।

এই প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, নাটোরের খ্রিষ্টান মুদী দোকানী দানিয়েল গোমেজকে হত্যা নজীরবিহীন এক নৃশংসতা। এরই ধারাবাহিকতায় ঝিনাইদহের করাতিপাড়ায় সনাতন ধর্মাবলম্বী পুরোহিত আনন্দ গোপাল গাঙ্গুলীকে গলাকেটে পৈশাচিকভাবে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

দেশে হত্যাকাণ্ডের কোন বিরতি নেই উল্লেখ করে ফখরুল বলেন, প্রায় প্রতিদিনই দেশের কোন না কোন জনপদে দানবীয় আক্রমণের শিকার হচ্ছেন কেউ না কেউ। দুর্বৃত্তদের কর্তৃক দেশে একের পর এক ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন ধর্মসম্প্রদায়ের মানুষকে হত্যার ঘটনায় দেশবাসী আজ হাড়হিম করা আতঙ্কের মধ্যে দিনাতিপাত করছে।

সরকারের মন্ত্রী ও নেতাদেরদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এখন বাড়ির বাইরে বেরুতেই গা ছমছম করে। ভীত সন্ত্রস্ত মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। দেশের মানুষের নিরাপত্তাহীনতায় ভ্রুক্ষেপ না করে সরকারের মন্ত্রী ও নেতারা তোতা পাখির মতো বুলি আওড়িয়ে যাচ্ছেন যে, দেশে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি খুবই আশাব্যঞ্জক, দেশে কোন জঙ্গীবাদ নেই। কোন কোন মন্ত্রী-নেতারা বলেন, দেশে জঙ্গী নেই, এই শব্দটি নাকি বায়বীয়। সংঘটিত হত্যাকাণ্ডগুলোর পর সরকারদলীয় নেতা, মন্ত্রী ও এমপি’দের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য-বিবৃতি এবং বিরোধী দলের ওপর দায় চাপানোতে জঙ্গীরা আরো বেশী উৎসাহিত হচ্ছে। সুতরাং সংগঠিত জঙ্গীরা দেশের মধ্যেই একের পর এক অভয়ারণ্য তৈরী করে যাচ্ছে এবং তাদের অস্তিত্ব ধ্বংস হওয়ার চেয়ে আরো বেশী পুষ্টিলাভ করছে।

তিনি আরো বলেন, গত কয়েক বছরে চিন্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে অগ্রাহ্য, মানুষের ভোটাধিকার হরণ এবং বিরোধী দলকে পর্যদুস্ত করার লক্ষ্যে গণতন্ত্রকে রক্তাক্ত করতে গিয়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে সরকার নিজের ইচ্ছা পূরণে এতো বেশী ব্যবহার করেছে যে, এই সকল বাহিনী গণতন্ত্র, মানবতা, সভ্যতার শত্রু দানবীয় জঙ্গীগোষ্ঠীকে মোকাবেলা করার মতো সক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, এসব কারণে বেশ কয়েক মাস ধরে জঙ্গীদের নারকীয় কর্মকাণ্ডের কোনই সুরাহা করতে পারেনি আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। জঙ্গীবাদ নির্মূলে প্রকট দুর্বলতার জন্যই এখন আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও তাদের পরিবারের সদস্যদের দিকেও ধেয়ে এসেছে সংগঠিত জঙ্গীচক্র। যার হৃদয়বিদারক ও মর্মান্তিক পরিণতি দেশবাসীকে দেখতে হলো গত পরশু দিন চট্টগ্রামে। জঙ্গীবাদের ফলে সৃষ্ট দেশব্যাপী রক্তক্ষরণের বিদ্যমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের আদৌ কোন ইচ্ছা সরকারের আছে কী না তা নিয়ে জনমনে এক বড় ধরণের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কারণ, জঙ্গীবাদ দমনে সরকার এখন পর্যন্ত কোন বিশ্বাসযোগ্য অগ্রগতি করতে পারেনি। এদের নিয়ন্ত্রণে সরকারের চরম ব্যর্থতার কারণেই সকলের মধ্যেই আতঙ্ক ও ভীতির সীমানা ক্রমাগতভাবে বিস্তার লাভ করছে। উগ্রপন্থীদের হামলা রোধে ফখরুল দলমত নির্বিশেষে সকল শ্রেণীর মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল অবিলম্বে সনাতন ধর্মাবলম্বী পুরোহিত আনন্দ গোপাল গাঙ্গুলীকে হত্যাকারী দুর্বৃত্তদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবী জানান। তিনি নিহতের আত্মার শান্তি কামনা করে শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা ও সহমর্মিতা প্রকাশ করেন।