ব্যাপক অরাজকতা,সংঘর্ষ ,অনিয়ম আর প্রাণহানির মধ্য দিয়ে শেষ হল চতুর্থ দফার ইউপি নির্বাচন

0
জিসাফো ডেস্কঃ ব্যাপক সহিংসতা, ব্যালট পেপার ছিনতাই, জাল ভোট প্রদান, প্রভাব বিস্তার, কেন্দ্র দখল, অর্থ -বাণিজ্য, আওয়ামী লীগ সমর্থীত প্রার্থীদের সরকারি কর্মকর্তাদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদসহ নানা  অনিয়ম ও প্রতিপক্ষের প্রার্থীদের ভোট বর্জনের মধ্যদিয়ে শেষ হয়েছে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের চতুর্থ ধাপের ভোটগ্রহণ। আজকে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে প্রাণহানি ঘটেছে ৪ জনের। আহত হয়েছে কয়েক শত।

চতুর্থ দফায় আজ ৭০৩ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে। সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত একটানা এই ভোট গ্রহণ করা হয়। এখন চলছে গণনা। আগের তিন ধাপের মতো এবারও সারাদেশে নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম আর  সহিংসতার ঘটনা ঘটে।

কুমিল্লা, নরসিংদী ও ঠাকুরগাঁওয়ে অন্তত ৩ জন নিহত হয়েছেন।  তারা হলেন- কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার তাপস চন্দ্র পাল (২৬),  নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থী আযান চৌধুরীর ভাগিনা সুমন হোসেন (৩১) ও ঠাকুরগাঁওয়ের মাহবুব(১৭)। এছাড়া নেত্রকোনায় একজন ইউপি সদস্য প্রার্থী মারা গেছেন।

অস্ত্রের মুখে ভোটকেন্দ্র দখল, জাল ভোট ও ব্যালট ছিনতাইকালে সংঘর্ষে সারাদেশে কয়েকশ’ আহত এবং ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তিকে আটক করেছে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী।

এবারও জাল ভোট, ব্যালট পেপার ছিনতাই, কেন্দ্র দখলের অভিযোগ এনে বিএনপির আট প্রার্থীসহ অন্তত ১৩ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী ভোট শুরুর পরপরই নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন।

এছাড়া ভোটের আগের রাতেই ব্যালটে সিল মারার অভিযোগে সারাদেশে ৮ জন প্রিজাইডিং কর্মকর্তাকে আটক করেছে পুলিশ। এদের মধ্যে একজনের ৭ দিনের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

সকালে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের উত্তর চন্দলা স্কুল বাজার ভোটকেন্দ্রে প্রভাব বিস্তার নিয়ে আওয়ামী লীগ সমর্থক দুই মেম্বার প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় ধারাল অস্ত্রের আঘাতে তাপস চন্দ্র পাল নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।

শনিবার সকাল ১০টার দিকে মাধবপুর ইউনিয়নের উত্তর চন্দলা স্কুল বাজার ভোটকেন্দ্রে মেম্বার প্রার্থী রেজাউল ও সুলতাদের সমর্থকদের এ সংঘর্ষ হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কেন্দ্রে প্রভাব বিস্তার নিয়ে উভয় প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা হয়। পরে তার সংঘর্ষের রুপ নেয়। এ সময় প্রতিপক্ষের ধারাল অস্ত্রের আঘাতে রেজাউলের সমর্থক তাপস ঘটনাস্থলেই মারা যান।

এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে।

এদিকে নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকরা দলটির বিদ্রোহী প্রার্থীর এক সমর্থককে কুপিয়ে হত্যা করে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রায়পুরা উপজেলার শ্রীনগর রংপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে টেঁটাবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন আরও ৫ জন। তাদের জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে ঠাকুরগাঁওয়ে নির্বাচনী সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। তার নাম মাহবুব (১৭)। আজ নির্বাচনকালীন ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার পারিয়া ইউনিয়নের মাছপুরিয়া দাখিল মাদ্রাসা ভোট কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বেলা ২টার পর ভোট কেন্দ্রে আধিপত্য বিস্তার ও জালভোট দেয়াকে কেন্দ্র করে দুই মেম্বার প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষ বাধে। এসময় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে মাহবুব নামে এক কিশোর নিহত হয়।

এদিকে এ ঘটনার পর ওই ভোটকেন্দ্র জনশূন্য হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ওই ভোট কেন্দ্রসহ আশেপাশের এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারীতে ইউপি নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার ও ভোটকেন্দ্র দখলের চেষ্টার অভিযোগে মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নূরুল আজিম রনিকে অস্ত্রসহ আটক করা হয়েছে।

বেলা সোয়া ১২টার দিকে উপজেলার মির্জাপুর থেকে তাকে আটক করেন নির্বাচনে দায়িত্বরত একজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট। এরপর তাকে হাটহাজারী থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।

চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার (এসপি) একেএম হাফিজ আক্তার বলেন, রনিকে আটকের পর হাটহাজারী থানায় নেয়া হয়েছে।

হাটহাজারী থানার ওসি ইসমাইল হোসেন বলেন, মির্জাপুর ইউনিয়নের সাত নম্বর ভোটকেন্দ্র ছইল্যাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে থেকে রনিকে আটক করা হয়। তার কাছে অস্ত্র পাওয়া গেছে।

নূরুল আজিম রনি রাজনীতিতে সাবেক মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী।