ভিক্ষার টাকায় সংসার চলছে মুক্তিযোদ্ধা লাল মিয়ার!

0

জিসাফো ডেস্কঃ দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করলেও জীবনযুদ্ধে হেরে যেতে বসেছেন নরসিংদীর পলাশী উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা লাল মিয়া। দারিদ্র্যের কশাঘাতে জর্জরিত এ মুক্তিযোদ্ধা আজ পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। নিরুপায় হয়ে সংসারের খরচ জোগাতে বেছে নিয়েছেন ভিক্ষাবৃত্তি। প্রতিদিন ঘোড়াশাল ইউরিয়া সার কারখানার গেটে বসে মানুষের সামনে হাত পাতেন তিনি। এতে যে টাকা আসে, তা দিয়ে ছোট ছেলের পড়াশোনার খরচ দিয়ে সংসার চলে না। তার পরও ছেলে একদিন পড়াশোনা করে সরকারি চাকরি করবে— এ আশায় বুক বেঁধে আছেন।

জানা গেছে, ১৯৫১ সালের ১০ জানুয়ারি কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর থানার বড় ছয়সূতি গ্রামে জন্ম লাল মিয়ার। পিতা মো. মফিজ উদ্দিন ছিলেন কৃষক। ১০ ভাইবোনের মধ্যে লাল মিয়া বড়। তার মুক্তিযোদ্ধা সনদ নং ম. ১৪০৪৪০ (তারিখ ২২.১০.২০০৯), আইডি নম্বর ০৭০৩১০০৩৪৯, গেজেট ৩৬০৭ (তারিখ ২৪.১১.২০০৫)।

লাল মিয়া জানান, ১৯৭১ সালে যখন যুদ্ধে যোগ দেন তখন তিনি ২০ বছরের টববগে তরুণ। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে ওই দিন যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন তিনি। ৫ নং সেক্টর কমান্ডার মেজর সালাহ উদ্দিনের নেতৃত্বে চীনাকান্দি বিডিআর ক্যাম্পে অবস্থান করেন। সেখান থেকে ভাতেরটেক, সুরমা নদী পাড়ি দিয়ে লালপুর, উড়াকান্দা, বেরিগাঁও, মঙ্গলকাটা, টুকেরঘাট ও শালবন এলাকায় পাক সেনাদের সঙ্গে যুদ্ধ করেন।

১৯৭৩ সালে পক্ষাঘাত ব্যাধিতে আক্রান্ত হন চার সন্তানের জনক লাল মিয়া। এ সময় বাম হাত ও পায়ের কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন তিনি। অর্থের অভাবে ঠিকমতো চিকিত্সা করাতে না পারায় শারীরিক অবস্থা আরো খারাপ হয়। পরে বাধ্য হয়ে জীবিকার টানে চলে যান নরসিংদীর শিল্পাঞ্চল পলাশ উপজেলায়। কিন্তু শারীরিক অক্ষমতার কারণে কোনো কাজ জোটেনি তার।

তিনি বলেন, চার ছেলের মধ্যে তিনজন বিয়ে করে স্ত্রী নিয়ে আলাদা থাকে। আমি, আমার স্ত্রী ও ছোট ছেলেকে নিয়ে পলাশ উপজেলার গাবতলী গ্রামে একটি ভাড়া বাসায় থাকি। তিন ছেলের অবস্থাও ভালো নয়। তারাও চরম দারিদ্র্যের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। তাই মা-বাবার খোঁজখবর রাখে না। ছোট ছেলে স্থানীয় একটি কলেজে পড়াশোনা করছে। ছেলেটি একটি সরকারি চাকরি করবে, সে আশায় বুক বেঁধে আছি।

আক্ষেপ প্রকাশ করে এ মুক্তিযোদ্ধা বলেন, ছেলেটার পড়াশোনার জন্য স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে একাধিকবার হাত পেতেও কোনো লাভ হয়নি। সরকারিভাবে যে ভাতা আসে তা গ্রহণ করার জন্য সুনামগঞ্জ যেতে হয়। কেননা আমার নাম সুনামগঞ্জের মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। প্রত্যেকবার ভাতার টাকা গ্রহণ করার জন্য সুনামগঞ্জ যাতায়াতে হাজারখানেক টাকা খরচ হয়। তাছাড়া উপরি খরচ তো আছেই। তাই সে ভাতার টাকা আদৌও কোনো কাজে লাগাতে পারি না। তাই বাধ্য হয়ে ভিক্ষাবৃত্তি বেছে নিয়েছি।