ভয়াবহ বন্যায় জনদুর্ভোগ পৌঁছেছে চরমে

0

জিসাফো ডেস্কঃ ভারতের সবকটি বাধঁ খুলে দেয়াতে ও টানা বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে দেশের বিভিন্ন নদীর পানি বেড়ে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। ভয়াবহ বন্যায় জনদুর্ভোগ পৌঁছেছে চরমে। পানি উন্নয়ন বোর্ডে বন্যা পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সোমবারসহ আগামী দুই দিনে ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, পদ্মাসহ রাজধানী ঢাকার আশপাশের নদীগুলোর পানি আরো বাড়তে পারে।
বন্যা সতর্কীকরণ কেন্দ্র বলেছে, আগামী দুই দিনে শরীয়তপুর, মাদারীপুর, মুন্সীগঞ্জ, রাজবাড়ী ও ফরিদপুর জেলার বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হতে পারে। পাশাপাশি বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, জামালপুর ও টাঙ্গাইল জেলার অবস্থা অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
দেশের বিভিন্ন জেলার বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে রাইজিংবিডির প্রতিনিধিদের পাঠানো প্রতিবেদন :
শেরপুর : শেরপুরের পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের পানি আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। নতুন করে ১১টি গ্রামে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। পানিতে তলিয়ে গেছে ফসলের খেত।
শেরপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী হাসানুজ্জামান জানান, সোমবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় শেরপুর ফেরিঘাট পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি ১৯ সেন্টিমিটার বেড়েছে।
নতুন করে শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার ভেলুয়া ইউনিয়নের ১৮টি গ্রামের মধ্যে ১১টি গ্রামে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। গ্রামগুলো হলো লক্ষ্মীডাংড়ি, নয়াপাড়া, চকবন্দি, ঢনঢনিয়া, তিনানী ভেলুয়া, চরশিমুলচড়া, কাউনেরচর, ডাকরাপাড়া, বারারচর, বলদেপাড়া ও যষ্টিপাড়া ।

গত দুই দিনে বন্যার পানিতে ডুবে এক স্কুলছাত্রসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এরা হলেন চর শ্রীপুর গ্রামের জানিক মিয়ার ছেলে, সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী আবদুর রশিদ (১৪), জুগনি বাগ খড়িয়া গ্রামের জমশেদ আলী (৫০) ও চর ভাবনা গ্রামের সমেশ (৪৫)।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সুভাষ চন্দ্র দেবনাথ জানান, বন্যায় চরাঞ্চলের প্রায় ৪০০ হেক্টর জমির আমন খেত পানিতে তলিয়ে গেছে।

বগুড়া : বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে বন্যার পরিস্থিতির অবনতি অব্যাহত রয়েছে। বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধের আরো ৫০০ মিটার নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার পর প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। সারিয়াকান্দি, ধুনট, সোনাতলা, শাজাহানপুর এবং গাবতলী এই- পাঁচ উপজেলার দুই শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

বিপৎসীমার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন অন্তত দুই লাখেরও বেশি পানিবন্দি মানুষ। খোলা আকাশের নিচে দিন যাপন করছেন অনেকেই।

সারিয়াকান্দি উপজেলার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রত্যয় হাসান জানান, সারিয়াকান্দিতে এ পর্যন্ত ৪৭ হাজার পরিবার পানিবন্দি রয়েছে। লক্ষাধিক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত আর পানির নিচে নিমজ্জিত রয়েছে ১০ লাখ হেক্টর আবাদি জমি। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য আশ্রয়ণ কেন্দ্র খোলা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সোনাতলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফিরাজুল ইসলাম জানান, এই উপজেলায় ২৬টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। সাড়ে আট হাজার পরিবার পানিবন্দি এবং এখানে পানির নিচে নিমজ্জিত ১০ হাজার ৩৫ হেক্টর আবাদি জমি।

ধুনট উপজেলা নির্বাহী অফিসার জানান, ধুনট পৌর এলাকা ও সদরসহ ৫০টি গ্রামে পানি প্রবেশ করেছে। লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি। ছোট-বড় সব জলাশয় তলিয়ে গেছে।

এ ছাড়া গাবতলী ও শাজাহানপুরের ২০টি গ্রামে নতুন করে পানি ঢুকতে শুরু করেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম সরকার জানান, এখনো উজানের পাহাড়ি ঢল যমুনায় প্রবেশ করছে। ফলে পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। তবে দু-এক দিনে মধ্যে কিছুটা উন্নতির সম্ভাবনা রয়েছে।

জামালপুর : জামালপুরের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনার পানি কিছুটা কমলেও আজ সোমবার সকালে বিপৎসীমার ৩০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

টানা ১৫ দিন ধরে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় দুর্গত এলাকায় কাজ ও খাদ্যের তীব্র সংকট চলছে। দুর্গত এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে পানিবাহিত রোগ।

জামালপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আবুল কাসেম জানিয়েছেন, জেলার প্রায় ৩৪ হাজার হেক্টর জমির ফসল পানিতে নিমজ্জিত আছে। এর মধ্যে শুধু রোপা আপন হলো ৩২ হাজার হেক্টর। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জেলার প্রায় দুই লাখ ৩০ হাজার কৃষক। বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আগামী রবি মৌসুমে কৃষি পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা করা হবে বলে তিনি জানান।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা রণজিৎ কুমার পাল জানান, জেলার প্রায় আড়াই হাজার পুকুর বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। এতে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা জানার জন্য মৎস্য বিভাগ তথ্য সংগ্রহ করছে।