বিএনপি তথা বাংলাদেশের গর্ব যশোরের কৃতি সন্তান সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলাম

0

জিসাফো ডেস্কঃ যশোরের কৃতি সন্তান সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলাম।নিচে সংক্ষেপে তরিকুল ইসলামের জীবনী তুলে ধরা হলোঃ

পারিবারিক পরিচিতি:
বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সমাজসেবার অঙ্গনে যশস্বীপুরুষ, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অগ্রসৈনিক, জনাব তরিকুল ইসলাম ১৯৪৬ সালের ১৬ নভেম্বর যশোর (Jessore) শহরে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা আলহাজ্জ্ব আব্দুল আজিজ একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। মাতা মোসাম্মৎ নূরজাহান বেগম ছিলেন একজন গৃহিণী।

জনাব ইসলাম দুই পুত্র সন্তানের জনক। স্ত্রী নারর্গিস ইসলাম তাঁর অন্যতম রাজনৈতিক সহযোদ্ধা। তিনি যশোর সরকারী সিটি কলেজে বাংলা বিভাগের উপাধ্যাক্ষ পদে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

শিক্ষাজীবন:
পারিবারিক ব্যবস্থাপনায় জনাব ইসলামের বাল্যশিক্ষা শুরু হয়। অতঃপর ১৯৫৩ সালে তিনি যশোর জিলা স্কুলে (Jessore Zilla School) তৃতীয় শ্রেণীতে ভর্তি হন। একটানা আট বৎসর শিক্ষা গ্রহণের পর ১৯৬১ সালে তিনি এই স্কুল থেকে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ১৯৬৩ সালে তিনি যশোর মাইকেল মধুসূদন মহাবিদ্যালয় থেকে আই. এ. এবং ১৯৬৮ সালে একই কলেজ থেকে তিনি অর্থনীতিতে বি. এ. (অনার্স) ডিগ্রী লাভ করেন। ১৯৬৯ সালে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অর্থনীতিতে এম. এ ডিগ্রী লাভ করেন।

রাজনৈতিক জীবন:
পেশাগতভাবে তিনি একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। ছাত্রজীবন থেকে জনাব ইসলাম ছাত্র রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন। ছাত্রজীবনে তিনি বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের নেতৃত্ব পুরোধা ব্যক্তিত্ব ছিলেন।

১৯৬৩-৬৪ শিক্ষাবর্ষে তিনি বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের প্রার্থী হিসাবে যশোর এম. এম কলেজ ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। বৃহত্তর যশোর জেলা ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতিও ছিলেন তিনি। তিনি ১৯৬৩ সালে সর্বক্ষেত্রে রাষ্ট্রভাষা প্রতিষ্ঠার আন্দেলনের যুগ্ন-আহবায়ক ছিলেন। ১৯৬৪ সালে তিনি তৎকালীন মৌলিক গণতন্ত্রের নির্বাচনে পাকিস্তান মুসলিম লীগের বিপরীতে ফাতেমা জিন্নাহ- এর অনুকূলে জনমত সৃষ্টির জন্য অধ্যাপক শরীফ হোসেনের সহযোদ্ধা হিসেবে গ্রামে গ্রামে গমন করেন এবং মানুষকে সংগঠিত করেন।

বৈচিত্র্যময় রাজনৈতিকজীবনে তিনি বহুবার কারাবরণ করেন ও নির্যাতনের শিকার হন। যশোর এম. এম কলেজে শহীদ মিনার তৈরী উদ্যোগ নিতে গিয়েও তিনি কারাবরণ করেন। ১৯৬৬ সালে তৎকালীন এম. এন. এ মিঃ আহম্মদ আলী সর্দার কর্তৃক দায়েরকৃত মিথ্যা মামলায় জনাব ইসলামকে বেশ কিছুদিন কারাবরণ করতে হয়। ১৯৬৮ সালে আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনের জন্যে তাঁকে রাজবন্দী হিসাবে দীর্ঘ নয় মাস যশোর ও রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে কারাভোগ করতে হয়। সাবেক পাকিস্তান আমল ও পরবর্তিতে বাংলাদেশ আমলে প্রত্যেকটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। আইয়ুব বিরোধী আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণআন্দোলনে তিনি সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। ১৯৬৯ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবস্থায় গণআন্দোলনে নেতৃত্বদানের জন্যে পুলিশ কর্তৃক নির্যাতিত হন এবং বেশ কিছুদিন হাজতবাস করেন।

জাতীয় রাজনীতিতে জনাব তরিকুল ইসলাম একজন প্রথম সারির নেতা। ১৯৭০ সালে জনাব ইসলাম মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে পরিচালিত ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টিতে যোগদান করেন। মজলুম জননেতা মৌলনা ভাসানী আহুত ফারাক্কা লং মার্চে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

আওয়ামী-বাকশাল আমলের দুঃশাসন ও কালাকানুনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ফোরামে বক্তব্য রাখার কারণে তরিকুল ইসলাম নির্যাতনের শিকার হন ও কারাবরণ করেন।

১৯৭৩ সালে জনাব তরিকুল ইসলাম বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়ে যশোর পৌরসভার ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

১৯৭৫ সালে আওয়ামী লীগ শাসনামলে জনাব ইসলাম তিন মাস কারাভোগ করেন।
১৯৭৮ সালে তিনি যশোর পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
১৯৭৮ সালে তিনি ফ্রন্টের হ্যাঁ/না নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন।

মরহুম মশিউর যাদুমিয়ার নেতৃত্বে ন্যাপ (ভাসানী) বিলুপ্ত হলে তিনি ১৯৭৯ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বি. এন. পির আহবায়কের দায়িত্ব পালন করেন।

যশোর সদর নির্বাচনী এলাকা (যশোর-৩) থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এ সময়ে তিনি জাতীয়তাবাদী দলের জেলা আহবায়ক ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮০ সালে তিনি জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৮২ সালের ৫ মার্চ জনাব তরিকুল ইসলাম সড়ক ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বপ্রাপ্ত হন।

১৯৮২ সালে স্বৈরাচারী এরশাদ সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর জনাব ইসলাম এরশাদ কর্তৃক কারারুদ্ধ হন এবং দীর্ঘ তিন মাস অজ্ঞাত স্থানে আটক থাকেন। অতঃপর তথাকথিত এরশাদ হত্যা মামলার প্রধান আসামী হিসাবে দীর্ঘ নয় মাস ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে অন্তরীণ থাকেন এবং নির্মম নির্যাতনের শিকার হন।

জেলখানা থেকে মুক্ত হয়ে জনাব ইসলাম এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

১৯৮৬ সালে তাঁকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বি. এন. পি)- এর যুগ্ন মহাসচিবের দায়িত্ব প্রদান করা হয়। এ সময়ে তিনি ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্বও পালন করেন।

১৯৯০ এর গণতান্ত্রিক আন্দোলনে জনাব ইসলাম বিশেষ অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। গণতান্ত্রিক উত্তরণের পর ১৯৯১ এর সংসদ নির্বাচনে তিনি সামান্য ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন। ১৯৯৪ সালের উপ-নির্বাচনে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দীতায় সংসদ নির্বাচিত হন।

১৯৯১ সালে জনাব তরিকুল ইসলাম সমাজকল্যাণ ও মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং ১৯৯২ সালে ঐ মন্ত্রণালয়ের পূর্ণমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। এ সময়ে তিনি ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি ঐ মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।

২০০১ সালের নির্বাচনে তিনি ৪০০০০ ভোটের ব্যবধানে তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দী আলী রোজা রাজুকে পরাজিত করে যশোর-৩ আসনের এম. পি নির্বাচিত হন। বিএনপি’র  মন্ত্রী পরিষদ গঠিত হলে তিনি বাংলাদেশ সরকারের খাদ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি তথ্য মন্ত্রণালয় এবং পরে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত হন।

যশোর উন্নয়নে অবদান:
জননেতা তরিকুল ইসলাম বিএনপি’র অবিচ্ছেদ্য অংশ। যশোরের রুপকার তিনি। যশোর পূনগঠনে তরিকুল ইসলাম এক অদ্বিতীয় নেতা। এটি তার প্রকট সমালোকরাও স্বীকার করেন। যশোর মেডিকেল কলেজ, যশোর কারিগরী প্রশিক্ষন মহাবিদ্যালয়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযু্ক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতাল ও করোনারি কেয়ার ইউনিট, বিভাগীয় কাষ্টমস অফিস, বেনাপোল স্থল বন্দর, যশোর মডেল পৌরসভা এর সকল অজর্নের কৃতিত্বের দাবিদার তিনিই। তার কর্মের কারনে তিনি অবিস্মরনীয় থাকবেন যশোরের মানুষের কাছে।

সামাজিক কর্মকান্ড :
জনাব ইসলাম যশোর সরকারী সিটি কলেজ পরিচালনা পরিষদের নির্বাহী সদস্য, যশোর ইনস্টিটিউটের সহকারী সম্পাদক, যশোরের সর্ববৃহৎ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘জাগরণী চক্র’- এর সভাপতি, কিংশুক সঙ্গীত শিক্ষা কেন্দ্রের প্রধান উপদেষ্টা ও যশোর ক্লাবের নির্বাহী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। যশোর জেলা ক্রীড়া সংস্থাকে আধুনিকীকরণে জনাব ইসলাম বিশেষ ভূমিকা পালন করেছেন।এখানে ক্লীক করুন তরিকুল ইসলামের নিহত কর্মীর পরিবারের প্রতি দায়িত্ববোধ

দেশ ভ্রমণ :
তরিকুল ইসলাম ব্যক্তিগত, দলীয়, রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসাবে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, গণচীন, উত্তর কোরিয়া, হংকং, ইটালী, ফ্রান্স, শ্রীলংকা, ভুটান, সাউথ আফ্রিকা, সাইপ্রাস, ভারত, সিঙ্গাপুর, ভিয়েনা, আর্জেন্টিনা, সুইজারল্যান্ড ও কানাডাসহ অসংখ্য দেশ ভ্রমণ করেন এবং যশোর পৌরসভার চেয়ারম্যান হিসেবে সিঙ্গাপুর, মলয়েশিয়া, থাইল্যান্ড সফর করেন। তিনি এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় ফোরামে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন।

তথ্য সূত্র :
জাগরণ বাষির্কী ৯৫
যশোর জিলা স্কুল