বেড়েই চলছে সড়ক দুর্ঘটনা ঈদে দেশের বিভিন্ন স্থানে ২৪০টি দুর্ঘটনায় ৩১১ জন যাত্রী নিহত

0

জিসাফো ডেস্কঃ এবারের ঈদে দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক, নৌ ও রেলপথে ২৪০টি দুর্ঘটনায় ৩১১ জন যাত্রী নিহত হয়েছে বলে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার বেলা ১২টায় বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী প্রতিবেদনটি পড়ে শোনা।

প্রতিবেদন উপস্থাপন করার সময় মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ‘ঈদ যাত্রার দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ২০৫টি দুর্ঘটনায় ২৭৪ জন যাত্রী নিহত হন এবং আহত হন ৮৪৮ জন। এরমধ্যে সব চেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে সড়ক পথে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঈদ যাত্রার শুরুর দিন ১৯ জুন থেকে ১ জুলাই পর্যন্ত মোট ১৩ দিনে দেশের ২২টি জাতীয় দৈনিক, ৬টি আঞ্চলিক পত্রিকা ও ১০টি অনলাইন পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের উপর মনিটরিং করে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। সংগঠনের সড়ক দুর্ঘটনা মনিটরিং সেল প্রতিবেদনটি তৈরি করে।’

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিবছর ঈদকেন্দ্রিক সড়ক দুর্ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যায়ওয়া গত চার বছর ধরে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করে আসছেন বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। এবারের ঈদে রেশনিং পদ্ধতিতে ছুটি থাকায় ঈদযাত্রা খানিকটা স্বস্তিদায়ক হলেও সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েছে। বেড়েছে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ঈদ যাত্রায় দেশের বিভিন্ন স্থানে নৌ-পথে একটি দুর্ঘটনায় তিন জন নিহত ও ১৪ জন আহত হন, রেলে কাটা পড়ে পূর্বাঞ্চলে ২৫ জন ও পশ্চিমাঞ্চলে ৯ জনসহ মোট ৩৪ জন নিহত হন।

প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, দুর্ঘটনায় ৩৮ শতাংশ বাস, ৩৪ শতাংশ ট্রাক ও পিকআপ, ২৪ শতাংশ নছিমন-করিমন, ভটভটি-ইজিবাইক, অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল এবং ৪ শতাংশ অন্যান্য যানবহন জড়িত ছিল।

দুর্ঘটনার ধরণ বিশ্লেষণে দেখা যায়, পথচারী ৩৬ শতাংশ, মুখোমুখি সংঘর্ষে ৩৮ শতাংশ, ওভারটেকিংয়ে ১৩ শতাংশ ও অন্যান্য কারণে ১৩ শতাংশ দুর্ঘটনা সংগঠিত হয়েছে।

পর্যবেক্ষণে আরও দেখা গেছে, অতিরিক্ত ভাড়া, অধিক গতিতে যানবাহন চালানো, অদক্ষ চালক, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, পণ্যবাহী যানবাহনের যাত্রী বহন, মহা-সড়কে অটরিকশা, ব্যাটারি চালিত রিকশা, নসিমন-করিমন চলাচল, রাস্তার ওপর হাটবাজার ও ফুটপাত দখল, ফুটপাত না থাকা, বিপদজনক ওভারটেকিং, বিরতিহীন যানবাহন চালানো ও ভাঙাছোড়া রাস্তাঘাটের কারণে এসব দুর্ঘটনা ঘটেছে।

দুর্ঘটনা রোধে সংগঠনটির পক্ষ থেকে বেশ কিছু সুপারিশ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। যারমধ্যে রয়েছে-সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে সড়ক দুর্ঘটনা গবেষণা ইউনিট গঠন, যানবহানের গতি নিয়ন্ত্রণে যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া, যানবাহনের ফিটনেস পদ্ধতি ডিজিটাল করা, রাস্তার রোড সেফটি অডিট করা, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য বন্ধ করা, প্রশিক্ষিত চালক গড়ে তোলা, ওভারলোড নিয়ন্ত্রণে মান সম্মত গণপরিবহনের ব্যবস্থা করা, মহাসড়কে ধীরগতির যান ও দ্রুত গতির যানের জন্য পৃথক লেনের ব্যবস্থা করা, ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যু পদ্ধতি আধুনিকায়ন করা; মহাসড়কে নছিমন-করিমন, ব্যাটারি চালিত রিকশা, অটো রিকশা বন্ধে সরকারের সিদ্ধান্ত শতভাগ বাস্তবায়ন করা; ভাঙা ছোড়া রাস্তাঘাট মেরামত করা ও মহাসড়কে ফিটনেসবিহীন লক্কড়ঝক্কড় ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহন চলাচল বন্ধে উদ্যোগ নেওয়া।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়- ঢাকা-মংমনসিং-রংপুর রুটে সর্বাধিক বসক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রাণহানীও বেশি হয়েছে। রংপুরের তারাগঞ্জে যে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে এতে নিহতদের পরিবার প্রতি ২০ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু যাত্রীকল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণে দেখা এই ক্ষতিপূরণ তারা পায়নি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- নিরাপদ সড়ক চাইয়ের (নিসচা) যুগ্ম মহা-সচিব গনি মিয়া বাবুল, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সহ-সম্পাদক ব্যারিস্টার মো. শফিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. হানিফ খোকন প্রমুখ।