বেসিক ব্যাংকে হরিলুটের ঘটনায় দুদকের ১৮ মামলা- শেখ পরিবারের মদদপুষ্ট আব্দুল হাই বাচ্চুর নাম বাদ

0

জিসাফো নিউজ ডেস্কঃ  জনমনে প্রশ্ন, বেসিক ব্যাংক দুর্নীতি তে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ১৮ টি মামলা করল, কিন্তু বাচ্চুর নাম কেন নাই? 

বেসিক ব্যাংকে হরিলুটের ঘটনায় মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল বিকালে রাজধানীর তিন থানায় ১৮টি মামলা করা হয়। এতে সাড়ে ছয় শ’ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়। গুলশান থানায় আটটি, মতিঝিল ও পল্টন থানায় পাঁচটি করে মোট ১৮টি মামলা করা হয়েছে। এসব মামলায় ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ ১৫৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া ১৮টি কোম্পানির চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ ব্যাংকটির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা অভিযুক্ত হয়েছেন।

Basic-Bank-ltd
বেসিক ব্যাংকে প্রায় চার হাজার কোটি টাকা জালিয়াতির ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে অভিযোগ উঠার পর অনুসন্ধান করে দুর্নীতি দমন কমিশন। অনুসন্ধান শেষে গত ৮ই সেপ্টেম্বর ৫৬ মামলার অনুমোদন দেয় কমিশন। বেসিক ব্যাংকের চারটি শাখায় ঋণ জালিয়াতির ঘটনায় প্রথম পর্যায়ের ১৮টি মামলায় আসামিদের মধ্যে রয়েছেন, বেসিক ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) ফজলুল সোবহান, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ মুনায়েম খান, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক কনক কুমার পুরকায়স্থ, সহকারী ব্যবস্থাপক আবদুস সবুর, ব্যাংকের শান্তিনগর শাখার এজিএম এস এম আনিসুর রহমান চৌধুরী, ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ফখরুল ইসলাম, সাবেক ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আলী, গুলশান শাখার শাখা ব্যবস্থাপক শিপার আহমেদ, এ শাখার ক্রেডিট ইনচার্জ এসএম জাহিদ হাসান, সৈয়দ হাসিবুল গণি গালিব, ইনামুল হক খান খোকন, আনোয়ার হোসেন, জয়নাল আবেদিন চৌধুরী, ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া, কাজী ফখরুল ইসলাম প্রমুখ। মতিঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরমান আলী জানান, মতিঝিল থানায় দায়েরৃকত মামলায় বাদী  হয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের উপ-পরিচালক মাহবুবুল আলম।
এই অর্থ কেলেঙ্কারির ঘটনায় শেখ পরিবারের মদদপুষ্ট ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ আবদুল হাই বাচ্চুর নাম ব্যাপকভাবে উচ্চারিত হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন প্রতিবেদনে শেখ আবদুল হাই বাচ্চুকে দায়ী করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতও ব্যাংকের এই লাগামহীন দুর্নীতিতে আবদুল হাই জড়িত বলে উল্লেখ করেছেন। কিন্তু রহস্যজনকভাবে কোন মামলায় আসামি করা হয়নি তাকে।
প্রসঙ্গত, জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশনে বেসিক ব্যাংক নিয়ে আলোচনা হয়। পরে ৭ই জুলাই সচিবালয়ে এ বিষয়ে কঠোর বক্তব্য দেন অর্থমন্ত্রী। তার বক্তব্যের পরেই এ বিষয়ে নড়েচড়ে বসে দুর্নীতি দমন কমিশন। ব্যাংকের অনিয়ম-দুর্নীতি তদন্ত করে দুদক।