বিএনপি চেয়ারপার্সন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন ও এর কাঠামো সম্পর্কিত যে প্রস্তাবনা দিলেন

0

নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন ও এর কাঠামো সম্পর্কে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র প্রস্তাবনা:

বিএনপি চেয়ারপার্সন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী

দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া

স্থান: হোটেল ওয়েস্টিন, গুলশান-২, ঢাকা। ১৯ নভেম্বর ২০১৬

উপস্থিত সুধী মন্ডলী,

প্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা,

আস্সালামু আলাইকুম।

গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নির্বাচন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ বিভিন্ন বিষয়ে তাঁদের মতামত ব্যক্ত করেন, রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য প্রতিনিধি নির্বাচন করেন। আর তাই নির্বাচনকে বলা হয় গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান বাহন, অপরিহার্য অনুষঙ্গ।

এমন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া সম্পাদনের জন্য যারা দায়িত্বপ্রাপ্ত হবেন নিঃসন্দেহে তাঁদের নিরপেক্ষতা, যোগ্যতা এবং দায়িত্ব পালনের দৃঢ়তা প্রশ্নাতীত হতে হবে।

নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী এবং ভোটার শুধু নয় সারা বিশ্ব যে কোন দেশের জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেÑপ্রশংসা কিংবা তিরস্কার করে।

দুর্ভাগ্যক্রমে বাংলাদেশে বিশেষ করে গত দুটি জাতীয় নির্বাচনে এবং গত কয়েক বছরের অনুষ্ঠিত স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকা এবং পক্ষপাতমূলক আচরণ দেশের নির্বাচন ব্যবস্থা সম্পর্কে জনগণকে হতাশ, আস্থাহীন এবং ক্ষুব্ধ করে তুলেছে। বৃহত্তর জাতীয় ও গণতন্ত্রের স্বার্থে এহেন পরিস্থিতি আর চলতে দেয়া যায় না। জনগণ পরিস্থিতির ইতিবাচক পরিবর্তন চান। তাঁরা নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, সক্ষমতা এবং দায়িত্বপালনে ন্যায়পরায়ন দৃঢ়তা দেখতে চায়।

তাঁরা চায় অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এমন একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন সেখানে তাঁরা নির্বিঘেœ ভোটের মাধ্যমে তাঁদের সংবিধান স্বীকৃত মৌলিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারে এবং তাঁদের দেয়া রায় যেন কৌশলে কেউ বদলে দিতে না পারে।

বর্তমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে, একটি স্বাধীন নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায়, সকলের নিকট গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য একটি স্থায়ী ব্যবস্থা প্রণয়ন বাঞ্ছনীয়।

আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে (২০১৭) বর্তমান বিতর্কিত নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ শেষ হবে।

অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য একটি নিরপেক্ষ, সৎ, সাহসী, দক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন করার কোন বিকল্প নেই।

জনগণের ন্যায্য ও সাংবিধানিক আকাংখা পূরণের লক্ষ্যে বিএনপি নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন, নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালীকরণ এবং নির্বাচনকালীন সময়ে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জাতির উদ্দেশ্যে কতিপয় সুপারিশ উপস্থাপন করছে;

সকল রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যের  ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে।

প্রাথমিকভাবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া ও পদ্ধতি নিরূপণের জন্য সকল নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল এবং অথবা, স্বাধীনতার পর প্রথম জাতীয় সংসদ থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময়ে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেছে এমন সকল রাজনৈতিক দলের মহাসচিব অথবা সাধারণ সম্পাদক কিংবা মনোনীত প্রতিনিধির সঙ্গে পৃথক পৃথক বৈঠক করবেন।
তবে দেশে যেহেতু এই মুহূর্তে ২(দুই) টি প্রধান রাজনৈতিক জোট (বিএনপির নেতৃত্বে ২০ দলীয় জোট ও আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোট) বিদ্যমান সেহেতু এই দুই জোটের পক্ষ থেকে একজন করে মূল প্রতিনিধি এবং তাঁকে সহায়তাদানকারী আরও দুইজন প্রতিনিধি উপস্থিত থাকতে পারবেন।

রাষ্ট্রপতি নাগরিক সমাজের মধ্য হতে সৎ, যোগ্য ও দল নিরপেক্ষ প্রতিনিধিদেরকেও আলোচনায় যুক্ত করতে পারেন।

২.১ নিবন্ধনকৃত সকল রাজনৈতিক দল, এবং অথবা, স্বাধীনতার পর প্রথম জাতীয় সংসদ থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময়ে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেছে এমন সকল রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যের (ঈড়হংবহংঁং) ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন গঠিত হবে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য কমিশনারদের যোগ্যতা, অযোগ্যতা ও মনোনয়নের প্রশ্নে ঐকমত্য (ঈড়হংবহংঁং) প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত নিবন্ধনকৃত রাজনৈতিক দল এবং অথবা স্বাধীনতার পর প্রথম জাতীয় সংসদ থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময়ে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেছে এমন সকল রাজনৈতিক দল নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রাখতে হবে।

২.২ নিবন্ধনকৃত সকল রাজনৈতিক দল এবং অথবা স্বাধীনতার পর প্রথম জাতীয় সংসদ থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময়ে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেছে এমন সকল রাজনৈতিক দলের সাথে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক অনুষ্ঠিত বৈঠকের সম্মত কার্যবিবরণী (অমৎববফ সববঃরহম সরহঁঃবং), এবং বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে (ঁহধহরসড়ঁং) গৃহীত সিদ্ধান্ত সমূহ, সকল রাজনৈতিক দলের উপস্থিত প্রতিনিধিদের স্বাক্ষরযুক্ত দলিলরূপে, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, সর্বসাধারণের অবগতির জন্য প্রকাশ করবে।

বাছাই কমিটি গঠন;

মহামান্য রাষ্ট্রপতি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলসমূহ এবং অথবা স্বাধীনতার পর প্রথম জাতীয় সংসদ থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময়ে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেছে এমন সকল রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে একটি বাছাই কমিটি গঠন করবেন।

৩.১ বাছাই কমিটি গঠন কাঠামো:

রাষ্ট্রপতি সর্বজন শ্রদ্ধেয় সৎ, নিরপেক্ষ, অভিজ্ঞ, প্রাজ্ঞ, এবং নৈতিকতা ও ব্যক্তিত্বসম্পন্ন ব্যক্তিদের নিয়ে ৫(পাঁচ) সদস্য বিশিষ্ট একটি বাছাই কমিটি গঠন করবেন। বাছাই কমিটি গঠনের কাঠামো নি¤œরূপ হবে:

বাছাই কমিটির আহবায়ক :

৩.১.১ বাংলাদেশের অবসরপ্রাপ্ত এবং কর্মক্ষম একজন সাবেক প্রধান বিচারপতি (জ্যেষ্ঠতার ক্রমানুসারে) যিনি বিতর্কিত নন এবং অবসর গ্রহণের পর সরকারের কোন লাভজনক পদে (ঙভভরপব ড়ভ ঢ়ৎড়ভরঃ) অধিষ্ঠিত নহেন না ছিলেন না।

বাছাই কমিটির সদস্য :

৩.১.২ আপীল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত একজন বিচারপতি যিনি বিতর্কিত নন এবং অবসর গ্রহণের পর সরকারের কোন লাভজনক পদে (ঙভভরপব ড়ভ ঢ়ৎড়ভরঃ) অধিষ্ঠিত নহেন বা ছিলেন না।

৩.১.৩ সরকারের অবসরপ্রাপ্ত সৎ এবং দল নিরপেক্ষ একজন সচিব যিনি বিতর্কিত নন এবং অবসর গ্রহণের পর সরকারের কোন লাভজনক পদে (ঙভভরপব ড়ভ ঢ়ৎড়ভরঃ) অধিষ্ঠিত নহেন বা ছিলেন না। তবে অবসরপ্রাপ্ত মন্ত্রী পরিষদ সচিব এবং বিভিন্ন সময়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন এমন কোন কর্মকর্তা বাছাই কমিটির সদস্য হতে পারবেন না।

৩.১.৪ অবসরপ্রাপ্ত সৎ এবং দল নিরপেক্ষ একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, যিনি বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ হিসেবে সুখ্যাত, এবং যিনি অবসর গ্রহণের পর সরকারের কোন লাভজনক পদে (ঙভভরপব ড়ভ ঢ়ৎড়ভরঃ) অধিষ্ঠিত নহেন বা ছিলেন না অথবা দল নিরপেক্ষ সর্বজন শ্রদ্ধেয় একজন বিশিষ্ট নাগরিক।

৩.১.৫ সর্বজন শ্রদ্ধেয় দল নিরপেক্ষ একজন সৎ, দক্ষ ও যোগ্য জ্যেষ্ঠ নারী।

নিবন্ধিত সকল রাজনৈতিক দল এবং অথবা স্বাধীনতার পর প্রথম জাতীয় সংসদ থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময়ে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেছে এমন প্রত্যেক রাজনৈতিক দল, অনুচ্ছেদ ২ এ বর্ণিত পদ্ধতিতে, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে অনুষ্ঠিত পৃথক পৃথক বৈঠকে বাছাই কমিটির সদস্য নিয়োগের জন্য প্রতি পদের বিপরীতে ২(দুই) জনের নাম ও পরিচয়সহ সুস্পষ্ট প্রস্তাব লিখিতভাবে পেশ করবে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনারদের যোগ্যতা :

৫.১ প্রধান নির্বাচন কমিশনার এর যোগ্যতা :

সর্বজন শ্রদ্ধেয় সৎ, মেধাবী, দক্ষ, সাহসী, প্রাজ্ঞ এবং নৈতিকতা, ব্যক্তিত্ব ও কর্ম অভিজ্ঞতা সম্পন্ন এবং সকল বিচারে দল-নিরপেক্ষ এবং বিতর্কিত নন এমন একজন ব্যক্তি প্রধান নির্বাচন কমিশনার হবেন।

সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে অধিষ্টিত ছিলেন এমন একজন ব্যক্তি, অথবা বাংলাদেশ সরকারের একজন সচিব যিনি অবসর গ্রহণের পর সরকারের কোন লাভজনক পদে নিয়োজিত নহেন বা ছিলেন না, অথবা একজন বিশিষ্ট নাগরিক-প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হতে পারবেন।

তবে অবসরপ্রাপ্ত মন্ত্রীপরিষদ সচিব এবং বিভিন্ন সময়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন এমন কোন কর্মকর্তা প্রধান নির্বাচন কমিশনার পদে পদায়নের যোগ্য হবেন না; এবং বাংলাদেশ সরকারের সচিব যিনি অবসরগ্রহণের বা পদত্যাগের বা অপসারণের পর, কিংবা চুক্তি ভিত্তিক নিয়োগের মেয়াদ সমাপ্তি বা চুক্তি বাতিলের পর তিন বছর সময়কাল অতিবাহিত করেননি, তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনার পদে পদায়নের যোগ্য হবেন না।

৫.২ নির্বাচন কমিশনার এর যোগ্যতা:

৫.২.১. একজন নারীসহ সর্বজন শ্রদ্ধেয়, সৎ, মেধাবী, দক্ষ, প্রাজ্ঞ, সাহসী, নৈতিকতা, ব্যক্তিত্ব ও কর্ম অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ও সকল বিচারে দলনিরপেক্ষ এবং বিতর্কিত নহেন এমন ব্যক্তিদের মধ্যে হতে চারজন নির্বাচন কমিশনার নিযুক্ত হতে পারবেন।

৫.২.২ ন্যূনপক্ষে জেলা জজের মর্যাদা সম্পন্ন অবসরপ্রাপ্ত বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা, ন্যূনপক্ষে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদমর্যাদা সম্পন্ন অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা, ন্যূনপক্ষে যুগ্ম-সচিব পদমর্যাদার অবসরপ্রাপ্ত সরকারী কর্মকর্তা, সুপ্রিমকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী, প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা সম্পন্ন শিক্ষাবিদ এবং সর্বজন শ্রদ্ধেয় বিশিষ্ট নাগরিকদের মধ্য হতে নির্বাচন কমিশনার নিয়োগপ্রাপ্ত হবেন।

তবে যিনি প্রজাতন্ত্রের বা সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষের, বা প্রতিরক্ষা কর্ম বিভাগের কোন চাকরি থেকে অবসর গ্রহন বা পদত্যাগের বা অপসারণের পর কিংবা চুক্তি ভিত্তিক নিয়োগের মেয়াদ সমাপ্তি বা চুক্তি বাতিলের পর, তিন বছর সময়কাল অতিবাহিত করেননি তিনি নির্বাচন কমিশনার পদে পদায়নের যোগ্য হবেন না।

৫.২.৩. নিবন্ধিত সকল রাজনৈতিক দল এবং অথবা স্বাধীনতার পর প্রথম জাতীয় সংসদে থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময়ে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেছে এমন প্রত্যেক রাজনৈতিক দল, অনুচ্ছেদ ২ এ বর্ণিত পদ্ধতিতে, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে অনুষ্ঠিত পৃথক পৃথক বৈঠকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের জন্য, প্রতি পদের বিপরীতে ২(দুই) জনের নাম ও পরিচয়সহ সুস্পষ্ট প্রস্তাব লিখিতভাবে পেশ করবে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার পদে নিয়োগের জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক দলসমূহ হতে প্রাপ্ত ব্যক্তিদের নাম রাষ্ট্রপতি বাছাই কমিটির নিকট প্রেরণ করবেন। বাছাই কমিটি এই সকল নাম হতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের জন্য ২(দুই) জন এবং নির্বাচন কমিশনারের জন্য ৮(আট) জন এইভাবে মোট ১০(দশ) জনের নাম বাছাই করবে।

এই প্রক্রিয়ায় বাছাই কমিটি প্রথম প্রস্তাবিত ব্যক্তিদের বিষয়ে বিচার বিশ্লেষণ করবে এবং তাদের মধ্যে যেসব ব্যক্তির নাম সব রাজনৈতিক দলের প্রস্তাবনায় অভিন্ন (ঈড়সসড়হ) রয়েছে তাঁদের নাম রাষ্ট্রপতির নিকট প্রেরণের জন্য চূড়ান্ত করবে।

এইভাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের জন্য ২(দুই) জন এবং নির্বাচন কমিশনারের জন্য ৮(আট) জন অভিন্ন পাওয়া না গেলে বাছাই কমিটি নিবন্ধনকৃত সকল রাজনৈতিক দল এবং অথবা স্বাধীনতার পর প্রথম জাতীয় সংসদ থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময়ে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেছে এমন সকল রাজনৈতিক দলের সাথে প্রয়োজন বারবার আলোচনা করবে। এই প্রক্রিয়ায় কোন রাজনৈতিক দল নতুন নাম প্রস্তাব করতে চাইলে বাছাই কমিটি ঐকমত্য পৌছার স্বার্থে প্রস্তাবিত নতুন নাম গ্রহণ করবে।

এইভাবে বাছাই কমিটি রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনাক্রমে ঐকমত্যের ভিত্তিতে বাকি নাম কিংবা নামসমূহ নির্ধারণ করবে এবং রাষ্ট্রপতির বিবেচনার জন্য প্রেরণ করবে।

রাষ্ট্রপতি বাছাই কমিটি কর্তৃক প্রধান নির্বাচন কমিশনারের জন্য বাছাইকৃত ২ (দুই) জনের মধ্যে হতে ১(এক) জনকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং বাছাই কমিটি কর্তৃক নির্বাচন কমিশনারের জন্য বাছাইকৃত ৮(আট) জনের মধ্য হতে ৪(চার) জনকে নির্বাচন কমিশনার পদে চূড়ান্ত করবেন। রাষ্ট্রপতি চূড়ান্তকৃত এইসকল ব্যক্তিদের সম্মতি গ্রহণ এবং তাঁদের জীবন বৃত্তান্ত ও সম্পদের বিবরণী জনসমক্ষে প্রকাশ করার ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন এবং তাঁদের নিয়োগ প্রদান করবেন।

রাষ্ট্রপতি কর্তৃক চূড়ান্তকৃত ব্যক্তিদের মধ্যে কেহ সম্মত না হলে, কিংবা অন্য কোন অসঙ্গতি পরিলক্ষিত হলে, বাছাই কমিটি কর্তৃক মনোনীত অবশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্য হতে রাষ্ট্রপতি একই প্রক্রিয়া ও পদ্ধতিতে চূড়ান্ত নিয়োগ প্রদান করবেন।

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের জন্য বাছাইকৃত ২(দুই) জনই অসম্মতি প্রকাশ করলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার মনোনয়নের জন্য একই প্রক্রিয়া ও পদ্ধতিতে নতুন করে বাছাই প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। একইভাবে কমিশনার পদে মনোনীত ব্যক্তিদের মধ্যে অসম্মত ব্যক্তির সংখ্যা যদি এমন হয় যে, কমিশনার পদে বিবেচনার জন্য বাছাই কমিটি কর্তৃক মনোনীত আর কোন ব্যক্তি অবশিষ্ট নেই, তাহলে কমিশনার পদে মনোনয়নের জন্য একই প্রক্রিয়া ও পদ্ধতিতে নতুন করে বাছাই প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে।

নির্বাচন কমিশনকে অধিকতর শক্তিশালী করার লক্ষ্যে করণীয়

নির্বাচন কমিশনকে অধিকতর কার্যকর ও শক্তিশালীকরণ এবং জচঙ সহ অন্যান্য নির্বাচনী বিধি-বিধান সময় উপযোগী ও যৌক্তিকিকরনের জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার করতে হবে।

Representation of People Order (RPO) এর সংশোধনী প্রস্তাব :

RPO এর Definition Clause এর Article 2 (Xlaa) তে Law Enforcing Agency’  হিসেবে অন্যান্য বাহিনীর সাথে “”Defense Services of Bangladesh” ” পুনঃস্থাপন করতে হবে।
(উল্লেখ্য যে, ২০০৯ সনের সংশোধনীতে “”Defense Services of Bangladesh” ” কে এই সংজ্ঞা থেকে বাদ দেয়া হয়েছিলে।)

RPO এরArticle 28(4)(d)  এর পর নতুন করে (e) সন্নিবেশ করতে হবে;

(e) “after distribution of empty ballot boxes to the polling booths, place the remaining empty ballot boxes, if any, at a secure place within the sight of the contesting candidates or election agents or polling agents.”

(ভোট গ্রহণের আগে বিভিন্ন বুথে খালি বাক্স সরবরাহের পর অবশিষ্ট শূন্য ব্যালট বাক্স সমূহ, যদি থাকে, এমন নিরাপদস্থানে রাখতে হবে যাতে তা প্রার্থী অথবা নির্বাচনী এজেন্ট অথবা পোলিং এজেন্টদের কাছে দৃশমান থাকে)

RPOএর Article 28(5) এর শেষাংশ এইভাবে সংশোধন করতে হবে “

“…..and keep it at the relevant booth within the sight of the concerned Assistant presiding Officer and election agents and/or polling agents and use another ballot box in the manner laid down in clause(4).”

(ভোট চলাকালে ব্যালট বাক্স পরিপূর্ণ হয়ে গেলে ব্যালট ভর্তি বাক্স বা বাক্সগুলো সংশ্লিষ্ট বুথেই রাখতে হবে যাতে তা সংশ্লিষ্ট সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং নির্বাচনী এজেন্ট এবং অথবা পোলিং এজেন্টদের নিকট দৃশ্যমান থাকে)

RPO এর Article 36(4)(a) তে Open’ শব্দের পর”only’ শব্দ যোগ করতে হবে “

“open only the used ballot box or ballot boxes and count the entire lot of ballot papers taken out therefrom,”) |

(ভোট শেষে ব্যালট গননার জন্য কেবলমাত্র ভোটগ্রহনে ব্যবহৃত ব্যালট বাক্স সমূহ খোলা হবে)

RPO এরArticle 36(11) এর পর নিম্নের লাইন যোগ করতে হবে;

“And the Presiding Officer shall not leave the polling station without implementing article 36(11)”

(Presiding Officer তাঁর স্বাক্ষরিত ফলাফল শীট ভোট কেন্দ্রে পোলিং এজেন্টকে হস্তান্তর না করে ভোট কেন্দ্র ত্যাগ করবেন না)

বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন শক্তিশালীকরণ :

বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন এর নিজস্ব সচিবালয় গঠন করতে হবে।

১.১ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৭৯ অনুচ্ছেদে জাতীয় সংসদের নিজস্ব সচিবালয় থাকবে বলে উল্লেখ আছে। একইভাবে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের জন্যও নিজস্ব সচিবালয় গঠন করতে হবে। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের আর্থিক স্বাধীনতা থাকতে হবে।

নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে হবে।

২.১ নতুনভাবে গঠিত নির্বাচন কমিশনকে এর নিজস্ব সচিবালয় ও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এবং সকল পর্যায়ের নির্বাচনী কর্মকর্তা অর্থাৎ রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার, আপিল কর্তৃপক্ষ, প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসার, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্মকর্তা, রেজিস্ট্রেশন অফিসার, সহকারী রেজিস্ট্রেশন অফিসার, রিভাইজিং অথরিটি, নির্বাচন কার্যে নিয়োজিত বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে হবে।

২.২ নতুনভাবে গঠিত নির্বাচন কমিশনকে যথাশীঘ্র সম্ভব একটি কমিটি গঠনকরত: নির্বাচন কমিশন সচিবালয় ও মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে রাজনৈতিক দলের প্রতি প্রকাশ্য আনুগত্য পোষণকারী কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করে অতিসত্বর প্রত্যাহার করতে হবে এবং প্রত্যাহারকৃত কর্মকর্তাদের যে কোন ধরনের নির্বাচনী দায়িত্বপালন হতে বিরত রাখতে হবে।

২.৩ নির্বাচন কমিশন সচিবালয় ও তাদের মাঠ পর্যায়ের যে সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী বিগত ২০০৮ ও ২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন পর্যায়ের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (জচঙ) ও অন্যান্য নির্বাচনী বিধি বিধানের ব্যত্যয় ঘটিয়েছে তাদের তালিকা প্রণয়ন করত; নির্বাচনী কার্যক্রম থেকে বিরত রাখতে হবে।

প্রেষণে নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত প্রকাশ্য রাজনৈতিক মতাবলম্বী নির্বাচনী কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করতে হবে।

৩.১ নতুনভাবে গঠিত নির্বাচন কমিশন একটি কমিটি গঠন করে বিগত ২০০৮ ও ২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন পর্যায়ের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রেষণে নিয়োজিত কর্মকর্তা অর্থাৎ রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার, আপিল কর্তৃপক্ষ, প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসার, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্মকর্তা, রেজিস্ট্রেশন অফিসার, সহকারী রেজিস্ট্রেশন অফিসার, রিভাইজিং অথরিটি, নির্বাচন কার্যে নিয়োজিত বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের মধ্য হতে প্রকাশ্য দলীয় আনুগত্য পোষণকারীদের চিহ্নিত করে তালিকা প্রণয়ন করবে।

ঐ সকল চিহ্নিত কর্মকর্তাদের ভবিষ্যতে অন্য যে কোন নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করা থেকে বিরত রাখতে হবে।

রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ।

৪.১ সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার সময় মাঠ পর্যায়ে কর্মরত জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারদের প্রত্যাহার করে নতুন কর্মকর্তা পদায়নের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। নতুন কর্মকর্তা পদায়নে বিগত ৫(পাঁচ) বছর বিভিন্ন পদমর্যাদায় ঐ জেলায় চাকুরীরত ছিলেন এমন কর্মকর্তাদের একই জেলায় জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার পদে পদায়ন করা যাবে না।

৪.২ একইভাবে নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার সময় প্রত্যেক উপজেলা এবং থানায় কর্মরত উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের প্রত্যাহার করে নতুন কর্মকর্তা নিয়োগের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। ইতোপূর্বে কোন সময় যে কোন পদমর্যাদায় ঐ উপজেলা বা থানায় চাকুরীরত ছিলেন এমন কোন কর্মকর্তাদের একই উপজেলায় বা থানায় নিয়োগ প্রদান করা যাবে না।

নির্বাচনের সময় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় নির্বাচন কমিশনের চাহিদা অনুযায়ী কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বাধ্য থাকবে।

৫.১ নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণার প্রাক্কালে নির্বাচনের সাথে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় যেমন স্বরাষ্ট্র, অর্থ, তথ্য, জনপ্রশাসন, স্থানীয় সরকার, শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, পররাষ্ট্র এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সংবিধানের ১২৬ অনুচ্ছেদ ও গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর ৫ অনুচ্ছেদ অনুসারে নির্বাচন কমিশনের চাহিদা অনুযায়ী কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বাধ্য থাকবে। সাধারণ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার তারিখ থেকে নির্বাচিত নতুন সরকার দায়িত্ব না নেয়া পর্যন্ত এ ব্যবস্থা বলবৎ থাকবে।

৫.২ নির্বাচনকালীন সময়ে (নির্বাচন তফিসল ঘোষণার তারিখ থেকে নির্বাচিত নতুন সরকার দায়িত্ব না নেয়া পর্যন্ত) নির্বাচন সংশ্লিষ্ট মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ( যেমন বিভাগীয় কমিশনার, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং পুলিশ ডিআইজি, অতিরিক্ত ডিআইজি, মেট্টোপলিটন পুলিশ কমিশনার, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার, উপ পুলিশ কমিশনার, সহকারী পুলিশ কমিশনার, জেলা পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপারম সহকারী পুলিশ সুপার, পুলিশ ইন্সপেক্টর, থানার ওসি, সাব ইন্সপেক্টর, এ এস আই, র‌্যাবের সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা, আনসার, বিজিবি ও কোস্ট গার্ড কর্মকর্তা প্রমুখ) বদলি ও পদায়ন সম্পূর্ণভাবে নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ারভুক্ত থাকবে।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুনর্বিন্যাস করতে হবে।

৬.১ নবগঠিত নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক দলসমূহ কর্তৃক উত্থাপিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারন সংক্রান্ত অভিযোগ অথবা মামলা শুনানীর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সীমানা পুনর্বিন্যাস করবে।

নির্বাচনকালীন সময়ে প্রতিরক্ষা বাহিনী মোতায়েনের ব্যবস্থা করতে হবে।

৭.১ বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন নির্বাচনকালীন সময়ে প্রতিরক্ষা বাহিনীকে ম্যাজিস্টেরিয়াল ক্ষমতা প্রদান করে সকল নির্বাচনী এলাকায় টহলসহ ভোট কেন্দ্রে ও বিশেষ বিশেষ স্থানে মোতায়েনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

এই ব্যবস্থা ভোট গ্রহণ দিবসের ৭ (সাত) দিন পূর্ব হতে নির্বাচনী ফলাফলের গেজেট প্রকাশনা পর্যন্ত স্থায়ী হবে।

ভোটার তালিকা হালনাগাদকরণ ও নতুন ভোটার নিবন্ধীকরণ করতে হবে।

৮.১ প্রবাসে বসবাসরত বাংলাদেশী নাগরিকবৃন্দ ভোটার হতে অভ্যন্ত আগ্রহী। বর্তমানে তারা ভোটার হতে পারছেন না। প্রবাসী বাংলাদেশীদের দীর্ঘদিনের দাবি অনুযায়ী এবং জাতীয় অর্থনীতিতে তাদের অবদান বিবেচনায় প্রবাসীদেরকে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। বহু গণতান্ত্রিক দেশে প্রবাসীদের ভোটার হওয়ার সুযোগ আছে।

৮.২ ভোটার হওয়ার যোগ্য সকল নাগরিকের নাম ভোটার তালিকায় নিবন্ধীকরণ করতে হবে। সকল রাজনৈতিক নেতা ও কর্মী, যারা ভোটার হওয়ার যোগ্য, কিন্তু বিভিন্ন মিথ্যা ও হয়রানীমূলক মামলায় বর্তমানে কারান্তরীন রয়েছে, তাদের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে ভোটার তালিকা হালনাগাদকরণ নিশ্চিত করতে হবে।

৮.৩ ছবিসহ যে ভোটার তালিকা ভোট কেন্দ্রে নির্বাচনী কর্মকর্তাদের নিকট থাকে, ছবিসহ অভিন্ন ভোটার তালিকা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী অথবা নির্বাচনী এজেন্টকে প্রার্থিতা বাছাই এর দিনে সরবরাহ করতে হবে।

৮.৪ ছবিসহ ভোটার তালিকায় অনেক ক্ষেত্রে ভোটারের ছবি অপরিচ্ছন্ন ও অস্পষ্ট রয়েছে বলে অভিযোগ আছে। এই ক্ষেত্রে ভোটার তালিকা হালনাগাদের সময় অভিযোগসমূহ আমলে নিয়ে সঠিকতা যাচাইপূর্বক যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

৮.৫ ভোটার তালিকায় যাদের নাম অন্তর্ভূক্ত রয়েছে, কেবল মাত্র ভোটার তালিকায় অন্তর্ভূক্তির ভিত্তিতে কোন প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই তারা ভোট দিতে পারবেন।

৮.৬ প্রত্যেক কেন্দ্রে ভোট গণনার সময় ঐ কেন্দ্রের প্রত্যেক বুথে প্রার্থী কর্তৃক নিযুক্ত পোলিং এজেন্টকে অবশ্যই উপস্থিত রাখতে হবে।

৮.৭ ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার সাথে সাথে ভোট গণনা শুরু করতে হবে। ভোট গ্রহণ শেষ হওয়া এবং ভোট গণনা শুরুর মধ্যবর্তী সময়ে কোন বিরতি দেয়া যাবে না।

বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

৯.১ বর্তমানে কর্মরত নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য নিবিড় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এই প্রশিক্ষণ পদ্ধতিতে নির্বাচনী বিধি-বিধান, ভোটার নিবন্ধিকরন বিধি-বিধান, নাগরিক অধিকার, আচরণ, নিরাপত্তা, জনসংযোগ, মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা, ভোটার প্রশিক্ষণ ইত্যাদি বিষয় সন্নিবেশ করতে হবে।

৯.২. বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের অধীনস্থ নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে। যেমন আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট স্থাপন, লোকবল বৃদ্ধি, দক্ষতা ও কর্ম পরিধি বৃদ্ধি ইত্যাদি।

৯.৩. নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক দলের উপজেলা এবং জেলা পর্যায়ের কর্মী এবং সম্ভাব্য পোলিং এজেন্টদের নির্বাচনী আইন ও বিধি-বিধান সম্পর্কে প্রশিক্ষণ প্রদান করবে।

৯.৪. রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী এজেন্ট ও পোলিং এজেন্টদের প্রশিক্ষণ প্রদানে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলসমূহকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দানের জন্য বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ প্রদান করবে। রাজনৈতিক দলসমূহ কর্তৃক আয়োজিত এ প্রশিক্ষণে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে নির্বাচন কমিশন কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

৯.৫ নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ব্যাপক ভোটার প্রশিক্ষণ প্রচারণা (ঠড়ঃবৎ ঊফঁপধঃরড়হ ঈধসঢ়ধরমহ) কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। এই কার্যক্রমে রাজনৈতিক দল, নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, গণমাধ্যম এবং বেসরকারী সংস্থা সমূহের সহায়তা নিতে হবে।

নির্বাচন কমিশন কর্মকর্তাদের ম্যাজিস্টেরিয়াল ক্ষমতা প্রদান করতে হবে।

১০.১. নির্বাচনকালীন সময়, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন নিজস্ব কর্মকর্তাদের গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ (জচঙ) এর ৮৯(এ) অনুচ্ছেদের বিধান অনুসারে বিশেষ আদেশের মাধ্যমে ম্যাজিস্টেরিয়াল ক্ষমতা প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

নির্বাচনী আইন ও বিধি-বিধান ভঙ্গের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাৎক্ষণিক প্রতিবিধানের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

১১.১. নির্বাচনের তফসীল ঘোষণার অব্যবহিত পর থেকে নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত নির্বাচনী আইন, আচরণবিধি ও অন্যান্য নির্বাচনী বিধি-বিধান ভঙ্গের অভিযোগপত্র এবং নির্বাচন সংশ্লিষ্ট যে কোন বিষয়ে দাখিলকৃত অভিযোগপত্র গ্রহণ ও লিখিত প্রাপ্তি স্বীকার করতে হবে, তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর প্রতিবিধান করতে হবে এবং গৃহীত কার্যক্রম প্রত্যহ জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে।

জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে নির্বাচন পর্যবেক্ষক নিয়োগ।

১২.১ নির্বাচনী তফসীল ঘোষণার ন্যূনপক্ষে ৩(তিন) বছর পূর্বে নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থাকে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্বারা নিবন্ধিত হতে হবে।

১২.২ কোন রাজনৈতিক দলের নেতা ও কর্মী কিংবা রাজনৈতিক দলের প্রতি প্রকাশ্য আনুগত্য পোষণকারী কোন ব্যক্তি বা তাঁর নিয়ন্ত্রণাধীন কোন পর্যবেক্ষক সংস্থা কিংবা সংস্থার কোন ব্যক্তি নির্বাচন পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োজিত হতে পারবেন না।

১২.৩. নির্বাচন কমিশন নির্বাচনী তফসীল ঘোষণার ন্যূনপক্ষে ৩০(ত্রিশ) দিন আগে নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা বা ব্যক্তিকে তালিকাভূক্ত করবে।

১২.৪. নির্বাচনী তফসীল ঘোষণার ৭(সাত) দিনের মধ্যে, নির্বাচন কমিশন কর্তৃক তালিকাভূক্ত জাতীয় ও স্থানীয় পর্যবেক্ষক সংস্থার নাম ও পরিচয় এবং তাঁদের মনোনীত পর্যবেক্ষকদের নাম ও তালিকা প্রকাশ করতে হবে।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক নিয়োগ:

১৩.১ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ন্যূনপক্ষে ০৭ (সাত) দিন পূর্বে আন্তর্জাতিক সংস্থা, বিদেশী পর্যবেক্ষক সংস্থা এবং বিদেশী রাষ্ট্র কর্তৃক নিয়োজিত পর্যবেক্ষকদের নাম ও তালিকা প্রকাশ করতে হবে।

বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতায় সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণমূলক, গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠনই যথেষ্ট নয়। নির্বাচন কমিশনকে সর্বাত্মক প্রশাসনিক ও লজিস্টিক সহযোগিতা প্রদান এবং প্রতিরক্ষা বাহিনীসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সমর্থন ও সহযোগিতা ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান ও নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করা অসম্ভব।

একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন সরকার ব্যতিরেকে এ সকল সহযোগিতা নিশ্চিত করা এবং সুষ্ঠু অবাধ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব নয়। নির্বাচন কমিশন যাতে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন জাতিকে উপহার দিতে পারে সেই উদ্দেশ্যেই একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের প্রয়োজন। আমরা নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের রূপরেখা ভবিষ্যতে যথাসময়ে জাতির সমীপে উপস্থাপন করব।

 

 

Constituting & Strengthening the Election Commission:

Proposals of Bangladesh Nationalist Party (BNP)

Election is a crucial event in a democracy. The people express their opinion regarding different issues through election. People elect their representatives to manage the affairs of the state through election. This is the reason why election is an indispensable element of democracy.

The persons who are entrusted with this responsibility must be neutral, capable, and strong willed. The contesting candidates, the voters and the outside world watch the National Election of a country speaking either ill or good of it.   

The confidence of the people in the electoral system has got shattered. They have been shocked and dismayed by the controversial and partisan role of Election Commission in the last two National Elections and Local Body Elections. In keeping with greater national interest and democracy, this kind of situation cannot be allowed to continue. People want a positive change. They want institution of a neutral and capable Election Commission that will firmly discharge its responsibilities with fairness and justice. They want a free, fair, credible and participatory election where they can exercise their constitutional right to franchise unhindered, so that, their verdict is not changed through any crafty or unfair means. 

To overcome the current political crisis, it is desirable to arrive at a permanent arrangement for an independent Election Commission to conduct national elections acceptable to all under an election time neutral government. 

The present controversial Bangladesh Election Commission will complete its tenure early February 2017. In order to hold a free, fair and impartial election, there is no alternative to constituting an impartial, honest, brave and efficient Election Commission.

Bangladesh Nationalist Party (BNP), in order to meet the just and constitutional aspirations of the people, hereby offers some recommendations to the nation for constituting and strengthening the new Election Commission, and ensuring neutrality of all election related ministries and institutions during election time:

 

  1. The Election Commission is to be constituted on the basis of ‘consensus’ of all the political parties.

 

  1. Initially the Hon’ble President of Bangladesh will hold separate meetings with Secretary General or General Secretary or representative of all registered political parties of Bangladesh, and or, with representative of all political parties who over different periods had representation in the National Parliament since the liberation of Bangladesh. Since there are at present two major political alliances (Bangladesh Nationalist Party led 20 Party Alliance and Awami League led Grand Alliance) in the country, there can be 1 (one) representative each from the party leading the alliances and 2 (two) others assisting each of them.

 

The President may involve honest, qualified and impartial representatives of the civil society as well.

  • The Election Commission is to be constituted upon ‘consensus’ of all registered political parties of Bangladesh, and or, of all political parties who over different periods had representation in the National Parliament since the liberation of Bangladesh. The President will continue talks on the qualification, disqualification and nomination of the Chief Election Commissioner and the Election Commissioners until ‘consensus’ is reached among all registered political parties of Bangladesh, and or, with all political parties who over different periods had representation in the National Parliament since the liberation of Bangladesh.

 

  • The President’s Office will publish ‘Agreed Meeting Minutes’ and ‘Unanimous Decisions’ taken in the meeting with the President, containing signatures of respective representatives of all registered political parties of Bangladesh, and or, of all political parties who over different periods had representation in the National Parliament since the liberation of Bangladesh.

 

  1. Constitution of Search Committee:

 

The Hon’ble President will constitute a Search Committee on the basis of consensus among all registered political parties of Bangladesh, and or, among all political parties who over different periods had representation in the National Parliament since the liberation of Bangladesh.

 

  • Structure of Search Committee:

 

The President will constitute a Search Committee consisting of 5 (five) honest, impartial, experienced, wise and widely respected persons possessing high moral standard and strong will.

 

Convener of the Search Committee:

  • An active and physically capable retired Chief Justice of Bangladesh (according to order of seniority), who is above any controversy and who did not ever hold nor presently holding any office of profit of the Govt.

 

Member of the Search Committee:

  • One retired Judge of the Appellate Division of the Supreme Court who is above any controversy and who did not ever hold nor presently holding any office of profit of the Govt.
  • An honest and non-partisan retired Secretary to the Government who is above any controversy and who did not ever hold nor presently holding any office of profit of the Govt.
  • An honest and non-partisan renowned educationist, who is a retired Professor of a University, and who is not holding any office of profit of the Govt;

or a widely respected eminent citizen.

 

  • A widely respected honest, non-partisan, efficient, and capable senior woman.

 

 

  1. All registered political parties of Bangladesh, and or, all political parties who had representation in the National Parliament since the liberation of Bangladesh, as per procedure stated in section 2 above, will hold separate meetings with the President and each party will make specific written proposal for the appointment of the members of the Search Committee, and recommend 2 (two) specific names and their details for each post.

 

 

  1. Qualifications of Chief Election Commissioner and Election Commissioners:

 

  • Qualifications of Chief Election Commissioner:

 

The Chief Election Commissioner will be an honest, talented, skilled, brave, wise, impartial, experienced and widely respected person possessing high moral standard and strong will who is above any controversy and non-partisan in every measure. A former head of any constitutional body, or an honest and non-partisan retired Secretary to the Government, who is not holding any office of profit of the Government, or an eminent citizen shall be eligible for appointment as Chief Election Commissioner; provided that a retired Cabinet Secretary and an officer who had at any time worked in the office of the Prime Minister shall not be eligible for appointment as Chief Election Commissioner; and a Secretary to the Government who has not completed 3 (three) years after retirement, or resignation, or dismissal, or has not completed a span of 3 (three) years after completion of contractual appointment, or cancellation thereof, shall not be eligible for appointment as Chief Election Commissioner.

 

  • Qualification of the Election Commissioners:

 

  • Four persons, including a woman, can be appointed as Election Commissioner from among honest, talented, skilled, brave, wise, impartial, experienced and widely respected persons possessing high moral standard and strong will and non-partisan in every yardstick.

 

  • A retired judicial officer not below the rank of a District Judge or equivalent, a retired defense personnel not below the rank of a Brigadier General or equivalent, a retired government official not below the rank of Joint-Secretary or equivalent, a senior advocate of the Supreme Court, an educationist with minimum 5 (five) years of administrative experience (Dean/Provost/Principal), a widely respected eminent citizen can be appointed as Election Commissioner. But an employee of the Republic or statutory government authority or defense personnel, who has not completed 3 (three) years after retirement, or resignation, or dismissal, or has not completed a span of 3 (three) years after completion of contractual appointment, or cancellation thereof, shall not be entitled to be Election Commissioner.

 

  • All registered political parties of Bangladesh, and or, all political parties who had representation in the National Parliament since the liberation of Bangladesh, as per procedure stated in section 2 above, will hold separate meetings with the President and each party will make specific written proposal for the appointment of Chief Election Commissioner and Election Commissioners and recommend 2 (two) specific names and their details for each post (Chief election Commissioner & Election Commissioners) of the Election Commission.

 

 

  1. The President will send to the Search Committee the recommended names for Chief Election Commissioner and Election Commissioners received from different political parties. The Search Committee will choose 2 (two) persons for the post of Chief Election Commissioner and 8 (eight) persons for the post of Election Commissioners from among the names sent by the President. The Search Committee will initially analyze and scrutinize the recommended names and pick up the common names recommended by the political parties for finalizing the names to be sent to the President. In this process, if 2 (two) names for the Chief Election Commissioner and 8 (eight)  names for Election Commissioner are not found to be common, the Search Committee will discuss, if required repeatedly, with all registered political parties, and or, with all political parties who over different periods had representation in the National Parliament since the liberation of Bangladesh. At this point, if any political party intends to submit new names for consideration, the Search Committee will entertain it for the sake of consensus. The Search Committee, in this manner, will finalize the remaining name(s) on the basis of consensus of the political parties. The Search Committee will finally recommend to the President a total of 10 (ten) names, 2 (two) for Chief Election Commissioner and 8 (eight) for Election Commissioners.

 

  1. The President will, as per Constitutional provision, finalize 1 (one) Chief Election Commissioner from the 2 (two) names recommended by the Search Committee, and finalize 4 (four) Election Commissioners from the 8 (eight) names recommended by the Search Committee. The President will arrange to obtain consent of the finally selected persons and make public their resume and wealth information and appoint them. If any of the finally selected person(s) disagree(s) or any inconsistency found, the President will follow the same process and procedure to finalize the appointment(s) from among the remaining person(s) nominated by the Search Committee.

 

If both the persons recommended by the Search Committee for the post of Chief Election Commissioner disagree, the same selection process and procedure as above will be repeated. If the selected persons for the post of Election Commissioner disagree in such a number that there is none left among the Search Committee nominees for consideration, the same selection process and procedure as above will follow.

 

Empowering and strengthening the Election Commission

 

In order to strengthen the Election Commission, the Election Rules and Regulations and the Representation of People Order (RPO) must be amended and rationalized to cater to the needs of the time. In order to achieve this objective, following measures are to be taken:

 

Proposed Amendments to Representation of People Order (RPO):

 

  1. “Defense Services of Bangladesh” must be reinstated as a ‘Law Enforcing Agency’ along with other forces, in Article 2 (XIaa) of “Definition Clause”.

 

 

  1. A new sub clause (e) is to be added after Article 28(4)(d) in the RPO:

(e) “after distribution of empty ballot boxes to the polling booths, place the remaining empty ballot boxes, if any, at a secure place within the sight of the contesting candidates or election agents or polling agents”.

  1. The last portion of Article 28(5) of the RPO, is to be amended in the following manner:

“…… and keep it at the relevant booth within the sight of the concerned Assistant Presiding Officer and election agents or polling agents and use another ballot box in the manner laid down in clause (4).”

 

  1. The word ‘only’ is to be inserted between the words ‘open’ and ‘the used ballot box’ in Article 36 (4)(a):

“……..open only the used ballot box or ballot boxes and count the entire lot of ballot papers taken out therefrom ;”)

 

  1. The following line is to be added after Article 36 (11): “……. And the Presiding Officer shall not leave the Polling Station without implementing article 36 (11)”.

 

 

Strengthening the Election Commission

 

  1. Bangladesh Election Commission must have its own Secretariat:

 

  • According to Article 79 of the Constitution, Bangladesh National Parliament has its own secretariat. Like way, Bangladesh Election Commission must have its own secretariat as well. Bangladesh Election Commission must have financial power.

 

  1. Ensuring neutrality of the Election Commission:

 

  • The newly constituted Election Commission must ensure neutrality of the officials and staff members of its own secretariat and its field level officers. It must ensure neutrality of election officials at all levels i.e. returning officers, assistant returning officers, appellate authority, presiding officers, assistant presiding officers, polling officers, law enforcing officers, registration officer, assistant registration officer, revising authority, and judicial officers engaged in election duty.

 

  • The newly constituted Election Commission will form a committee soonest possible to identify officials and staff members of its own secretariat and field officers who are manifestly partisan to political parties and will immediately withdraw them from their duties and refrain them from any kind of election duty in future.

 

  • The newly constituted Election Commission will identify officers and staff members of the Election Commission secretariat and its field officers who had violated the RPO and other election rules and regulations during the National Elections held in 2008 and 2014 and in subsequent Local Government Elections at different levels and will refrain them from any kind of election duty in future.

 

 

 

 

  1. Identify partisan election officials working on deputation:

 

  • The newly constituted Election Commission will form a committee soonest possible to identify the officers who had worked on deputation at field level i.e. returning officers, assistant returning officers, appellate authority, presiding officers, assistant presiding officers, polling officers, law enforcing officers, registration officer, assistant registration officer, revising authority, and judicial officers engaged in election duty, and who were manifestly partisan to political parties during the National Elections held in 2008 and 2014 and in subsequent Local Government Elections. The Election Commission will refrain them from any kind of election duty in future.

 

  1. On appointment of Returning Officers, Assistant returning Officers and some other election related officials:

 

  • To ensure free, fair and credible election, the Election Commission will arrange to withdraw the Deputy Commissioners (DC) and the Superintendents of Police (SP) working at the field level at the time of announcement of election schedule and arrange to post a new set of Deputy Commissioners (DC) and Superintendents of Police (SP). Any officer working in a district in any capacity for the last 5 (five) years shall not be posted as Deputy Commissioner (DC) and Superintendent of Police (SP) in the same district.

 

  • Similarly, to ensure free, fair and credible election, the Election Commission will arrange to withdraw all Upazilla Nirbahi Officer (UNO) and Officer-in-Charge (OC) of Police Station working at the field level at the time of announcement of election schedule and arrange to post a new set of Upazilla Nirbahi Officers (UNO) and Officers-in-Charge (OC) of Police Station. Any officer who had earlier worked in any capacity in the Upazilla / Police Station shall not be posted as Upazilla Nirbahi Officer (UNO) / Officer-in-Charge (OC) in the same Upazilla / Police Station.

 

  1. Relevant ministries to act upon requirement of the Election Commission during election time:

 

  • Some relevant ministries pertaining to election such as Home, Finance, Information, Public Administration, Local Government, Education, Primary & Mass Education, Foreign Affairs and Health & Family Welfare shall act upon as per requirement of the Election Commission as per Article 126 of the Constitution and Article 5 of the Representation of People Order (RPO), 1972, commencing on and from the announcement of the Election Schedule till the newly elected government takes over.

 

  • During election period (on and from the announcement of the Election Schedule till the newly elected government takes over) transfer and posting of all the field-level election related officials (such as the Divisional Commissioner, Additional Divisional Commissioner, Deputy Commissioner, Additional Deputy Commissioner, Upazilla Nirbahi Officer, and Deputy Inspector General of Police, Additional DIG, Metropolitan Police Commissioner, Additional Police Commissioner, Deputy Police Commissioner, Assistant Police Commissioner, Superintendent of Police, Additional SP, ASP, Police Inspector, Sub-Inspector of police, Asst. Sub-Inspector of Police, RAB Officials of all level, Ansar, BGB and Coast Guard officials and concerned others) shall be under exclusive jurisdiction of the Election Commission.

 

  1. Delimitation of the Constituencies of the National Parliament:

 

  • The newly constituted Election Commission will arrange to hear the complaints/ cases of the political parties regarding delimitation of the constituencies of the National Parliament and take necessary action to rearrange/recast the boundaries of the constituencies as per laws, rules and regulations pertaining to delimitation of the constituencies of the National Parliament.

 

  1. Deployment of the Defense Forces during election time:

 

  • During National Election the Election Commission will arrange to deploy Defense Forces with magisterial power, especially, at the polling centers and other strategic places. This deployment will come into force 7 (seven) days ahead of Election Day till gazette notification of the election results.

 

  1. Updating the voter list and registration of new voters:

 

  • The expatriate Bangladeshis are very eager to be enlisted as voters. At present they cannot enlist themselves as voters. Considering their long time demand and their contribution to our national economy, the expatriate Bangladeshis must be enlisted as voters. In many democratic countries there is scope for the expatriates to be enlisted as voters.

 

  • Every person eligible to be enlisted as voters must be registered as voters in the voter list. Registration as voters in the voter list must be ensured of all the political leaders and workers who are eligible to be voters, but are presently languishing in prison being implicated in false and fabricated cases.

 

  • The voter list containing photographs of the voters which lies with the election officials at the polling station, the same voter list containing photographs of the voters must be provided to the candidates or the election agents on the day of scrutiny of candidature.

 

  • There are complaints that, in many cases, photographs of the voters in the voter list are hazy and obscure. While updating the voter list, these complaints must be taken into cognizance and cross checked, and appropriate action taken to correct it.
  • All the voters enlisted in the voter list must be allowed to cast their votes without any hindrance on the basis of voter list enlistment alone.
  • Polling agent from each and every booth, appointed by the candidate, must be kept during counting of the votes.
  • Counting of votes must begin immediately after vote-casting is over, without any break in-between.

 

  1. Training of Election Commission’s own officers and employees:

 

  • Intensive training must be arranged to increase efficiency of the officers and employees presently working with the Election Commission. This training must include election rules & regulations, voter registration rules & regulations, citizens’ rights, conduct, security, public relation, human resource management, voter training etc.

 

  • The institutional capacity of the Election Training Institute under Bangladesh Election Commission has to be increased e.g. establishment of Regional Training Institute, increase of manpower, enhancement of efficiency and capacity.

 

  • The Election Commission will arrange to impart training to the District and Upazilla level workers / prospective polling agents of the political parties on Election Laws and Rules & Regulations.

 

  • The Election Commission will direct the District and Upazilla administration to extend necessary assistance and cooperation to the political parties in holding training to their election agents and polling agents. The election Commission will take effective measures to ensure necessary security for the training programs arranged by the political parties.

 

  • The Election Commission will conduct wide Voter Education Campaign. Assistance of the political parties, Election Training Institute, social media, mass media and NGOs shall be taken in conducting the Campaign.

 

  1. Vesting of magisterial power with the Election Commission Officials:

 

  • The Election Commission, during election time, will arrange to vest magisterial power with its own officials by a Special Order under Article 89 of Representation of Peoples Order (RPO), 1972.

 

  1. Any violation of election Laws and rules and regulations to be dealt with immediately:

 

  • Any complained regarding the violation of election law, conduct rule, and other election rules and regulations and regarding any other issue relating to election has to be accepted and acknowledged in writing, must be dealt with immediately and remedial measures are to be made public on a daily basis, immediately following the declaration of election schedule till official announcement of the election results.

 

  1. On national & Local level election observers:

 

  • The election observing bodies have to registered with appropriate authorities as per law of the land at least 3 (three) years prior to the declaration of the election schedule.

 

  • Any leader or worker of a political party or any person demonstrating open loyalty to any political party, or any organization or body under his/her control or any person working under that organization shall not be eligible to be enlisted and appointed as election observer.

 

  • The Election Commission shall enlist election observer bodies or election observing persons at least 30 (thirty) days prior to the announcement of election schedule.

 

  • The Election Commission will publish the names and identity of all enlisted national and local election observer bodies and also the names of their nominated observers within 7 (seven) days of announcement of election schedule.

 

 

 

  1. International election observers:

 

  • The Election Commission will publish the names and identity of all enlisted international bodies, foreign observer bodies and observers from foreign countries at least 7 (seven) days prior to the Election Day.

 

Considering the realities obtaining in the present day Bangladesh, mere constituting a neutral Election Commission on consensus basis is not sufficient to hold a free, fair, participatory, acceptable and credible election. A free and fair election cannot be ensured without all-out administrative and logistic support of the Government and complete support and assistance of the law enforcing agencies including the defense forces.

 

 

Without a neutral election time government, co-operation of the key ministries mentioned above cannot be ensured and it is not possible to hold a free, fair and credible election. To enable the Election Commission offer the nation a free, fair and credible election, facilitative role of an election time neutral government is a must. We shall spell out the framework of a neutral election time government before the nation at an appropriate time.

 

 

Khaleda Zia

Chairperson

Bangladesh Nationalist Party (BNP)