বিএনপি নেতা মিঠু হত্যা : অস্ত্রধারী রনি গ্রেফতার

0

জিসাফো ডেস্কঃখুলনা জেলা বিএনপির সাংগাঠনিক সম্পাদক ও ফুলতলার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সরদার আলাউদ্দীন মিঠু ও তার দেহরক্ষী নওশের গাজী হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মো. রনি মোড়ল (২৯) নামের এক অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার রাতে যশোরের বসুন্দিয়া এলাকা থেকে ফুলতলা থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। তার কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি শটগান উদ্ধার করা হয়েছে।

জোড়া হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, ফুলতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান মুন্সি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সোমবার বিকেলে তিনি পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, গ্রেফতারকৃত রনিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

হত্যাকাণ্ডের ক্লু সম্পর্কে তার কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করছেন তিনি।

গ্রেফতারকৃত রনি মোড়ল ফুলতলা উপজেলার দামোদর গ্রামের মো. ওমর আলী মোড়ল ওরফে সুদে মোড়লের ছেলে। তার বিরুদ্ধে ফুলতলা ও কেএমপির খালিশপুর থানায় হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে।

অপরদিকে, নিহত বিএনপি নেতা আলাউদ্দিন মিঠুর অফিস গার্ড শিমুল হাওলাদার ও অপর দেহরক্ষী সাদ্দাম ওরফে রিফাত রোববার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমারের আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধরার জবানবন্দিতে হত্যার পরিকল্পনাকারীদের মিঠুর অবস্থান সংক্রান্ত তথ্য সরবরাহের বিষয়টি স্বীকার করেছে বলে পুলিশের একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে।

সূত্রটি জানান, ফুলতলা উপজেলা বিএনপিতে ‘মিঠু’ ও ‘মার্শাল’ গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্ব দীর্ঘ দিনের। শিমুল হাওলাদার ‘মার্শাল’ গ্রুপের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। সে স্থানীয় দামোদর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক। এমনকি মার্শালের দেহরক্ষী হিসেবেও দীর্ঘ ৮-১০ বছর নিয়োজিত ছিল সে। গত দু’ মাস আগে ‘মার্শাল’ কৌশলে মিঠুর তথ্য আদান-প্রদানের জন্য শিমুল হাওলাদারকে মিঠুর কাছে পাঠিয়ে দেয়। তখন থেকেই সে মিঠুর অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সরবরাহ করছিল বলে সূত্র জানিয়েছে। এমনকি ঘটনার সময়ও শিমুল চা পানের কথা বলে অপর দেহরক্ষী সাদ্দাম ওরফে রিফাতকে নিয়ে অফিসের বাইরে অবস্থান করে। যে কারণে দেহরক্ষী নওশের গাজী গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেলেও তাদের কিছুই হয়নি। শিমুল হাওলাদারের মোবাইল কললিস্ট পরীক্ষা করেই তার সম্পৃক্ত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হয় পুলিশ। তার তথ্যের সূত্র ধরেই আটক করা হয় ফুলতলা থানা বিএনপির সদস্য সচিব হাসনাত রিজভী মার্শাল ভূঁইয়া এবং উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন কিরণকেও আটক করে পুলিশ।

নিহত বিএনপি নেতা সরদার আলাউদ্দিন মিঠুর ভাই সরদার সেলিম জানান, মার্শালের দেহরক্ষী শিমুল হাওলাদার দু’ মাস আগে তার বাবাকে সঙ্গে নিয়ে মিঠুর কাছে এসে বলে, মার্শাল তাকে মারধর করে বের করে দিয়েছে, একটি কাজ দিতে হবে। তখন বিশ্বাস করে মিঠু তার অফিসের কাজকর্মের জন্য তাকে রেখে দেয়। তবে তিনি মিঠুকে নিষেধ করেছিলেন।

উল্লেখ্য, ২৫ মে রাতে দলীয় নেতা কর্মীদের নিয়ে মিঠু ফুলতলার দামোদরে তার নিজ অফিসে বৈঠক করছিলেন বিএনপি নেতা মিঠু। এ সময় ডিবির পোশাক পরে ৪টি মোটরসাইকেলযোগে ৭/৮ জন লোক সেখানে প্রবেশ করে মিঠুর মাথায় গুলি করে। এরপর তারা এলোপাতাড়ি গুলি করতে থাকে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এ সময় মিঠুর দেহরক্ষী নওশের গাজী অফিসের দরজার শাটার বন্ধ করার চেষ্টা করলে তারা নওশেরকেও গুলি করে। তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে রাতেই সে মারা যায়।