ভারতের নির্দেশ মানতে যেন সদা তৎপর বাংলাদেশের বর্তমান সরকার

0

জিসাফো ডেস্কঃ বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেছেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিকে বানচাল করার জন্যই জঙ্গিবাদ তৎপরতা সৃষ্টি করা হয়েছে। দানবীয় জঙ্গিবাদ দেশ থেকে দূর হোক তা বর্তমান সরকারই চায় না।

মঙ্গলবার (২১ মার্চ) দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘ক্রসফায়ার, বন্দুকযুদ্ধ, গুম, অপহরণের কোনো অনুমোদন আমাদের সংবিধানে নেই। তাই জঙ্গি নির্মূলে সরকারের প্রশ্নবোধক দমননীতি যেমন সংবিধান অনুমোদন করে না, অন্যদিকে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে হত্যার মধ্যে দিয়ে জঙ্গিবাদের নেটওয়ার্কও অজানা থেকে যাচ্ছে। দেশের জনগণ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে, সরকার পরিকল্পিতভাবে জঙ্গিবাদের সামগ্রিক তৎপরতা আড়াল করছে। তাই জনগণ প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের প্রাক্কালে আবারও দেশব্যাপী রক্তাক্ত জঙ্গি তৎপরতাকে প্রস্তাবিত প্রতিরক্ষা চুক্তির বিষয়ে মানুষের দৃষ্টিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার কৌশল হিসেবে দেখছে।

জঙ্গিবাদ জাতীয় নির্বাচনের অন্তবায় বলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দেওয়া বক্তব্যের সমালোচনায় রিজভী বলেন, ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যে এটা পরিষ্কার যে, জঙ্গি হামলার বেনিফিশিয়ারি কারা? কারা জঙ্গিবাদকে জিইয়ে রেখে দীর্ঘদিন রাষ্ট্রক্ষমতা আকড়ে রেখেছে? এ বিষয়টি জনগণের কাছে এখন পরিষ্কার হয়ে গেছে যে, একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি বানচাল করার জন্যই জঙ্গিবাদ তৎপরতা সৃষ্টি করা হয়েছে। তাই দানবীয় জঙ্গিবাদ দেশ থেকে দূর হোক তা বর্তমান সরকারই চায় না।

তিনি বলেন, ভারতের নির্দেশ মানতে যেন সদা তৎপর বাংলাদেশের বর্তমান সরকার। ভারতের কাছে নতজানু হয়ে থাকাটাই তাদের ক্ষমতায় থাকার গ্যারান্টি। প্রস্তাবিত চুক্তির বিষয়ে এমনও শোনা যাচ্ছে যে, দুই দেশ সম্মিলিতভাবে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বিধ্বংসী কোনো গুরুতর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে একসঙ্গে মোকাবিলা করবে। এর অর্থ হচ্ছে বিভিন্ন অজুহাতে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারতকে হস্তক্ষেপ করার সুযোগ দেওয়া। এর ফলে যা হবে সেটি হচ্ছে ভারতের আগ্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের সোচ্চার জন গোষ্ঠীকে যাতে দমন করা সহজ হয়।

তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে প্রতিরক্ষা চুক্তির বিষয়ে এলজিআরডিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, আমরা কেবিনেটে বসি। আমরাও তো জানি না কি চুক্তি হবে। বিএনপি জানল কীভাবে কী চুক্তি হবে। কোনো চুক্তি যদি প্রধানমন্ত্রী করেন তা হলে জনগণ তা জানতে পারবে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলছেন দেশের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে কোনো চুক্তি হবে না। প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে সরকারের একেক মন্ত্রী একেক কথা বলছেন। জনগণ কার কথা বিশ্বাস করবে।’

এলজিআরডিমন্ত্রীকে উদ্দেশে রিজভী বলেন, ‘গণমাধ্যমে এত খবর বের হচ্ছে, আপনাদের দলের বিভিন্ন নেতারা প্রতিরক্ষা চুক্তি বিষয়ে নানা কথা বলছেন অথচ সে বিষয়টি আপনার মতো কেবিনেট মন্ত্রীরা জানেন না, নাকি বেমালুম চেপে যাচ্ছেন। এখানেই তো আসল রহস্য লুকিয়ে আছে। আমরা সরকারের উদ্দেশ্যে পরিষ্কার বলতে চাই-আজকে দেশের স্বাধীনতা-সর্বভৌমত্ব নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হচ্ছে। এই প্রতিরক্ষা চুক্তি আমাদের স্বাধীনতা-সর্বভৌমত্ব সুরক্ষার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত, যা অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়। লাখ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে যে স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে সেই স্বাধীনতা-সর্বভৌমত্ব নিয়ে কখনোই ছিনিমিনি খেলতে দেবে না জনগণ।’