বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ১/১১ সরকারের করা ভিত্তিহীন মামলাকে বক্তব্যের জোরে সত্য বানাতে চান প্রধানমন্ত্রী

0
  • User Ratings (0 Votes) 0
    Your Rating:
Summary

'বর্তমান প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের বক্তব্যে এটি স্পষ্ট হচ্ছে যে বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে তারা নতুন নতুন ষড়যন্ত্র আঁটছেন' বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহল কবির রিজভী আহমেদ।

Awesome

‘বর্তমান প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের বক্তব্যে এটি স্পষ্ট হচ্ছে যে বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে তারা নতুন নতুন ষড়যন্ত্র আঁটছেন’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহল কবির রিজভী আহমেদ। বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এমন মন্তব্য করেন। সংবাদ সম্মেলনের সম্পূর্ণ বক্তব্য নিম্নরূপ।

সুপ্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা,

আস্সালামু আলাইকুম। সবাইকে জানাচ্ছি আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা।

ভোটারবিহীন সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও দলের শীর্ষ নেতারা বিএনপি চেয়ারপার্সন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মামলা নিয়ে প্রতিনিয়ত মিথ্যাচার করছেন। গত শুক্রবারও জার্মানীর মিউনিখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন-“প্রমান হলে খালেদা জিয়ার শাস্তি হবেই”। সেখানে তিনি আরো বলেন-জিয়া অরফানেজ ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলাসহ চলমান বিচারাধীন মামলাগুলো সবই ১/১১-তে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে করা, কিন্তু বাস্তবে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলাসহ বেশীর ভাগই করা হয়েছে ২০১০ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে। দুদক-কে ব্যবহার করে এই মামলার চার্জশিটও দেয়া হয়েছে তাদেরই আমলে। এমনকি যে মামলাগুলো ১/১১ সরকারের সময় উচ্চ আদালতের নির্দেশে স্থগিত ছিল সেই মামলাগুলোও তারা পূণরায় চালু করেছে। অথচ একই মামলাগুলোতে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীরও নাম ছিল এবং বিএনপি চেয়ারপার্সনের বিরুদ্ধে ১/১১ এর সরকার যতগুলো মামলা দিয়েছিল তার তিনগুন মামলা দায়ের করা হয়েছিল বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে। তিনি ১৫টি মামলা মাথায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। সেই মামলাগুলি হাওয়ায় উড়ে গেল কিভাবে ? প্রধানমন্ত্রী তো আইন মোকাবেলা করে সে মামলাগুলো থেকে মুক্ত হননি। সেই সময়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর দুর্নীতির অনেক মামলাতেই স্বয়ং তাঁর ভাই এবং তাঁর দলের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক যেসব বক্তব্য দিয়েছিলেন তা দেশবাসী ভুলে যায়নি। এর চেয়ে বড় সাক্ষী আর কী হতে পারে ? কিন্তু ক্ষমতাসীন হয়েই শেখ হাসিনার মামলাগুলি প্রত্যাহার হয়ে গেল কোন যাদু মন্ত্রবলে ? ক্ষমতায় থাকলে যে নিজের মামলা তুলে নেয়া যায় এবং অন্যের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে হয়রানী করা যায়, তার উজ্জল দৃষ্টান্ত হচ্ছে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের একদলীয় শাসন। সুতরাং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সকল মামলাই রাজনৈতিক এবং তা হীন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। শুধুমাত্র বিএনপি চেয়ারপার্সনে হয়রানী করার জন্য তাঁর বিরুদ্ধে মামলাগুলো চলমান রাখা হয়েছে।

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের বক্তব্যে এটি স্পষ্ট হচ্ছে যে বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে তারা নতুন নতুন ষড়যন্ত্র আঁটছেন। প্রধানমন্ত্রী যেভাবে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন তাতে সুস্পষ্টভাবে আদালতের ওপর প্রভাব বিস্তার। তাহলে কী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মামলা নিয়ে আদালতকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন ? প্রধানমন্ত্রী মনে করেন আইন, বিচার, প্রশাসন সবকিছুই তার করায়ত্বে, সেজন্য মামলা ও শাস্তি দেয়া তাঁর ইচ্ছার ওপরই নির্ভর করে। তিনি নির্ধারণ করেই দিয়েছেন-বিরোধী দল হলে তাকে শাস্তি পেতেই হবে। আর আদালত কর্তৃক সাজা হলেও মন্ত্রীরা তাদের মন্ত্রীত্ব বহাল রাখতে পারবেন।

তবে সারাদেশের মানুষ আওয়ামী ষড়যন্ত্রের সতর্ক দৃষ্টি রাখছেন। কারন সরকার এসমস্ত চক্রান্ত ষড়যন্ত্রের বেড়াজাল তৈরী করছেন শুধুমাত্র নিজেরা খাদের কিনার থেকে পূণরুজ্জীবনের ব্যর্থ চেষ্টার জন্য। হিংস্ররুপি অতি দানবে পরিণত হওয়া আওয়ামী দু:শাসনে মানুষের বিপন্ন অস্তিত্বকে আড়াল করার জন্যই ক্ষমতাসীন মহল বিএনপি ও এর চেয়ারপার্সনকে নিয়ে মিথ্যাচারের কোরাশ গেয়ে যাচ্ছেন। আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ইতিহাস হিং¯্র পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ইতিহাস। এরা বারবার গণতন্ত্রকে শতছিদ্র করে হিংসার উন্মত্তায় রাষ্ট্রের শুভ সবকিছু নিশ্চিহ্ন ও তছনছ করে দেয়। তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ঘনঘন আদালতে হাজিরা দিতে বাধ্য করে তাঁকে যেভাবে হয়রানি করা হচ্ছে তা কোটি কোটি দেশবাসীর হৃদয়ে আঘাত হানছে। তবে আমরা স্মরণ করিয়ে দিতে চাই-প্রবাদ আছে-অন্যের জন্যে গর্ত খুঁড়লে সেই গর্তে নিজেকেই পড়তে হয়। আমরা জানি-আওয়ামী লীগের একটা নাট্যগুণ আছে, তারা বিভ্রান্তির ফানুস তৈরী করে একটা ক্লাইমেক্স তৈরীর চেষ্টা করে। কিন্তু তাদের নাটক যে বাস্তব জীবনের প্রতিফলন নয়, এটি নিগুঢ় চক্রান্তের অর্থ প্রকাশ করে, আর সেটি মানুষ সহজেই ধরে ফেলে।

বন্ধুরা,

শহরের সব সড়কে বিশেষ ব্যবস্থায় নিয়মিত পানি না ছিটানো, অপরিকল্পিতভাবে সড়ক খোঁড়াখুঁড়ি ও ভবন নির্মাণ অথবা যেখানে সেখানে নির্মাণসামগ্রী ফেলে রাখার মতো অনিয়ন্ত্রিত কর্মকা-ের ফলে ঢাকায় ‘ধূলিদূষণ’ নিত্যদিনের ঘটনা। কিন্তু এর সঙ্গে আরো অনেক অস্বাস্থ্যকর কর্মকা-ের কারণে এবার ঢাকার বায়ুদূষণ ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ঢাকার দুই মেয়র ঢাকাকে গ্রীন ঢাকা ও ক্লিন ঢাকা পরিণত করার ঘোষনা দিলেও ধুলোয় উড়ছে ঢাকা এবং ঢাকা এশিয়ার দ্বিতীয় ধুলিদুষণ নগরীতে পরিণত হয়েছে। আওয়ামী লীগের প্রতিশ্রুতি এমনই, তারা যা বলবে তার উল্টোটি ধরে রাখতে হবে। ধুলিজনিত রোগে সারা নগরবাসীর যেন এখন মূমুর্ষ অবস্থা। হাঁচি, কাশি, হাঁপানী, ভয়াবহ শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন রোগবালাই এখন নগরবাসীর নিত্য সঙ্গী। আমি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র পক্ষ থেকে বাগাড়ম্বর বক্তব্যের চ্যাম্পিয়ন ঢাকার আওয়ামী মেয়র সাহেবরা নগরবাসীকে ভয়াবহ দুর্ভোগে নিপতিত করার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

ধন্যবাদ সবাইকে। আল্লাহ হাফেজ।