বি এন পি নিয়ে মিথ্যা কল্পকাহিনীর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম

0

“১৯ জুলাই বুধবার অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলা ইনসাইডার’এ “পিয়ন দারোয়ানরাই তো এখন বিএনপি চালায়” শিরোনামে প্রকাশিত রাজনৈতিক প্রতিবেদনের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলাম। এক প্রতিবাদ লিপিতে তিনি বলেন, প্রকাশিত প্রতিবেদনে আমাকে জড়িয়ে যে কল্পকাহিনী লেখা হয়েছে তা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।মিথ্যা,ভিত্তিহীন এবং আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়।”

বিএনপি স্থায়ী কমিটিতে কি আলোচনা হয়েছে তা প্রতিবেদক জানলেন কিভাবে? প্রতিবেদনে বলা হয়েছে : আমি নাকি ওই বৈঠকে বলেছি “আমাদের খামোখা বৈঠকে ডাকার দরকার কী? পিয়ন দারোয়ানরাই তো এখন বিএনপি চালায়” এই বক্তব্য সম্পূর্ণ অসত্য। প্রতিবেদক সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যমূলকভাবে তার উর্বর মস্তিষ্কপ্রসূত ভাবনা থেকে এ গল্প বানিয়েছেন। কোন রকম তথ্যসূত্র উল্লেখ ছাড়াই তিনি আমার নামে একথা চালিয়ে দিয়েছেন। এটা সাংবাদিকতার নীতি বিরুদ্ধ। মানহানিকর এবং দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় একটি রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে সিরিজ মিথ্যাচারের অংশ। প্রতিবেদনে আমাকে শ্রেণী সংগ্রামের রাজনীতির কর্মী,গলাকাটা পার্টির নেতা প্রভৃতি বিশেষণযোগে আক্রমণ করা হয়েছে। আমার দল বিএনপিকে নিয়েও অযাচিত মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য পরিবেশন করা হয়েছে। পুরো প্রতিবেদনটি পড়লে মনে হয় এটি বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতেই রচনা করা হয়েছে। তরিকুল ইসলাম তাঁর প্রতিবাদ লিপিতে আরো বলেন, সাংবাদিকতা একটি মহৎ পেশা। কিন্তু এ পেশাকে সম্প্রতি কিছু মতলববাজ লোক ব্যক্তিগত স্বার্থোদ্ধার এবং সম্মানী মানুষকে হেয় প্রতিপন্ন করার কাজে লাগাতেই তৎপর বলে মনে হয়। তারাই সিন্ডিকেটেড পন্থায় এ ধরণের অপপ্রচারে লিপ্ত। এটি বিএনপির ভাবমূতি নষ্ট করা এবং দলের ভেতর বিভেদ ও অনৈক্য সৃষ্টির অপচেষ্টা ছাড়া আর কিছু নয়। এ ধরণের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হবার জন্য আমি নেতাকর্মীদের প্রতি উদাত্ত আহবান জানাই।

জানা যায় বুধবার, জুলাই ১৯ ২০১৭ ‘বিএনপি করার চেয়ে বাড়ির চাকর হওয়াও সম্মানের’  এই শিরোনামে একটি খবর প্রকাশ করে বাংলা ইনসাইডারও  “বাঙালিনিউজ”, নামক দুটি অনলাইন পোর্টাল । বি এন পি র স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান,  এর বরাত দিয়ে  সুত্র টি দাবী করে- বিএনপির চেয়ারপাসন বেগম খালেদা জিয়ার সাক্ষাৎ চেয়েছেন তিনবার। দলীয় কার্যালয়ে গেছেন। গেছেন বেগম জিয়ার বাসভবনে। চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত সহকারীকে ফোন করে অনুরোধ করেছেন ফোনটা ‘ম্যাডাম’ কে দেবার জন্য। কিন্তু ওপ্রান্ত থেকে ফোন কেটে দেওয়া হয়েছে। দলের কোনো বিষয়েই তাঁর মতামত নেওয়া হয় না। অপমানে, গ্লানিতে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দল থেকে সরে যাবেন। ঘনিষ্টদের বলেছেন, ‘বিএনপি করার চেয়ে বাড়ির চাকর হওয়াও সম্মানের। লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান, নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন বিএনপির কর্মকাণ্ড থেকে। নিপাট এই ভদ্রলোক নিজেকে বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়াবেন বলেই তাঁর ঘনিষ্ট স্বজনরা জানিয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি পদত্যাগও করবেন না। গত এক মাসে দলের কোনো কর্মকাণ্ডে তাঁকে দেখা যায়নি। ১৯৯৬ সালে দেশের এক ক্রান্তিকালে লে. জে. মাহবুব সেনাপ্রধান হয়েছিলেন। জেনারেল নাসিমকে সেনা প্রধানের পদ থেকে রাষ্ট্রপতি অব্যাহতি দেবার পর সেনাপ্রধানের দায়িত্ব দেওয়া হয় তাঁকে। সেনাবাহিনীকে তিনি শৃংখলায় ফিরিয়ে আনেন। ৯৬ এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়ী হলেও তাঁকে সেনা প্রধানের দায়িত্ব অব্যাহত রাখতে বলা হয়। অবসরে যাবার পর তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। ২০০১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বিএনপির সর্বোচ্চ সংস্থা স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৭ সালে ওয়ান ইলেভেনে এলে তিনি ‘সংস্কারপন্থী’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। ২০০৭ এর জুন মাসে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বেগম জিয়াকে দলীয় প্রধানের পদ ছাড়তে বলেন। এর কিছুদিন পরই জিয়ার কবরের কাছে যুবদল কর্মীদের হাতে তিনি লাঞ্চিত হন। সে সময়ও বিএনপি থেকে নিষ্ক্রিয় ছিলেন। পরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের অনুরোধে আবার রাজনীতিতে সক্রিয় হন। বিএনপির বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তার সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা গিয়েছিল। রাজনীতির বাইরে সেনাবাহিনীর অনুষ্ঠান, রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে তিনি অংশগ্রহন করেন নিয়মিত। গত কয়েক বছর ধরে বেগম জিয়া সশস্ত্র বাহিনী দিবসের অনুষ্ঠানে যাচ্ছেন না। গত বছর বেগম জিয়ার পক্ষ থেকে শিমুল বিশ্বাস জে. মাহবুবকে সশস্ত্র বাহিনীর অনুষ্ঠানে যোগ দিতে না বলেন। উত্তরে জেনারেল মাহবুব স্পষ্ট বলেন, ‘সেনাবাহিনীর সাবেক সদস্য হিসেবে এসব অনুষ্ঠানে যাওয়া তাঁর কর্তব্য।’ সর্বশেষ গত এপ্রিলে বিএনপির এক অনুষ্ঠানে বেগম জিয়া তাঁকে প্রকাশ্যে ভৎর্সনা করেন। জেনারেল মাহবুবকে উদ্দেশ্য করেই বলেন ‘দলে কিছু এজেন্ট আছে, যারা দলের ক্ষতি করতে চায়’। এরপর আর বেগম জিয়ার সঙ্গে দেখা সাক্ষাৎ নেই তাঁর। দলের পুচকে নেতারাও তাঁকে নিয়ে টিক্কাটিপ্পনী করে।‘ এখন তাঁর বয়স হয়েছে। এসবে তিনি খুব কষ্ট পান’ এমনটাই বলেছেন তাঁর ঘনিষ্ঠ এক আত্মীয়। নিকটজনদের কাছে বলেছেন ‘রাজনীতি এখন ভদ্রলোকের কাজ নয়’। তবে, বিএনপির অন্য একটি সূত্র দাবি করেছেন, জেনারেল মাহবুব ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। আগামী নির্বাচনের আগে তিনি দল ভেঙ্গে আরেকটা বিএনপি করার ফন্দি আঁটছেন। সরকারের সঙ্গে গোপনে জেনারেল মাহবুব যোগাযোগ রাখছেন বলেও তাঁরা মনে করেন। খবর: বাংলা ইনসাইডার ডটকম।

এদিকে বাংলা ইন্সাইডার ডটকম নামক আরেকটি অনলাইন পোর্টাল  বি এন পি র স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য ও বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ জনাব তরিকুল ইসলামের বরাত দিয়ে  ‘পিয়ন-দারোয়ানরাই তো এখন বিএনপি চালায়’ শিরোনামে একটি খবর প্রকাশ করে যেখানে সুত্র দাবী করে-  শরীরটা একদম ভালো নেই। দুটি কিডনীই প্রায় অকেজো। সপ্তাহে তিনদিন ডায়লাইসিস নিতে হয়। রাজনীতি নিয়েও তাঁর এক রাশ হতাশা। বিএনপির আনুষ্ঠানিক বৈঠক ছাড়া কোনো কর্মসূচিতে তাঁকে অংশ নিতে দেখা যায় না। ২০১৪ সালের নির্বাচনে অংশগ্রহণ প্রশ্নে প্রকাশ্যে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন বিএনপির চেয়ারপারসনের সঙ্গে। বেগম জিয়ার ব্যক্তিগত স্টাফদের চোটপাটে বিরক্ত, ক্ষুদ্ধ। বেগম জিয়ার লন্ডন সফরের আগে স্থায়ী কমিটির সভা ডেকেছিলেন। সেই সভায় উপস্থিত হয়ে বোমা ফাটিয়েছেন, বলেছেন ‘আমাদের খামোখা বৈঠকে ডাকার দরকার কী? পিয়ন, দারোয়ানরাই তো এখন বিএনপি চালায়’। তরিকুল ইসলাম, বিএনপির অন্যতম প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য। এখন বিএনপির স্ট্যান্ডিং কমিটির ৬ নম্বর সদস্য। এক সময় চরমপন্থার রাজনীতিতে ঝুঁকেছিলেন। শ্রেণী সংগ্রামের মাধ্যমে শ্রেণী শত্রুকে খতম করার যুদ্ধে নেমেছিলেন। যশোর অঞ্চলে পরিচিতি পেয়েছিলেন ‘গলাকাটা পার্টির’ নেতা হিসেবে। তাঁর সশস্ত্র ক্যাডারদের ভয়ে তটস্থ থাকতো যশোরের লোকজন। জিয়ার ডাকে বিএনপিতে যোগদান। জিয়ার মৃত্যুর পর তরিকুল খালেদা জিয়ার অন্যতম আস্থাভাজন নেতায় পরিণত হন। দুই দফায় মন্ত্রীত্ব করেন। বিএনপিতে বাম থেকে আসা নেতা কর্মীদের মধ্যে বিপুল জনপ্রিয় তিনি। ওয়ান-ইলেভেনে তাঁকে সংস্কারবাদী বানানোর জোর চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু তাতে সারা দেননি। ওয়ান ইলেভেনে তিনি বলেছিলেন ‘খালেদা জিয়া একাই যদি বিএনপিতে থাকে তাহলে সেটাই হলো আসল বিএনপি’। তাঁর এই উক্তির পরদিনই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওয়ান ইলেভেনের পর তাঁকে সাম্ভাব্য মহাসচিব ভাবা হচ্ছিল। কিন্তু এসময় তিনি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের পক্ষে অবস্থান নিলে দলে কোনঠাসা হয়ে যান। বিএনপির দক্ষিণপন্থীরা তাঁর পিছনে উঠে পড়ে লাগে। বেগম জিয়ার বিশেষ সহকারী শিমুল বিশ্বাস ছিল তরিকুলের শিষ্য। শিমুল বেগম জিয়ার ঘনিষ্ট হলে অনেকেই নিশ্চিত ছিল তরিকুলই বিএনপির মহাসচিব। কিন্তু শিমুল বিশ্বাস তরিকুলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। ফলে, জামাতপন্থীদের চাপ আর নিজের শিষ্যের বিশ্বাসঘাতকতায় তাঁকে স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে থাকতে হয়। ২০১৪ সালে দলের চেয়ারপারসনের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন নির্বাচন প্রশ্নে। তরিকুল ছিলেন নির্বাচনে যাবার পক্ষে। তিনি গণভবনের আমন্ত্রণে সাড়া দেবার জন্যও বেগম জিয়াকে অনুরোধ করেছিলেন। বেগম জিয়ার সম্মতি লাভে ব্যর্থ হয়ে বলেছিলেন ‘আপনি কি চাকর-বাকরদের কথা শুনে রাজনীতি করবেন?’ ২০১৪ আন্দোলন ব্যর্থ হবার পর দলে তরিকুলের কদর বাড়ে। কিন্তু দলের চেয়ারপারসন সিদ্ধান্ত নেন, শিমুল বিশ্বাস আর মারুফ কামালের কথা শুনে। এতেই ক্ষুদ্ধ হয়ে নিজেকে গুটিয়ে নেন। আনুষ্ঠানিক বৈঠকে তিনি সব সময় ‘পিয়ন-দারোয়ান’ দের ইঙ্গিত করে কথা বলার জন্য তিনি বিখ্যাত। বিএনপিতে তাই নিঃসঙ্গ তরিকুল। তবে অনেকেই ফিসফাস করে তরিকুলের কথারই প্রতিধ্বনি করে। বিএনপি চালাচ্ছে কি তাহলে, পিয়ন দারোয়ানরাই? বাংলা ইনসাইডার

অন্যদিকে ২১ জুলাই ২০১৭, ০১:৫৮ | আপডেট : ২১ জুলাই ২০১৭, ০৩:২৪ পূর্বপশ্চিম ডেস্ক বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এম কে আনোয়ার  এর বরাত দিয়ে ‘বিএনপিতে চলছে রাজতন্ত্র, রাণী আর যুবরাজ দল চালায়’ শিরোনামে একটি খবর ভপ্রচার করে জানায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এম কে আনোয়ার এলিফ্যান্ট রোডের বাড়ি থেকে আজকাল খুব একটা বের হন না। বাড়িতে কর্মীদেরও আনাগোনা নেই। বলা যায় অবসর জীবন যাপনই করছেন। দলের নেতারাও আজকাল তাঁর খোঁজ খবর নেন না। অথচ ক’দিন আগেও জেল খাটলেন। নেতারা তার খবরও নেননি তখন। আত্মীয় স্বজনরাও এটা ভালোভাবে নেয়নি। তারা অভিযোগ করছেন ‘বিএপির জন্য তো কত কিছুই করলেন, বেগম জিয়া তো আপনার খবরও নেয় না।’ উত্তরে ম্লান হেসে বলেছেন ‘বিএনপিতে তো রাজতন্ত্র। রাণী আর যুবরাজ দল চালায়। আর বাকী সবাই প্রজা, কেউ কেউ ক্রীতদাস। আপনি কি- এই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন আরো দার্শনিক ভাবে, বলেছেন ‘রাণী এবং যুবরাজকে যারা খাজনা দিতে পারে তারা প্রজা, আর যারা পারে না, তারা তো ক্রীতদাসই। আমিও ক্রীতদাস’। এম কে আনোয়ার ডাকসাইটে আমলা ছিলেন, মন্ত্রী ছিলেন দু’দফায়। জানা গেছে, শারীরিক অসুস্থতায় সেভাবে চলাফেরা করতে না পারায় কোথাও যাচ্ছেন না এম কে আনোয়ার। এমনকি তিনি দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির বৈঠকেও অংশ নিতে পারছেন না। জানা গেছে, ডাক্তারি পরীক্ষায় তার শরীরে সেভাবে মারাত্মক সমস্যা ধরা না পড়লেও শরীর ভীষণ দুর্বল। বেশির ভাগ সময় এলিফ্যান্ট রোডের নিজ বাসায় শুয়ে-বসে তার সময় কাটছে। নিয়মিত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ প্রফেসর এম আব্দুল্লাহর তত্ত্বাবধানে নিয়মিত চিকিৎসা নেন। ৩৪ বছরের পেশাজীবনে যেমন সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন, তেমনি রাজনীতিতে যোগ দিয়ে অল্পদিনেই হয়ে ওঠেন দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতা। সজ্জন ও মেধাবী রাজনীতিবিদ হিসেবেও পরিচিত পান তিনি। পাশাপাশি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তাকে সরব দেখা গেছে মাঠে-রাজপথে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এম কে আনোয়ার এখন অনেকটা ‘ঘরবন্দি’। বিএনপির জ্যেষ্ঠ এই নেতাকে গত প্রায় দুই বছর ধরে রাজনীতিতে দেখা যাচ্ছে না। নাশকতার মামলায় আটক হয়ে ছয় মাস কারাগারে থেকে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে মুক্তি পান তিনি। কিছুদিন পর চিকিৎসার জন্য চলে যান ভারতে। চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরে আসার পরও তাকে আর তেমন দেখা যায়নি। দলীয় কর্মসূচি তো দূরের কথা, সবশেষ গত ২১ মে অনুষ্ঠিত দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকেও তিনি যেতে পারেননি শারীরিক দুর্বলতার কারণে। এর মধ্যে কেবল দুই দিন তাকে দেখা গেছে বেরোতে। গত ১০ মে খালেদা জিয়ার ভিশন-৩০ ঘোষণার সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন তিনি। এরপর নাশকতার এক মামলায় গত ১৫ মে ঢাকার সিএমএম কোর্টে হাজিরা দিতে যান এম কে আনোয়ার। এম কে আনোয়ারের রাজনীতিতে আসাটা ছিল এক বিস্ময়। ৯০ এর ৬ ডিসেম্বর স্বৈরাচারী এরশাদের পতন হলো। তিন জোটের পক্ষ থেকে এরশাদের দোসরদের তালিকা প্রকাশিত হলো। তালিকায় নাম ছিল দুজন সচিবের। একজন প্রয়াত কেরামত আলী অন্যজন এম কে আনোয়ার। এরা দুজনই এরশাদের আস্থাভাজন সচিব ছিলেন। তিন জোটের ঘোষণায় বলা হয়েছিল ‘এরশাদের দোসরদের কেউ কোনো রাজনৈতিক দলে নেবে না, মনোনয়নও দেবে না।’ ডিসেম্বরের এক সকালে প্রধানমন্ত্রীর ৩২ নম্বরে ওই দুই এরশাদের দোসর আমলাকে নিয়ে এলেন তোফায়েল আহমেদ। আওয়ামী লীগ সভাপতি তখন প্রচণ্ড ব্যস্ত। মনোনয়ন, নির্বাচনী ইশতেহার ইত্যাদি বিষয় নিয়ে বৈঠকের পর বৈঠক হচ্ছে। তোফায়েল আহমেদ শেখ হাসিনাকে বললেন, কেরামত আলী এবং এম কে আনোয়ার এসেছেন, তারা নমিনেশন চায়। আসন্ন নির্বাচনে বিজয় নিয়ে আওয়ামী লীগের কোনো সংশয় নেই। নির্বাচন যেন কেবল এক আনুষ্ঠানিকতা। শেখ হাসিনা একটু রেগেই গেলেন। তিনি ওই দুই আমলার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেও অস্বীকৃতি জানালেন। বললেন এরশাদের কোনো দোসরকে দলে নিয়ে আমি মানুষের কাছে ভোট চাইবো কীভাবে? শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাতে ব্যর্থ হয়ে দুজনই চলে গেলেন, বেগম জিয়ার কাছে। দেখাতো পেলেনই, সঙ্গে দুজনই পেলেন বিএনপির টিকিট। নির্বাচনে অবিশ্বাস্য ভাবে জয়ী হলো বিএনপি। জামায়াতের সমর্থনে সরকারও গঠন করল। বেগম জিয়ার মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় পেলেন, এরশাদের ঘনিষ্ঠ দুই আমলা। কুমিল্লার হোমনায় এম কে আনোয়ার আগে থেকেই জনপ্রিয় ছিলেন। সচিব থাকার ফায়দা নিয়ে এলাকায় রাস্তাঘাট বিদ্যুৎ করেছিলেন। আমলা থেকে মন্ত্রী হলেন কোনো বিরতি ছাড়াই। মন্ত্রণালয়ের কাজের অভিজ্ঞতা থাকায় মন্ত্রী হিসেবেও দক্ষতার পরিচয় দেন। অনভিজ্ঞ মন্ত্রিসভায় তিনি হয়ে ওঠেন গুরুত্বপূর্ণ। ৯৬ তে বিএনপি ক্ষমতাচ্যুত হয়। নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনে জয়ী হয় আওয়ামী লীগ। কিন্তু এম কে আনোয়ার ঠিকই এমপি হন। এসময় দলেও তিনি নেতৃত্বে আসেন। মাঠের কর্মীদের কাছে জনপ্রিয় না হলেও, দক্ষ আমলা হবার সুবাধে প্রশাসনিক কাজে বেশ দক্ষতারই পরিচয় দিয়েছিলেন। ১৯৫৬ সালে পাকিস্তান সিভিল সার্ভিসে যোগ দেয়ার মধ্য দিয়ে সরকারি চাকুরে হিসেবে পেশাজীবন শুরু হয় এম কে আনোয়ারের। ১৯৯০ সাল পর‌্যন্ত তার ৩৪ বছরের পেশাগত জীবনে তিনি ফরিদপুর ও ঢাকার ডেপুটি কমিশনার, জুটমিল কর্পোরেশনের সভাপতি, টেক্সটাইল মিল কর্পোরেশনের সভাপতি, বাংলাদেশ বিমানের সভাপতি এবং প্রশাসনে বিভিন্ন উচ্চপদে দায়িত্ব পালন করেন। প্রশাসনের সর্বোচ্চ পদ মন্ত্রিপরিষদ সচিব ছিলেন তিনি। ১৯৭২ থেকে ১৯৯০ পর্যন্ত তিনি প্রশাসনে বিভিন্ন উচ্চপদে পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। সিএসপি কর্মকর্ত এম কে আনোয়ার ১৯৭১ সালে ঢাকা জেলার প্রশাসক ছিলেন। ১৯৯১ সালের নির্বাচনের আগে এম কে আনোয়ার বিএনপিতে যোগ দেন। ওই বছর অনুষ্ঠিত পঞ্চম সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। এরপর ২০০৮ সাল পর‌্যন্ত টানা পাঁচবার তিনি সাংসদ নির্বাচিত হন। তিনি বিএনপি সরকারের বাণিজ্য, নৌ-পরিবহন এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।