মনীষা হত্যার দশ দিনেও অদৃশ্য কারনে কাউকেই গ্রেফতার করেনী পুলিশ

0

জিসাফো ডেস্কঃ রাজধানীর দক্ষিণখানে গৃহবধূ ও লালমাটিয়া মহিলা কলেজছাত্রী ফাতেমা-তুজ-জোহুরা (মনীষা) হত্যার ১০দিন পেরিয়ে গেলেও স্বামী কেএসএম খালেকুজ্জামান তারেককে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। মনীষাকে হত্যার পর স্বামী তারেক ও শ্বশুর-শাশুড়ি সবাই গাঢাকা দিয়েছে। এদিকে মনীষা হত্যা মামলার আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে গত বুধবার দুপুরে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশে (ক্র্যাব) এক সংবাদ সম্মেলন করেন মনীষার বাবা হাজী মোস্তফা কামাল। বাবার অভিযোগ, তার মেয়ের শ্বশুরবাড়ির দাবিকৃত যৌতুকের টাকা ও গাড়ি সময়মতো দিতে না পারায় পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে তারা। এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা হলেও রহস্যজনক কারণে পুলিশ আসামিদের গ্রেফতার করছে না বলে অভিযোগ করেন মনীষার বাবা মোস্তফা কামাল। এ সময় তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। মোস্তফা কামাল বলেন, মনীষা লালমাটিয়া মহিলা কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্রী ছিল। গত বছরের এপ্রিলে আনুষ্ঠানিকভাবে তারেকের সঙ্গে মনীষার বিয়ে হয়। বিয়ের সময় মেয়েকে ১০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, হিরার আংটি, একটি ঘড়ি, এসি এবং ঘরের আসবাবপত্রসহ ১০ লাখ টাকার মালামাল দেওয়া হয়। বিয়ের সময় তারেক গুলশানে একটি ব্যাংকে চাকরি করত। বিয়ের কয়েক মাস পর চাকরি ছেড়ে বেকার জীবনযাপন শুরু করে তারেক। কয়েক মাস পরই বিভিন্ন অজুহাতে যৌতুক হিসেবে ১০ লাখ টাকা ও এফ প্রিমিও প্রাইভেট কার কিনে দেওয়ার জন্যও মনীষাকে চাপ দিতে থাকে। একপর্যায়ে মনীষা যৌতুকের টাকা দিতে না পারায় বিভিন্নভাবে নির্যাতন ও বেধম মারধর করে তারেক ও তার পরিবার। এমনকি হত্যারও হুমকি দেয়। মোস্তফা কামাল বলেন, গত ২৫ এপ্রিল মেয়ে মনীষাকে মারধর করে ১০ দিনের ভেতর যৌতুকের টাকা ও একটি এফ প্রিমিও প্রাইভেট কার কিনে দেওয়ার জন্য হুমকি দেয়। একপর্যায়ে নির্যাতন সইতে না পেরে বাধ্য হয়ে তাকে বিষয়টি জানায়। মোস্তফা কামাল আরও বলেন, মেয়ের কথা চিন্তা করে চলতি মাসের ১ তারিখ দুই লাখ টাকা দিয়ে মনীষার ছোট ভাইকে তারেকের কাছে পাঠানো হয়। তাকে বলা হয়, খুব শিগগিরই তার দাবিকৃত টাকা ও গাড়ি পৌঁছে দেওয়া হবে। কিন্তু তারেক পুরো টাকা না পেয়ে আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে গত ৪ মে মনীষাকে উত্তরার আধুনিক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানকার চিকিত্সকরা মনীষাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সেখান থেকে স্বামী তারেক পালিয়ে যাওয়ায় তার স্বজনরা সেখান থেকে টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে লাশ ফেলে সপরিবারে পালিয়ে যায়। মনীষার বাবা অভিযোগ করেন, আসামিরা সবাই পালিয়ে বেরাচ্ছে। পুলিশ তাদের রহস্যজনক কারণে গ্রেফতার করছে না। আসামিরা বাইরে থেকে মনীষার লাশের ময়নাতদন্ত রিপোর্ট ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করছে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, আমি একজন অসহায় পিতা। আমার মেয়ের হত্যার বিচার চাই। এমন দৃষ্টান্তমূলক বিচার দেখে আর কোনো যৌতুকলোভী স্বামী যেন এ ধরনের অপরাধ না করতে পারে। এ বিষয়ে দক্ষিণখান থানার ওসি তপন চন্দ্র সাহা বলেন, আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, মনীষার স্বামী যেন দেশের বাইরে যেতে না পারে তার জন্য বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশনে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এ ঘটনায় চারজনকে আসামি করে হত্যা মামলা হয়েছে। মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে নিহতের স্বামী কেএসএম খালেকুজ্জামান তারেক, বাবা আক্তারুজ্জামান, মা নাজমিন জামান ও ভাই ওয়াহিদকে।তবে আসামীদের গ্রেফতারে তেমন আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ সিপাহী বলে এটা এখন উপর মহলের ইশারায় চলছে।