বিস্ফোরক মামলায় সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুলের জামিন

0

সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়াকে হত্যার অভিযোগে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে করা মামলায় কারাবন্দি ও বরখাস্তকৃত সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর জামিন মঞ্জুর করেছেন হাইকোর্ট। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ড. মো.বশিরউল্লাহ এই তথ্য জানিয়েছেন। মেয়র আরিফুলের করা জামিন আবেদন শুনানি করে রোববার বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি মো. আতাউর রহমান খানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ড. মো. বশিরউল্লাহ। অপরদিকে আরিফুলের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, বিস্ফোরক আইনে করা এক মামলায় জামিন আবেদন শুনানি করে আদালত আরিফুল হককে জামিন মঞ্জুর করেন। ফলে আপিল আবেদনের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তিনি জামিনে থাকবেন। তবে এই জামিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করবে বলে জানিয়েছেন তিনি। উল্লেখ্য, ২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি হবিগঞ্জ সদরের বৈদ্যেরবাজারে ঈদ-পরবর্তী জনসভা শেষে বের হওয়ার পথে গ্রেনেড হামলার শিকার হন সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া। ঢাকা নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

ঘটনার দিন মধ্যরাতের পর হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মজিদ খান হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে মোট দুটি মামলা করেন।জানা গেছে, মামলায় সিআইডি প্রথমে ওই বছরের ২০ মার্চ ১০ জনের বিরুদ্ধে এবং পরে অধিকতর তদন্ত করে ২০১১ সালের ২০ জুন আরো ১৪ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

কিন্তু নিহত কিবরিয়ার স্ত্রী আসমা কিবরিয়া অভিযোগপত্রের ওপর হবিগঞ্জের বিচারিক আদালতে নারাজি আবেদন করেন। আদালত নারাজি আবেদন গ্রহণ করে ২০১২ সালের ৫ জানুয়ারি অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন। এ আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে সিআইডির এএসপি মেহেরুন নেছা ২০১৪ সালের ১০ ডিসেম্বর সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, হবিগঞ্জের পৌর মেয়র জি কে গউছ এবং খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীসহ আরো ১১ জনের নাম যোগ করে কিবরিয়া হত্যা মামলার সংশোধিত সম্পূরক অভিযোগপত্র জমা দেন।

২০১৪ সালের ২১ ডিসেম্বর ওই ১১ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর একই বছরের ৩০ ডিসেম্বর আরিফুল হক চৌধুরী আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এর মধ্যে মাকে দেখতে একবার তিনি ১৫ দিনের জন্য জামিন পেয়েছিলেন।