ব্যাংকে অর্থ রাখার প্রতি বিমুখ হচ্ছে সাধারণ মানুষ

0
জিসাফো ডেস্কঃ সোনালী ব্যাংকের হল মার্ক কেলেঙ্কারি, বেসিক ব্যাংকের নানা অনিয়ম, ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের বুথ থেকে টাকা লুট, প্রাইম ব্যাংকের বুথ থেকে অর্থ চুরির সময় বিদেশি আটক- সেই সঙ্গে রিজার্ভের অর্থ হ্যাকের কারণে ব্যাংকের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলছেন সাধারণ মানুষ।
এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ব্যাংকের সুদ সিঙ্গেল ডিজিটে নেমে যাওয়া। অন্যদিকে ব্যাংক ছেড়ে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করবে তারও কোনো উপায় নেই। কারণ পুঁজিবাজারে ব্যাংকের শেয়ারের অবস্থা এখন খুবই নাজুক।
সংশ্লিষ্টদের মতে কয়েকটি কারণে ব্যাংকে অর্থ রাখার প্রতি বিমুখ হচ্ছে সাধারণ মানুষ। এর মধ্যে প্রধান হচ্ছে নিরাপত্তা। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ছয় হাজার ৯শ ৯০ কোটি টাকা (৮৭০ মিলিয়ন ডলার) হ্যাক হওয়ার কারণে সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। কারণ বাংলাদেশ ব্যাংককে ধরা হয় নিরাপত্তার বড় বলয়।
সেখান থেকে অর্থ লোপট হওয়ায় জনমনে শংকা তৈরি হয়েছে। এই শংকা কাটিয়ে উঠতে সময় লাগবে। ব্যাংকের প্রতি অনিহার  অন্য একটি বড় কারণ হচ্ছে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর বুথ থেকে টাকা লোপাট। সম্প্রতি কয়েকটি ব্যাংকের বুথ থেকে টাকা লোপাটের ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া ব্যাংকে আমানতে সুদের হার সম্প্রতি সিঙ্গেল ডিজিটে (সর্বশেষ ৬ শতাংশ) নেমে এসেছে। যে কারণে ব্যাংকে টাকা রাখতে আগ্রহী হচ্ছেন না গ্রাহকরা।
বিষয়টি নিয়ে আলাপ করলে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, ‘রিজার্ভ চুরি ইস্যুর কারণে অনেকে মনে করছেন ব্যাংকে নিরাপত্তা নেই। আমি তেমনি মনে করছি না, রিজার্ভ চুরির বিষয়টি ব্যাংলাদেশ ব্যাংক খতিয়ে দেখছে। এতে ভয় পাওয়ারও কিছু নেই।তবে  আমি বিশ্বাস করি যথা সময়ে সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে।’
এদিকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোর অবস্থাও করুন। দীর্ঘদিন থেকে এসব শেয়ারের প্রতি চাহিদা নেই সাধারণ বিনিয়োগকারীদের।
ডিএসই থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯-১০ সালে মোট লেনদেনের ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ অবদান থাকত ব্যাংকের। কখনো এর পরিমাণ ৪০ শতাংশ ছাড়িয়ে যেত। কিন্তু বর্তমানে তা ১০ থেকে ১২ শতাংশে নেমে এসেছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ব্যাংকগুলোর অনিময়ের প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়েছে শেয়ার বাজারে। যে কারণে এসব শেয়ারের চাহিদা কমে গেছে। বর্তমানে তালিকাভুক্ত ২৮ শতাংশ ব্যাংকের শেয়ারের দর রয়েছে রয়েছে অভিহিত মূল্যের নিচে।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিনিয়োগকারীদের নেতা শাহাদাত হোসেন ফিরোজ বলেন, একটি কোম্পানি তার লাভ-লোকসানের ওপর ভিত্তি করে বছর শেষে শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ দেয়। কিন্তু বর্তমানে অধিকাংশ ব্যাংকের আয় কমে গেছে। সেই সঙ্গে যোগ হয়েছে নানা অনিময়। সে কারণে কেউ ঝুঁকি নিতে নারাজ। ফলে শেয়ার বাজারে এই খাতের অবস্থা বেহাল।
একই বিষয়ে ডিএসইর পরিচালক মো. রকিবুর রহমান বলেন, ‘সম্প্রতি যে সব ঘটনা ঘটে গেছে, ব্যাংকের শেয়ারের দর কমার সঙ্গে আমি এ বিষয়গুলোতে মেলাতে চাই না। এখন পুঁজিবাজারের সার্বিক পরিস্থিতি খারাপ। যার প্রভাব পড়েছে ব্যাংকের শেয়ারে।