বিশ্ববিবেক তুমি কি আজো জাগ্রত হবেনা?

0

জিসাফো ডেস্কঃ আয়লান কুর্দি, বিশ্বজুড়ে বিপন্ন মানবতার প্রতিমূর্তি হয়ে গত বছরের সেপ্টেম্বরে তুরস্কের নিকটবর্তী এক সমুদ্রতটে ভেসে ওঠেছিলেন। তিন বছরের সেই মৃত শিশুটির একটি ছবিই যেন গোটা মধ্যপ্রাচ্যের শরণার্থী সংকটের কথা বলে দিচ্ছিলো। এবার বিশ্ববিবেককে নাড়িয়ে দিয়ে নতুন আয়লান কুর্দির আবির্ভাব বাংলাদেশের নিকটবর্তী সমুদ্রতটে। রোহিঙ্গাদের উপর মায়ানমার সেনাবাহিনীর নিধনযজ্ঞের প্রতীক হয়েই আলিয়ানের মৃত্যুর ছবিটি ভেসে বেড়াচ্ছে ভার্চুয়াল মাধ্যমে। প্রশ্ন রেখে কেউ কেউ বলছেন, বৌদ্ধ ধর্মের মূল কথা জীব হত্যা মহাপাপ, রোহিঙ্গা হত্যা নয়!

গত বছরের ৫ সেপ্টেম্বর সিরিয়ার উদ্বাস্তু আব্দুল্লাহ কুর্দির তিন বছরের শিশু সন্তান আয়লান কুর্দির মৃতদেহ উদ্ধার করা হয় তুরস্কের কাছাকাছি এক সমুদ্রতট থেকে। লাল টি শার্ট আর নীল প্যান্টে সমুদ্রের তীরে মুখ থুবড়ে পড়ে থাকা আয়লান সবার মনকেই নাড়া দিয়ে যায় এক নিমেষে। বিশ্বজুড়ে তুলেছিল তোলপাড়। দেখিয়েছিল কতটা নির্মমভাবে মুখ থুবড়ে পড়তে পারে মানবতা।

ঠিক এক বছর পর বিশ্ববাসীর কাছে আবারো যেন ফিরে আসলো সেই চিত্র! তবে সে আয়লান নয়। রোহিঙ্গাদের গণমাধ্যম রোহিঙ্গাভিশনে প্রচার করা ছবিতে মিয়ানমার সীমান্তে এক রোহিঙ্গা শিশুর মরদেহ মুখ থুবড়ে পড়ে থাকতে দেখা যায় কাদামাটির মধ্যে। যেন ঠিক আয়লানের মতই। নিমেষে সেই ছবি ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে। উঠে আলোচনা-সমালোচনার ঝড়।

তবে, স্বাধীনভাবে ছবিটির সত্যতা প্রমাণ করা যায়নি বলে ঘটনাটি নিয়ে প্রশ্নও আছে অনেকের। টেলিভিশনটির দাবি, মিয়ানমার সীমান্তে বার্মিজ বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি) সীমান্ত পার হতে চাওয়া রোহিঙ্গাদের নৌকায় গুলি ছোঁড়ে। তাদের ছোঁড়া গুলিতে নিহত হয় বেশ কিছু রোহিঙ্গা নারী ও শিশু। তাদেরই একজন এই শিশুটি। দেশটির মংডু থেকে নৌকায় করে পরিবারসহ রওনা দিয়েছিল তারা।

ছবিতে দেখা যায়, ছোট কয়েকটি শিশু। বয়স হয়ত এক বছর, দুই বছর, ৪ বছর কিংবা একটু বেশি। এদের কেউ নিথর অবস্থায় শুয়ে কাদায়, কেউ শুয়ে মাটিতে। দুঃসহ যে দৃশ্য তা হলো একটা শিশু কাদামাটিতে মুখ থুবড়ে পড়ে আছে। শিশুটি মিয়ানমার থেকে বাবা-মায়ের সঙ্গে পালিয়ে আসা। ইতোমধ্যে কাদামাটিতে মুখ থুবড়ে পড়া রোহিঙ্গা শিশুটিকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে চলছে আলোচনা-সমালোচনার ঝড়।

উত্তর মংডুর এক ব্যক্তি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, ‘এই শিশুদের দোষ কী? কেন এই নিষ্পাপ শিশুদের হত্যা। কেন এভাবে এই নিষ্পাপ শিশুদের লাশ দেখতে হচ্ছে?’

কালাম আবেদিন নামে একজন লিখেছেন, ‘মানবিক মূল্যবোধ থেকে বলছি। নিজ ধর্ম পালন করবে এ ব্যপারে সবাই আপোষহীন। আজ বিশ্ব সভ্যতার ২০১৬ সাল। রোহিঙ্গা মোসলিম নিধন, মানুষের উপর বর্বরতা,শিশু হত্তা,সমগ্র বিশ্ববাসির ধর্মীয় মূল্যবোধ ও মানবিক মুল্যবোধ কে আঘাত করেছে।

এ ব্যপারে বিশ্বের কর্তা দেশগুলো ভুমিকা গেল কোথায়। জাতিসংঘ আজ নিরব কেন। ধর্মীয় ও মানবিক মূল্যবোধ যাদের নাই তারা মানুষ নামের পশু। তাদের শান্তিতে নোবেল না দিয়ে, সমগ্র বিশ্ব তাদের অবরোধ করুন। STOP KILLING MUSLIMS IN ROHINGA.

হুমায়ূন কবির নামে একজন লিখেছেন, কোথায় আজ বিশ্ব বিবেক? কোথায় আজ বিশ্ব মানবতা? কোথায় আজ বিশ্ব মানবাধিকার সংস্থা? কোথায় আজ জাতিসংঘ? তোমাদের এই অনধ বিবেকের কাছে প্রশ্ন -এই কি বারমার বৌদ্ধ প্রশাসন রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে হততা নিধন যুদ্ধ? আর সত্যিই যদি বারমার বিদ্রোহী গ্রুপের সাথে সরকার বাহিনীর যুদ্ধ্ই হতো তাহলে বৌদ্ধ যুদ্ধা হতাহত হলো কতজন?

আর রোহিঙ্গা শিশু ও নারীরাও কি বিদ্রোহী যোদ্ধা? তাই আজ বিশ্ব মানবজাতির বিবেকের কাছে প্রশ্ন -এটা কি মরণ নিরবতা নয়।? এটা কি অনধ নিরবতা নয়? কাজেই হুশিয়ার ………

হাবিবুর রহমান হাবিব নামে একজন লিখেছেন, এ যেন মুখ থুবডে পডে আছে মানবতা!!! The pod is the face of humanity!!! গরীব মুসলিম রোহিঙ্গা শিশু গুলোর নির্মম হত্যা বিশ্ব বিভেক আজ কোথায়?? The poor children of the brutal killing of Rohingya Muslims in the world today where bibheka? শিশুটির নাম তোহাইত, বয়স ১০ মাস!

কাজী সালাউদ্দিন নামে একজন লিখেছেন, আর কত নির্মম নির্যাতন সইবে রোহিঙ্গা মুসলীমেরা ! বৌদ্ধ ধর্মের মূল কথা জীব হত্যা মহাপাপ। আর বৌদ্ধরাই নিস্পাপ শিশু ও আমদের মুসলীম ভাই বোনদের হত্যাযঞ্জে মেতে উঠেছে। আজ কোথায় বিশ্ব মানবতা?

সাংবাদিক আরাফাত সিদ্দিকী নামে একজন লিখেছেন, আবেগ অনুভূতি প্রকাশে কিংবা নিজের বোঝাপড়ায় আমি আমার ‘সততার ঘাটতি’ আবিস্কার করেছি। সমুদ্রপাড়ে পড়ে থাকা সিরীয় শিশু আয়লানের মৃতদেহ দেখে আমার যতটা কষ্ট লেগেছিলো। কক্সবাজারে পড়ে থাকা এক রোহিঙ্গা শিশুর মৃতদেহ দেখে কোনো অংশেই কষ্ট কম লাগেনি, তবুও সেই কষ্ট আমি লুকিয়েছি। ক্ষোভে প্রতিবাদ দেখাচ্ছি না। মানবতা এখানে ভুলে থাকার ভান করেছি। কারণ আমি এখন রাষ্ট্রীয় রাজনীতির নেটওয়ার্কে।

বার্মার সীমান্তরক্ষী পুলিশদের গুলিতে তিন বছরের একটা শিশু নিহত হয়ে আমার ভূ-খন্ডে পড়ে আছে, তারা প্রাণ বাঁচাতে মংডু থেকে নৌকায় করে কক্সবাজারের দিকে আসছিলো। একই নির্মমতা যখন বিশ্বমিডিয়া সিরিয়ার আয়ালানের ক্ষেত্রে প্রচার করেছিলো, তখন আমি ‘মানবতা কোথায়’ বলে ফেসবুক ফলিয়ে ছিলাম। আজ তা করছি না। আমাদের মিডিয়াও তা দেখছে না।

আমি একজন ‘হিপোক্রেট’, আমি একজন ‘মেইনস্ট্রিম’ মিডিয়া খোর। মানুষের জন্য আমার অনুভূতি সুবিধাবাদিতায় ভরা। আমি সুবিধাবাদের বাজারে থাকি, সেই বাজারেই কেনা-বেচা করি।