ভারত থেকে দেশে আসছে মরা পশুর মাংস

0

ভারতের হোটেল-রেস্তোরাগুলোতে মরা পশুর মাংস সরবরাহে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর নজরদারি আরোপ করায় নতুন কৌশল অবলম্বন করছে অসাধু মাংস ব্যবসায়ী। ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকে হিমায়িত মরাপশুর মাংস পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে জড়ো করা হচ্ছে। মরা মুরগি ও খাসির মাংস পশ্চিমবঙ্গ থেকে পাচার হচ্ছে বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটানে।

কয়েকদিন আগে বিহারের একটি ভাগার থেকে মরা পশুর মাংস ওই এলাকার হোটেলগুলোতে যাচ্ছে বলে খবর পায় সেদেশের পুলিশ। এরপর সেখানে অভিযান চালিয়ে আটক করা দুইজনকে। তাদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী বিহারের নওদা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় এ কাণ্ডে জড়িত মূলহোতা সানিকে। তার দেয়া তথ্যে জানা যায়, শুধু বজবজ নয়, ভাগাড়ের মাংস যেত ট্যাংরা, কাঁকিনাড়া, জগদ্দলসহ একাধিক এলাকায়। এরপর খোঁজ মেলে হিন্দুস্তান কোল্ড স্টোরের। সেখানে রাখা হতো এসব মাংস।

এ ঘটনার পর গত কয়েকদিন কলকাতাসহ পশ্চিমবঙ্গের কয়েকটি সীমান্তবর্তী জেলা থেকে বিপুল পরিমাণ মরা পশুর মাংস উদ্ধার করা হয়। এসব মরা পশু মাংস বিক্রেতাদের গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে রাজ্যটির গোয়েন্দা দফতর। এরই পরিপ্রেক্ষিতে পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত লাগোয়া ছয়টি জেলার পুলিশ এবং সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কাছে এবিষয়ে সর্তক থাকার নির্দেশনা পাঠিয়েছে রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতর।

জানা গেছে, বিষয়টি কানে গেছে মুখ্যমন্ত্রী মমতাব ব্যানার্জিরও। শুক্রবার তিনি এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোকে আরও কঠোর হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। রাজ্যে কোথাও যাতে খাদ্যে ভেজাল কিংবা এই ধরণের কর্মকাণ্ড না হয় সে বিষয়ে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের।

রাজ্য পুলিশ সূত্র বলছে, মঙ্গলবার রাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত প্রায় ৩০ টন মরা পশুর মাংস উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে এই ধরণের চক্র চালানোর অপরাধে গ্রেফতার করা হয়েছে ১৪ জন অসাধু মরা পশুর মাংস বিক্রেতাকে।

পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, কলকাতা সহ শহরতলীর নামি ও অনামি হোটেল ও রেস্তোরায় জ্যান্ত পশুর মাংসের সঙ্গে এইসব মরা ও রোগাক্রান্ত পশুর মাংস মিশিয়ে বিক্রি করা হয়। প্রতি কেজি ১০০ রুপিতে বিক্রি হচ্ছে মরা পশুর মাংস।

এর আগেও বহুবার পশ্চিমবঙ্গে খাদ্যে ভেজালের খবর শিরোনামে জায়গা পেয়েছে। যেমন, সবজিতে বিভিন্ন ধরণের কৃত্রিম রঙ মেশানো, মশলায় আটা মেশানো, পাস্টিকের চাল-ডিম। তবে এবার মরা পশুর মাংস বিক্রির খবর ফাঁস হওয়া রাজ্য জুড়ে আতঙ্ক শুরু হয়েছে।

এই ঘটনা প্রথম সামনে আসে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার ডায়মন্ড হারবার এলাকায়। ডায়মন্ড হারবার (পুলিশ জেলা) পুলিশ সুপার কটেশ্বর রাও জানিয়েছেন, গোপন সূত্রের খবর পেয়ে দুদিন আগে ওই জেলার একটি গোডাউন থেকে ২০ টন মরা পশুর মাংস জব্দ করেন এবং এই সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে সাতজন ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেন। ওই ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে কলকাতা, হাওড়া, উত্তর চবিবশ পরগনার নদীয়া জেলার অভিযোগ চালায় পুলিশ এবং সেখান থেকেও বিপুল পরিমাণ মরা পশুর মাংস উদ্ধার করে এবং আরও ৭ জন গ্রেফতার করা করা হয়।

কলকাতার সদর স্ট্রিটের একটি হোটেলের ম্যানেজার বিপ্লব মুর্খাজি জানালেন, দুদিন ধরে মাংস বিক্রি নেই। যদিও তিনি দাবি করেন, কোনও বাইরের মাংস তারা কেনেন না। জ্যান্ত মুরগি, পাঠা কিনে কেটে স্বাস্থ্যসম্মত ভাবেই রান্না করে তা বিক্রি করে তার হোটেল। কিন্তু তা সত্যেও মানুষ ভয়ে,আতঙ্কে খাচ্ছেন না।

শহরের নামি ও অনামি রেস্তোরায় মরা মাংসের চালানের খবর সংবাদ মাধ্যমের প্রকাশিত হওয়ায় পর থেকেই কলকাতার রাস্তায় খাবারের তালিকা থেকে বাদ পড়েছে সব ধরণের মাংস।

উৎসঃ বাংলানিউজ