ভারতের সাময়িক ট্রানজিটে,প্রতিটন ১ টাকা ২ পয়সা করে মাসুল নেবে বাংলাদেশ

0
জিসাফো ডেস্কঃ ভারত সাময়িক ট্রানজিট সুবিধায় বাংলাদেশের সড়কপথ ব্যবহার করে দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসাম থেকে পেট্রোল, ডিজেল ও গ্যাস আরেক রাজ্য ত্রিপুরায় নেবে। আগামী বৃহস্পতিবার থেকে ১০ ট্যাঙ্কলরি ভর্তি পেট্রোল, ডিজেল ও গ্যাস ত্রিপুরায় প্রবেশের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এই পণ্য পারাপার শুরু হবে। প্রতিদিন (দিনের বেলা) সর্বোচ্চ ৮০টি লরিতে জ্বালানি পরিবহন করতে পারবে ভারত। এই পণ্যের জন্য প্রতিটনে ১ টাকা ২ পয়সা করে মাসুল নেবে বাংলাদেশ। এজন্য গত ১৮ আগস্ট ঢাকায় বাংলাদেশের সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের সঙ্গে ভারতের ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশন লিমিটিডের (আইওসিএল) মধ্যে এ বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বারিত (এমওইউ) হয়েছে। ভারি বর্ষণ এবং পাহাড়ি ভূমিধসের কারণে আসাম থেকে ত্রিপুরাগামী জাতীয় সড়ক (এনএইচ-৪৪) ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ত্রিপুরার সঙ্গে ভারতের অন্যান্য অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। ফলে ত্রিপুরা রাজ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসহ জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এ কারণে মানবিক দিক বিবেচনা করে সাময়িক ট্রানজিট সুবিধা দিয়েছে বাংলাদেশ। ভারতের ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশন লিমিটেডের (আইওসিএল) কর্মকর্তা  জানিয়েছেন, ভারতীয় ট্যাংকারগুলো উত্তর আসামের বঙ্গাইগাঁও থেকে যাত্রা করে মেঘালয়ের ডাউকি সীমান্ত-সিলেটের তামাবিল-মৌলভীবাজারের চাতলাপুর হয়ে প্রায় চার ঘণ্টায় ১৩৬ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে উত্তর ত্রিপুরার কৈলাশপুরে ঢুকবে। ত্রিপুরায় জ্বালানি তেল সরবরাহের পর খালি যানবাহনগুলো বাংলাদেশের চাতলাপুর চেকপোস্ট হয়ে একই পথে ভারতে ফিরে যাবে। বাংলাদেশ হয়ে নতুন এই পথে জ্বালানি পরিবহনে খরচ ও সময় দুটোই বাঁচবে জানিয়ে আইওসিএল কর্মকর্তা বলেন, “অত্যন্ত প্রয়োজনীয় এসব পণ্য ৪০০ কিলোমিটারের বেশি পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে ত্রিপুরায় নিতে ১০ ঘণ্টারও বেশি সময় লাগে। তাছাড়া মেঘালয় ও দণি আসাম হয়ে জাতীয় মহাসড়কের অবস্থাও খুব খারাপ।বাংলাদেশের কর্মকর্তারা বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, ত্রিপুরার জনগণের সাথে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক বন্ধন এবং সর্বোপরি মানবিক অবস্থা বিবেচনায় বাংলাদেশ এই প্রস্তাবে সাড়া দিয়েছে। এর আগে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ত্রিপুরায় খাদ্যশস্য ও ভারি যন্ত্রপাতি বহনে বাংলাদেশের ভূমি ব্যবহারের অনুমতি দেয় সরকার।আসাম ও মেঘালয়ের গতানুগতিক বন্ধুর পথ এড়িয়ে গত মাসে কলকাতা থেকে বাংলাদেশ হয়ে দুই হাজার ৩৫০ টন চালের নতুন একটি চালান ত্রিপুরায় পাঠিয়েছে ভারতের খাদ্য করপোরেশন (এফসিআই)। এর আগে ত্রিপুরায় ৭২৬ মেগাওয়াট ‘পালটানা বিদ্যুৎ কেন্দ্র’ নির্মাণের জন্য ভারী যন্ত্রপাতিসহ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন ধরনের সরঞ্জাম পরিবহনে ভারতের অয়েল অ্যান্ড ন্যাচারাল গ্যাস করপোরেশন লিমিটেডকে (ওএনজিসি) বাংলাদেশের পথ ব্যবহারের অনুমতি দেয়া হয়।আসাম ও পশ্চিমবঙ্গ হয়ে সরু একটি পাহাড়ি ভূমি রয়েছে চড়াই-উৎরাইয়ের ওই পথে যানবাহন বিশেষ মালবোঝাই ট্রাক চলাচল খুবই কঠিন। সড়ক পথে গুয়াহাটি হয়ে আসাম থেকে কলকাতার দূরত্ব এক হাজার ৬৫০ মাইল, দিল্লির দূরত্ব দুই হাজার ৬৩৭ মাইল। কিন্তু বাংলাদেশ হয়ে আগরতলা ও কলকাতার মধ্যে দূরত্ব মাত্র ৬২০ কিলোমিটার।এদিকে আগরতলার দৈনিক দেশের কথা পত্রিকার এক খবরে বলা হয়, আগামী ৮ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত একটানা এই পেট্রোপণ্য যাবে আসাম থেকে বাংলাদেশ হয়ে ত্রিপুরায়। বাংলাদেশের সড়ক পথ ব্যবহার করে এটি হবে পেট্রোপণ্যের প্রথম চালান। খবরে আরো বলা হয়েছে, ভারতের আইওসি নামে একটি প্রতিষ্ঠান নিজেদের ট্যাংকার দিয়ে এই পেট্রোপণ্য পারাপার করবে। সিলেট ডাউকী স্থলবন্দর দিয়ে এই পণ্য প্রবেশের পর মৌলভীবাজার বাইপাস হয়ে সমসের নগর চাতলাপুর স্থলবন্দর অতিক্রম করে ত্রিপুরার কৈলাসহর মনু স্থলবন্দর দিয়ে ত্রিপুরায় প্রবেশ করবে।